ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ; আইন সংশোধনের উদ্যোগ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২০
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ; আইন সংশোধনের উদ্যোগ

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আগামী ১২ই অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব তোলা হবে। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রস্তাব করা হচ্ছে। বর্তমান আইনের সাজায় পরিবর্তন এনে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হবে।
সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও নোয়াখালীতে এক নারীকে নিপীড়ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। দাবি উঠে ধর্ষণের পৃষ্ঠা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের। এই দাবিতে প্রতিদিনই যখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত তখন আইন সংশোধনের খবর এলো।
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের শোকসভায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সারা দেশে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত বিচারের বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে এতো এতো নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে যে, সরকার পর্যন্ত বিব্রত। এ ঘটনায় সরকারের মন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন আমরা ক্ষমতায়, আমরা এটার দায় এড়াতে পারি না। আমরা জুডিশিয়ারিতে আছি, আমরাও চাই উপযুক্ত বিচার হোক।
বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এর পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই অর্থ দণ্ডের বিধান আছে। এ আইনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সাত দিন থেকে এক মাস এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য একশত আশি দিন (ছয় মাস) সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও বাস্তবে ওই সময়ের মধ্যে রায় দেয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের এক একটি ঘটনা কিছু দিন পর পর সারা দেশকে নাড়া দিয়ে গেলেও এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির নজির খুবই কম। ধর্ষণের বেশির ভাগ মামলা বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ধামাচাপা পড়ে যায়। তাছাড়া ঠিকমতো ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়া, সামাজিক জড়তা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এসব কারণে ধর্ষণের অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য আইন সংশোধনের দাবি অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন সংগঠন।
চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং সুপ্রিম কোর্টের নারী আইনজীবীদের সুরক্ষায় যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ইশরাত হাসান মানবজমিনকে বলেন, বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ত্রুটিপূর্ণ আইন দিয়ে চলছিল নারী নির্যাতন, ধর্ষণের বিচারকার্যক্রম। ওই আইনে ধর্ষণের পর ভিকটিমের মৃত্যু না হলে আসামিকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া যেতো না। ফলে আইনের ফাঁক ফোকরে অনেক ধর্ষকই পার পেয়ে যেতো। কিন্তু সরকার যদি আইনটি সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ড করে এবং বিচারের মাধ্যমে দু’-একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলেই নারী নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে।