শ্রীলংকা সফর স্থগিত করায় বিসিবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন ডোমিঙ্গোর

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২০
শ্রীলংকা সফর স্থগিত করায় বিসিবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন ডোমিঙ্গোর

শ্রীলংকা সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হতাশার সাথে খুশির মাত্রাও আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর। সিরিজ না হওয়ায় হতাশা ঝড়েছে কোচের কন্ঠে। তবে তার মতে, ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে আটকে থাকা কঠিনই হতো।

কোয়ারেন্টাইন ইস্যুতে কয়েক দিন আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজটি স্থগিত হয়ে যায়। সফরকারী দলের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে অনড় ছিলো শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড। লংকা সফর করলে হোটেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে তো হবেই, সাথে অনুশীলনের সুবিধা পাবে না টাইগাররা। তবে বাংলাদেশ চেয়েছিলো, সাতদিনের কোয়ারেন্টাইন ও অনুশীলনের সুবিধা।

আজ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডোমিঙ্গো বলেন, ‘শ্রীলংকা সফর হচ্ছে না বলে, আমি খুব হতাশ। তবে আমি মনে করি, দলের উপর যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল তাতে বিসিবির না যাবার সিদ্বান্তটি সঠিক ছিলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তুতি ছাড়া ঘরের মধ্যে আটকে সময় নষ্ট করা এবং দশ দিনের মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন হতো। আমি এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন করছি।’

বিসিবির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ডোমিঙ্গো আরো জানান, খেলোয়াড়রা যদি শ্রীলংকায় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতো তবে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তো।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দু’জন খেলোয়াড় পাঁচ-ছয় দিন ধরে আইসোলেশনে আছেন। তারা জানিয়েছেন, মানসিক দিক বিবেচনায় এটি অত্যন্ত কঠিন।’

ডোমিঙ্গো বলেন, ‘শারীরিক দিক ভুলে, আমরা একটি হোটেলের ছোট রুমে ১৪ দিন আটকে থাকবো, এটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে হয়, কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, তবে এটি পুরোপুরিভাবে বোর্ডের সিদ্বান্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিরিজ না খেলতে না পারার হতাশ রয়েছে, তবে খেলোয়াড়রা বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তারা আরো বুঝতে পারছে ১৪ দিনের জন্য একটি ঘরে আটকে থাকলে মানসিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েকজন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হতে পারে, তবে এক বা দু’জনের জন্য এটি কষ্টদায়ক ইস্যু। এই সিদ্ধান্তগুলি নেয়ার সময়, প্রত্যেকের অনুভূতির বিবেচনা করতে হবে এবং বোর্ড সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু শ্রীলংকা সিরিজ স্থগিত হওয়ায়, এ বছর বাংলাদেশের কোন আন্তচর্জাতিক ম্যাচ নেই, এতে ক্রিকেটারদের ঘাটতি থেকে যায়। তবে এটি নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন ডোমিঙ্গো। খেলোয়াড়দের সাথে কিছু সময় কাটাতে পারবেন বলে খুশী তিনি। পাশাপাশি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনুশীলন শুরু করার সিদ্বান্ত, নিজেদের ম্যাচ ও ঘরোয়া আসর খেলোয়াড়দের ক্রিকেটের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুনভাবে ফিরতে আসতে পারবে তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন যাবত আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর প্রায় সাত আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা ভাল একটা সিরিজ খেলেছি।

ডোমিঙ্গো বলেন, ‘বিসিবি কিছু ঘরোয়া লিগ করছে। ডিসেম্বরে খেলার জন্য বাইরের দেশ থেকে দু’একটি আমন্ত্রণ এসেছে। এখনো কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি। আমি মনে করি, সঠিকভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট হওয়া প্রয়োজন। কোচ হিসেবে, আমি প্রথমে ছেলেদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পছন্দ করবো এবং এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাবে। তাই যদি কোন ঘরোয়া ক্রিকেট থাকে, তবে সেটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট।’

একই সাথে বিসিবি আয়োজিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও স্কিল ট্রেনিংএ খুশী ডোমিঙ্গো। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা খুবই ভাগ্যবান, ব্যক্তিগত অনুশীলনের আয়োজন করে বিসিবি দুর্দান্ত কাজ করেছে।

ডোমিঙ্গো জানান, ‘গত তিন-চার মাস ধরে ছেলেরা অনেক বেশি ব্যস্ত। আমরা এখানে প্রায় এক মাস ধরে আছি। তারা যে কাজ করছে, তাতে আমি গর্বিত। তারা ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে। অনেক খেলোয়াড় নেটে ভালো অবস্থায় আছে। বোলাররা নিজেরাই ফিট হয়েছেন। তাসকিনকে অবিশ্বাস্য লাগছে। এটি দারুন।’