নারী চা শ্রমিকদেরকে প্রতিমাসে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিতে এগিয়ে এসেছেন নারী নেত্রী মাহমুদা খাঁ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০
নারী চা শ্রমিকদেরকে প্রতিমাসে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিতে এগিয়ে এসেছেন নারী নেত্রী মাহমুদা খাঁ

হবিগঞ্জ ব্যুরোঃ শুধুমাত্র স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার না করার কারণে চা বাগানের নারীরা বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণজনিত রোগে ভোগেন। যদিও নারীদের পিরিয়ডের সময় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু হল স্যানিটারি ন্যাপকিন। কিন্তু স্যানেটারি ন্যাপকিন কেনার ক্ষমতা চা বাগানের নারীদের নেই। তার ওপর রয়েছে সামাজিক সংকোচ ও লজ্জা।

বহুদিন যাবত চা শ্রমিকদের জন্য কাজ করা মাহমুদা খাঁ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। মাহমুদা খাঁ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন হবিগঞ্জ সংসদের সাবেক সভাপতি। সম্প্রতি তিনি শুটকি ব্যবসা শুরু করেছেন। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন ‘কাঁকড়া শুটকি’। ব্যবসার প্রথম আয় থেকে চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগানের ৫০ জন নারীকে স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেন তিনি। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেন চা শ্রমিকদের অন্যতম নেত্রী খাইরুন আক্তার।

এ কাজটি করতে পেরে উচ্ছ¡সিত মাহমুদা খাঁ বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে যখন শ্রমিকদের সাথে থেকে কাজ করেছি তখন প্যাড বা পিরিয়ডের কথা প্রসঙ্গক্রমে আসলেই দেখেছি বাগানের নারীদের এক প্রকার লজ্জাবোধ কজ করছে। এমনকি স্যানিটারি প্যাড নিয়ে তেমন কোন ধারণা নেই হাতেগোনা কয়েকজন ব্যতিত। বাগানের নারী চা শ্রমিক কিংবা মেয়ে তাদের নোংরা এবং জরাজীর্ণ কাপড় ব্যবহার করাই একমাত্র উপায়। প্যাড নিয়ে লজ্জা পাবার কিছু নেই। এটা খুবই সাধারণ একটি জিনিস। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চান বিধায় স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন।’
মাহমুদা খাঁ বলেন, ‘আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি শুটকি থেকে ১০ টাকা চা শ্রমিক নারীদের স্যানিটারি প্যাডের জন্য বরাদ্দ হবে। এখন থেকে প্রতি মাসে প্যাড বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে জনিয়েছেন মাহমুদা খা।

বিজয় বাংলা/এস.সি/২০২০