ধর্ষণ মহামারি রোধে ইসলামী শরীয়ার কঠিন শাস্তিই একমাত্র সমাধান

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, অক্টোবর, ২০২০, বুধবার
ধর্ষণ মহামারি রোধে ইসলামী শরীয়ার কঠিন শাস্তিই একমাত্র সমাধান

ব্যভিচার আর ধর্ষণ এক নয়।
ব্যভিচার আর ধর্ষণের সংজ্ঞাও এক নয়।
ব্যভিচার আর ধর্ষণের কারণ এক নয়।
ধর্ষণ আর ব্যবিচারের শাস্তিও এক নয়।
আমাদের অনেক স্কলাররাও দেখি ব্যভিচার আর ধর্ষণকে গুলিয়ে ফেলেন।
নারী ও পুরুষের সম্মতিতে যে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক তাকে বলে ব্যভিচার, ইংরেজিতে Fornication, বা Illegal physical relation., আরবীতে যিনা।
অপর দিকে নারী বা পুরুষের অসম্মতিতে বলপূর্বক যে যৌন ক্রিয়া তাকে বাংলায় বলে ধর্ষণ, ইংরেজিতে Rape এবং আরবীতে যিনা বিল জাবার।
ব্যভিচারের জন্য পর্দাহীনতা, ফ্রি মিক্সিং ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন কারণ হলেও ধর্ষণের জন্য এগুলোকে দায়ী করা মানে ধর্ষণের জন্য পক্ষান্তরে নারীকে দায়ী করে ফেলা।
এদের কাছে যখন পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষিতা হয় কোন পোষাকের কারণে?
শিশু ধর্ষিতা হয় কোন পোষাকের অভাবে?
মহুলা মাদরাসায় ধর্ষণ হয় কোন পোষাকের কারণে?
তখন তাদের মুখে কোন সদোত্তর থাকেনা।
একজন বিকৃত মানসিকতার লোক জোর করে, কারো ঘরে ঢুকে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করলো, এখানে নারীর পোষাক কেন দায়ী হবে?
ইসলামী শরীয়ায় ব্যবিভাচারের জন্য অবিবাহিত হলে ছেলে ও মেয়েকে একশ বেত্রাঘাত এবং বিবাহিত হলে পাথর ছুড়ে হত্যা করার বিধান রেখেছে।
কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ধর্ষককে শাস্তি দিতে হবে। কখনো ধর্ষিতাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া যাবেনা।
ধর্ষকের শাস্তি প্রয়োগে একাধিক মত রয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা, শাফেঈ ও আহমদ ইবনে হাম্বাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম-এর মত হলো- ‘ধর্ষণের জন্য ব্যভিচারের শাস্তি প্রযোজ্য হবে।’ অর্থাৎ ধর্ষক অবিবাহিত হলে ১০০ বেত্রাঘাত আর বিবাহিত হলে পাথর মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করা।
ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহির মত- ‘ধর্ষণের অপরাধে ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগের পাশাপাশি ‘মুহারাবা’র শাস্তিও প্রয়োগ করতে হবে।
মুহারাবা কি?‘মুহারাবা’ হলো অস্ত্র দেখিয়ে বা অস্ত্র ছাড়াই ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা কিংবা লুণ্ঠন করা। এক কথায় ‘মুহারাবা’ হলো পৃথিবীতে অনাচার সৃষ্টি, লুণ্ঠন, নিরাপত্তা বিঘ্নিতকরণ, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ইত্যাদি। এ সব অপরাধের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ ঘোষণা করেন-‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে->>
তাদেরকে হত্যা করা হবে
অথবা শূলীতে চড়ানো হবে
অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে (ডান হাত বাম পা/বাম হাত ডান পা) কেটে দেয়া হবে
অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার তথা নির্বাসিত করা হবে।
এটি হল তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৩৩)
এ আয়াতের আলোকে বিচারক ধর্ষণকারীকে ব্যভিচারের শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখিত ৪ ধরনের যে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবে। কেননা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ধর্ষণ হলো আল্লাহ ও তার রাসুলের নিয়ম-নীতি বিরুদ্ধ অপরাধ। আর তা তাদের সঙ্গে যুদ্ধে উপনীত হওয়ার শামিল।
তাছাড়া ধর্ষণের ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করা হয়। ইসলামের বিধান লঙ্ঘনে বল প্রয়োগ করলেও এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
তাই সমাজে যখন ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করে তখন সমাজ থেকে ধর্ষণ সমূলে উৎপাটন করতে (মুহারাবার) মতো ভয়াবহ শাস্তি প্রয়োগ করাও জরুরি।
আর যদি ধর্ষণ কারণে হত্যাজনিত অপরাধ সংঘটিত হয় কিংবা ধর্ষণের শিকার কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তবে ঘাতকের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।
ইসলামের প্রথম যুগের জোরপূর্বক ব্যভিচার তথা ধর্ষণের কিছু বিচারের বর্ণনা->> হজরত ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধর্ষককে হদের (ব্যভিচারের) শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ)(কুরআন-হাদিসে বহু অপরাধের ওপর শাস্তির বিধান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কুরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত তাকে হদ বলে।)
>> হজরত নাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, ‘(হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে) এক ব্যক্তি এক কুমারী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। লোকজন ধর্ষণকারীকে হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত করলে সে (ধর্ষক) ব্যভিচারের কথা অকপটে স্বীকার করে। লোকটি ছিল অবিবাহিত। তাই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশ মোতাবেক লোকটিকে বেত্রাঘাত করা হলো। এরপর তাকে মদিনা থেকে ফাদাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।’ (মুয়াত্তা মালিক)
>> হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে সরকারি মালিকানাধীন (কাজে নিযুক্ত) এক গোলাম এক দাসির সঙ্গে জবরদস্তি করে ব্যভিচার (ধর্ষণ) করে। এতে ওই দাসির কুমারিত্ব নষ্ট হয়ে যায়। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ওই গোলামকে কষাঘাত (বেত্রাঘাত) করেন এবং নির্বাসন দেন। কিন্তু দাসিকে কোনো শাস্তি প্রদান করেননি।’ (বুখারি)
লগু দণ্ড দিয়ে আরো একশোটা ধর্ষণের সুযোগ করে দেয়া উচিৎ নাকি কঠিন শাস্তি দিয়ে এই অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনা উচিৎ?
পশ্চিমা এবং এদের গোলামেরা শরীয়াহ আইনের কথা শুনলেই তাদের এলার্জি শুরু হয়। নয়তো বুঝতে পারতো এই মহামারি রোধে ইসলামী শরীয়ার কঠিন শাস্তিই একমাত্র সমাধান।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন