হাওরগুলো যেন আল্লাহর অশেষ দান!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২০
হাওরগুলো যেন আল্লাহর অশেষ দান!

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরগুলো যেন প্রকৃতির অশেষ দান। এখানে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে আনন্দের ঢেউ তুলবেই। এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে বন্ধুদের নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম; আমরা যাবো ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রোডে পুলেরঘাট-কালিয়াচাপড়া বাজার থেকে ২৪ কিলোমিটার পূর্বে নিকলীর হাওরে।

নীল আকাশ যেন তার সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে হাওরে। দূরের আকাশকে স্পর্শ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে শান্ত স্নিগ্ধ দ্বীপের মত ভাসমানা গ্রামগুলো। যতদূর চোখ যায় নীল জলরাশির ছোট ছোট ঢেউয়ের ভাঁজে ভেসে উঠে অর্ধ ডোবা সবুজ গাছ-গাছালি।

মাঝে মাঝে রাজ হাঁসের স্বাধীন ছুটে চলা পুলকিত করে হাওরে ঘুরতে আসা সৌন্দর্য প্রেমীদের। ছাতিরচরের অর্ধ-ডুবন্ত করচের বন এবং হাওরের ছোট বড় নৌকা দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখে মনে হবে যেন এক একটি জীবন্ত ছবি।

কিশোরগঞ্জের বড় হাওরগুলো ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলায়। হাওর বেষ্টিত এ জনপদে থৈ থৈ পানি থাকে পাঁচ থেকে ছয় মাস। পানি নেমে যাওয়ার পর সবুজ পালকে ভরে উঠে পুরো হাওর। সারা বছর হাওরের সৌন্দর্য অটুট থাকলেও মূলত বর্ষাকালই ভ্রমণ পিপাসুদের মূল আকর্ষণ।

কিশোরগঞ্জ শহর হতে সিএনজি বা অটোতে যেতে হয় চামড়া বন্দর। চামড়া বন্দর হতে নৌকায় অথবা স্পিডবোটে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম যাওয়া যায়। আমরা প্রথমে ইটনার দিকে আমাদের যাত্রা শুরু করি।

প্রায় এক ঘন্টা ১৫ মিনিট পর ইটনা পৌঁছাই। একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর ইটনার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখতে বেরিয়ে পড়ি। দুপুরের খাবারের পর আবার ইটনা থেকে বের হই মিঠামইন এবং অষ্টগ্রামের হাওর দেখার উদ্দেশে।

হাওরের মধ্য দিয়ে ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম দ্বীপের মত তিন উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে অলওয়েদার সড়ক। দু’পাশে বিস্তৃত নীল জলরাশির মাঝ দিয়ে এই রাস্তা পরিচয় করিয়ে দেয় হাওরের বিশালতার সঙ্গে। সূর্যের আলোতে ঝলমল করা জলরাশি দেখতে দেখতে পর্যটকদের মনে হবে এ যেন সমুদ্র সৈকত।

হাওরের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বেরিয়ে পড়তে হবে রাতে। আমরাও রাতের হাওর উপভোগ করতে নৌকা ভাড়া করি। যখন নৌকা চলতে শুরু করেছে তখন চাঁদ পূর্ব দিকে হাওরের জলে সবে ভাসতে শুরু করেছে। পানির ছোট ছোট ঢেউয়ের নিচে দেখা যাচ্ছে চাঁদের প্রতিবিম্ব। দূরের নৌকা থেকে ভেসে আসছে গান।

নিস্তব্ধ হাওরে নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে আমরা হঠাতই খেয়াল করি, চাঁদ ততক্ষণে মধ্য আকাশে উঠে গেছে।

ভ্রমণের জন্য কিশোরগঞ্জের বেশ কিছু জায়গায় দর্শনার্থীদের ভিড় হয়। এর মধ্যে নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচরের অর্ধ-ডুবন্ত করচের বন, করিমগঞ্জের বালিখলা, মিঠামইন উপজেলার কামালপুরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক। এখানে আরো রয়েছে, বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতি বিজড়িত মন্দির, দিল্লির আখড়া, ঈসা খাঁ’র দূর্গসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা।

মহাখালী থেকে অন্যন্যা, সায়দাবাদ থেকে অন্যন্যা সুপার বাসে কিশোরগঞ্জ আসা যাবে। শুধুমাত্র নিকলী হাওর ভ্রমণের জন্য নামতে হবে কটিয়াদী অথবা পুলেরঘাট বাজার। সেখান থেকে অতি সহজে বাইকে বা ইজিবাইকে নিকলী ভ্রমণ করা যাবে।

ট্রেনে আসতে চাইলে এগারসিন্দুর প্রভাতী বা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস করে আসতে হবে। নিকলী ভ্রমণের জন্য ট্রেনে কিশোরগঞ্জ স্টেশনের পূর্বে গচিহাটা নেমে ইজিবাইকে যাওয়া যাবে।

ইটনা,মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম হাওর ভ্রমণের জন্য আসতে হবে কিশোরগঞ্জ।

হাওরগুলোতে থাকা খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল, রেস্তোরাঁ না থাকলেও মোটামুটি মানের খাবার পাবেন। রাত যাপনের জন্য হাওরের তুলনায় কিশোরগঞ্জ শহরে ভালো মানের হোটেল পাওয়া যাবে। হাওরের পুরো সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে দুই-তিন দিন সময় রাখতে হবেহাতে। আর ভ্রমণে যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সব সময় থাকতে হবে বাড়তি সর্তক।