এ পরিণতি হিংসা আর পরশ্রীকাতরতার!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩০, সেপ্টেম্বর, ২০২০, বুধবার
এ পরিণতি হিংসা আর পরশ্রীকাতরতার!

২০১৭ সালের মার্চ। সাহিত্য কর্মশালায় অথিতি হয়ে আসেন ঢাকার খ্যাতনামা একজন আলেম সাহিত্যিক। প্রোগ্রাম বিরতিতে খোশ আলাপ করছিলাম আমরা তিনজন।
প্রসঙ্গে আস কবি মুহিব খানের। উচ্চারিত সব মন্তব্য এখানে উল্লেখ করছিনা। কিন্তু তিনি যেসব তীর্যক মন্তব্য করেছিলেন, আমি বিস্মিতের পর বিস্মিত হচ্ছিলাম!
: এই আমাদের অগ্রজ!
: এরা একজন সম্ভাবনাময় অনুজের ব্যাপারেও জেলাসিতে ভুগে?

কবি মুহিব খানের কিছু কবিতা, কিছু সঙ্গীত, কিছু কাজ সকল জেলাসির পরেও বহুকাল বেঁচে থাকবে। এতোটুকুও যদি আপনার উপলব্দিতে না আসে, তো আপনি কিসের সাহিত্যিক আর কিসের কী?

“ইয়াকুব নবী বাস করিতেন কেনানে
” আল্লাহ আল্লাহ বলো ভাইরে নবী করো সার”
এই ধরণের পুঁথি আর গজল থেকে কওমী অঙ্গনকে বের করে নিয়ে এসেছেন যারা, তাদের ইতিহাস লেখতে হলে মুহিব খানকে বাদ দিতে পারবে কেবল মাত্র একচোখারাই।

এরও আগে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, বিশেষকরে মতিউর রহমান মল্লিক ভাইয়ের হাত ধরে আধুনিক সঙ্গীতের সাথে পাল্লা দিয়ে সম সাময়িক সূর, লিরিক, কথা, উপমা, উৎপ্রেক্ষার ব্যবহারের সঙ্গীতের প্রচলন শুরু হয়। আপনি জামাত করেন না শুধু এতোটুকু কারণে যদি অাধুনিক ইসলামী কবিতা ও সঙ্গীতের ইতিহাস থেকে সাইমুৃমের নাম, কবি মতিউর রহমান মল্লিকের নাম উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে আপনাকে হিংসুক আর পরশ্রীকাতর ছাড়া আর কী বলবো?

আমাদের মাঝে অনেক বেহিসেবী লোক আছে,
নিজের নাম সাইমুমের কাছ থেকে ধার করে রেখেও এদের ব্যাপারে নাক সিটকায়!

সম্প্রতি মুহিব খান আল কুরআনের কাব্যানুবাদ সম্পন্ন করার পর দেখি এক শ্রেণীর লোক তার এই কাজটাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপন করছে। কে কবে কাব্যানুবাদ করেছিলো, কোন কোন ভাষায় করোছিলো, তারা কোন ফেরকার, কোন মাযহাবের, তাদের ব্যাপারে কে কোন ফাতোয়া দিয়েছিলো, কোন কিতাবে কী লেখা আছে,হেনতেন।
নিজেদের অঙ্গনে একজন ভাই তার মতো করে ভালো কোন কাজ করলে আমরা সমালোচনার পরিবর্তে একটু প্রশংসা করলে উনি হয়তো আগামী দিনে কালোত্তীর্ণ আরো কোন কাজ সম্পাদন করে যেতে পারেন।

