স্মৃতির পাপিয়া!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২০
স্মৃতির পাপিয়া!

৩১৩ টা খুন করার পর নিজের বিশ্রামাগারে বসে আছেন দিগ্বিজয়ী ‘চেঙ্গিস খাঁ’। পরবর্তী কর্মকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। হঠাৎ তার সামনে বসা সঙ্গীকে প্রশ্ন করলেন, আচ্চা বলতো, কোন প্রাণীকে আমরা তার জন্মের আগেও খাই, মৃত্যুর পরেও খাই?’
অনেক ভেবে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তার সঙ্গী।
অত:পর খুব নির্মোহ কন্ঠে ‘চেঙ্গিস খাঁ’ নিজের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন।
উত্তর ছিল, মুরগী।
কারন, মুরগী আমরা জবাই করে মেরে খাই, আবার তার জন্মের আগে ডিম হিসেবেও খাই।
আপনারা হয়তো ভাবছেন, তেলাপোকা, ব্যাং, হাগাডালু, থানকুনির পাতার পর এবার কি তাহলে ডিম নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছি নাকি!
আসলে মোটেই না! ডিম আমার অত্যাধিক প্রিয় একটি খাবার। তাছাড়া, গেল ১০ তারিখ ছিল বিশ্ব ডিম দিবস!
বিস্মিত হয়েছি এই ভেবে, ‘যে আমি একসময় একদিনে চার/পাঁচটা ডিম খেয়েছি, আজ তিন চারদিন হয়েগেল একটাও ডিম খাইনি!’
শৈশব কৈশোরে মা আমাকে এতো ডিম খাইয়েছিলেন যে তখন মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে বুঝি আমার জন্ম হয়েছে ডিম খাওয়ার জন্য!
ভাজি, তরকারি, ফুল সিদ্ধ, হাফ সিদ্ধ কতভাবে যে এই ডিমকে খেয়েছি! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার তাঁর কোনো এক রূপসী প্রেয়সীকে দেখে যেভাবে বলেছিলেন, ‘তোমারে দেখিয়াছিনু শত রূপে শতবার!’
এই ডিমকে উদ্দেশ্যে করে অনেকবারই আমারও মনে হয়েছে মুখফোটে বলি, ‘তোমাকে খেয়েছিনু কত রূপে কত বার!
তো অনেকভাবে ডিমকে রান্না করে খাওয়ার পর, একবার এক অভিনব কায়দায় ডিম খাওয়ার রেসিপি আমার মস্তিষ্কে উদিত হল। খানিকটা কাঁচা আঠালো মাটি দিয়ে ডিমকে আবৃত করে উনুনের আগুনে পুড়ে সিদ্ধ করে খাওয়া। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক একটা ডিমকে সেরকমই আঠালো মাটি দিয়ে আবৃত করে উনুনে রেখে দিয়েছিলাম। তখন আমার বড় বোন যে মায়ের আসনে রাধুনির দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছে। কিন্তু তাকে বলতে ভুলে গেছি যে আমি পোড়ানোর জন্য উনুনে একটা ডিম রেখেছি। যেখানে ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে একটা ডিম উনুনে পুড়ে সিদ্ধ হয়ে যায়, সেখানে প্রায় ঘন্টা খানেক হয়ে গেছে ডিমকে আর উনুন থেকে তোলা হয়নি। সেদিন ছিল শুক্রবার। সবে মাত্র বাবা-ভাইয়েরা জুম্মার নামাজ পড়ে ঘরে এসেছেন। ঠিক তখনই রীতিমতো ককটেল বিস্ফোরণের মতো বিকট এক শব্দে উনুনের আগুনে পুড়তে থাকা ডিমটি ফুটে যায়! আগ্নেয়গিরির উদগিরিত লাভার মতো ডিমের কুসুম ও সাদা অংশগুলো উনুনের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। খানিকটা আমার রাধুনি বোনের হাতে পায়ে লেগে তার হাত পা কিছুটা ঝলসে গেল। এ ঘটনায় পরিবারের উপস্থিত সকলে বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়লেন। বাবা আমাকে ধরে থাপড়ানো জন্য আমার বিরুদ্ধে রীতিমতো হুলিয়া জারি করলেন। আমি উসাইন বোল্টের মতো এক দৌড়ে বাড়ির চৌসীমানা পেরিয়ে নিরাপদ দুরত্বে চলে গেলাম। ভয়ে ভয়ে সন্ধ্যার দিকে যখন বাড়ি ফিরলাম, তখন অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মায়ের প্রশ্রয়ে বাবার হাত থেকে রেহাই পেলাম!
সেদিনের পর থেকে আর এমন অদ্ভুত উপায়ে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ার ইচ্ছা একবারও মাথায় জাগেনি।
সেই ঘটনার আঠারো বছর পর, আজ খুব করে স্মৃতির মানসপটে সেদিনের কথা মনে পড়েছে। আজ বাবা বেঁচে নেই। মাও গত হয়েছেন বছর তিন মাস হলো। আমরা সবাই সবার মতো করে আছি, মন্দ না! কেবল আমার সে বোনটি তেমন ভালো না! একটা অপ্রত্যাশিত বেমু দিন দশেক থেকে থাকে আড়ষ্ট করে রেখেছে!
আশাকরি, খুব শীঘ্রই সে সুস্থ হয়ে উঠবে। তারপর, একটা ডিম সিদ্ধ করে দিয়ে বলবে, এই নে, এটা খা!
মহান আল্লাহ পাকের দয়ায় তেমনটিই হোক।
.
.
পাদটীকা:
১. ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার। সুস্বাস্থ্য গঠন ও মেধার বিকাশে প্রত্যেকেরই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। একজন আমেরিকান বছরে ২৫০ টির মতো ডিম খান। সে তুলনায় একজন বাঙালী খুবই কম খেতে পারেন। একজন বাঙালী গড়ে বছরে ৫০-৬০ ডিম খান!
২. আজকাল আমার ডিম কম খাওয়ার কারণ আমার মাত্রাধিক ডায়াস্টোলিক চাপ! অধিক খেলে বিপদ, না খেলে ক্ষতি নেই। তাই কম খাই।