কওমী অঙ্গনের আরেকজন ভাই সাহিত্যাঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন, কবি মুসা আল হাফিজ।
কিছু দিন আগে সিলেটের একজন ভাইয়ের স্ট্যাটাসে মুসা আল হাফিজকে সিলেটে বয়কট করা ইত্যাদি লিখলো। আমি বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্তাপন করলাম। পরে উনার সেই স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেললেন। আরো কয়েকজনের সাথে কথা বললাম এ প্রসঙ্গে। সকলেরই অভিযোগ, কবি মুসা আল হাফিজের ব্যক্তিগত আচরণ জঘন্য, হেনতেন।
আমি তাদেরকে বলেছিলাম, কবি মুসা আল হাফিজের সাথে আমি চলাফেরা করিনি। সব জানিও না। কিন্তু উনি যে ভালো লেখে সেটা তো অস্বীকার করা যায়না। ব্যক্তিগত জীবনে অনেকেরই অনেক দূর্বলতা আছে। এমন দূর্বলতা নেই কার? শুধু এতোটুকু কারণে তাকে দূরে ঠেলে দেয়া, বয়কট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমাদের বিরোধীরা এই সুযোগটা নিতে পারে। তখন হীতে বিপরীত হতে পারে।

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের কওমী অঙ্গন একটা বন্ধ্যা অাঙ্গিনা। এখানে সর্বসাকুল্যে কয়জন সৃজনশীল প্রতিভাই বা আছে? আমাদের হুজুরদের আলে আওলাদ তো বছর বছর কম হয়না। উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে আমাদের সাথে কম্পিটিশন করতে পারে এমন কোন সম্প্রদায় তো দেখিনা। বছর বছর হাজারে বিজারে উম্মত তৈরী হয়, মুহিব খান, মুসা আল হাফিজ তো তৈরী হচ্ছেনা! তাহলে এদেরকে নষ্ট করে ফেলার প্রয়াস কেন এতো তীব্রভাবে আমরা প্রত্যক্ষ করছি?

এবার ভিন্ন জগগের দুজনের উদাহরণ দিচ্ছি।

ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে অমিতাভ বচ্চনের একটা আলাদা স্থান রয়েছে। কলকাতা ফিল্মে একটা ছবি করা হয়েছে বচ্চন নাম দিয়ে। হাল যামানার একজন বিখ্যাত অভিনেতা সেখানে অভিনয় করেছেন। নিজের নামে বিখ্যাত হয়েও অমিতাভের ভক্ত পরিচয় দিয়ে সাজানো কাহিনীতে তিনি অভিনয় করেছেন। এতে করে কি সময়ের স্টার এই অভিনেতার মর্যাদা কমেছে এতোটুকুও?

২০১৭ এ শায়েস্তাগন্জের একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিলাম। প্রধান অথিতি ছিলেন শায়েস্তাগন্জ ইসলামী একাডেমির প্রধান। সিলেট বিভাগে বারবার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি। এসেছেন তার ছাত্রের পরিচালিত স্কুলে। এ স্কুল প্রধানের কাজের কী ভূয়োসী প্রশংসা!
নবীন এই স্কুল প্রধান বলছেন, স্যার! এগুলো তো আপনার কাছ থেকেই শেখা! এটা আর এমন কী! তবুও তিনি তার অনুজকে প্রেরণা দিতে এসব বলে যাচ্ছেন।

আমি সেইদিন উপলব্দি করলাম, আমরা যাদের নাম শুনলেই নাক সিটকাই, তারা কোন মন্ত্র বলে এগিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে তাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেশ সেরা প্রতিষ্ঠানে রূপদান করছে!

আমার মনে হয়েছে এর পেছনে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কিছু দূর্বলতা রয়েছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হিংসা, প্ররশ্রীকাতরতা, সংকীর্ণতা, অবমূল্যায়ন, হীনমন্যতা, কঠোরতা, কোন্দল, কলহপ্রিয়তা শেখাচ্ছি ছাত্রদেরে। আর এসবের ফল আজ দেখতে পাচ্ছি সর্বত্র। আপনি গভীরভাবে চোখ রাখুন। হেফাজত, বেফাক, হাইয়্যা, ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সংগঠন সর্বত্র এই সর্বনাশী আত্নকলহ দেখতে পাবেন।

এরপরও আপনি কিছু দেখতে পাচ্ছেননা?

আপনার জন্ম আর বেড়ে উঠা দুটোই হয়েছে ইখতেলাফের দূর্গন্ধময় ডাস্টবিনে!
যে ডাস্টবিনের গায়ে আমি লেখা দেখেছি–
সুজন গুণ খুঁজে,মধু খুঁজে ভ্রমরে,
মক্ষীকা ক্ষত খুঁজে, দোষ খুঁজে বর্ববরে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন