বাইতুল মোকাররমে আজ ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে কিছু কথা: আশরাফ মাহদী

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২০
বাইতুল মোকাররমে আজ ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ে কিছু কথা: আশরাফ মাহদী

আজ বাদ জুমা একই সময়ে দুটি ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। সমমনা ছয়টি ইসলামী দল গণ মিছিলের প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছিল। একই স্থানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাক দিয়েছিল।

তবে কেউ কারো প্রতিপক্ষ ছিল না। উভয় দল একই দাবীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। এবং দুটি প্রোগ্রামই যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে নিজেরাই বৈঠক করে সমঝোতায় পৌছেছিল।

মতিঝিল জোনের ডিসির কার্যালয়ে উভয় প্রোগ্রামের নেতৃবৃন্দ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, প্রথমে সমমনা ছয় দলের সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী বাইতুল মোকাররম থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। এরপরই তারা মিছিল বের করে সবাইকে নিয়ে বিজয় নগরে চলে আসবেন। বাকি সমাবেশ সেখানেই শেষ হবে। সমমনা ছয় দল বাইতুল মোকাররম থেকে চলে যাওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন সেখানে সমাবেশ করবে।

কিন্তু আজ জুমা শেষ হতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ইসলামী আন্দোলনের ভাইয়েরা জুমার সালাম ফেরানের সাথে সাথেই তাকবীর দিয়ে উত্তর গেইটের মূল জায়গায় তাদের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।

হাইকমান্ড থেকে ব্যানারধারীদের এমন কোন নির্দেশনা ছিল বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাইনা। এটাকে আমরা কিছু অতি উৎসাহী উশৃংখল কর্মীদের আচরণই মনে করতে চাই। যাদের কারণে আগেও ইসলামী আন্দোলনের সাথে অন্যান্য ইসলামী দলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী দলগুলোর মাঝে আজ যখন পারস্পারিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের পরিবেশ তৈরী হচ্ছে তখন কিছু ভাই হয়তো না বুঝেই তাদের হিংসার আগুণে সম্ভাবনাটুকু জালিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

তাদের এই উশৃংখল আচরণের ফলে সমমনা ইসলামী দলের প্রোগ্রামে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। যা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবে সমমনা ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা তাদের সাথে কোন প্রকার ধাক্কাধাক্কি না করে সেখান থেকে পশ্চিম দিকে সরে আসে। উদারতার এই আচরণ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। এতে রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও ফুটে উঠেছে। ইসলামী দলগুলোর জন্য এ আচরণ অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। অত:পর সেখানে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর অতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পরই মিছিল নিয়ে বিজয়নগর চলে যায় এবং সেখানে সমাবেশ করে।

মীমাংসিত একটি সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার ফলে আজ যদি সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যেতো তাহলে এটা আমাদের জন্য হত চরম লজ্জার। আগামীতে এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন ও সর্তক থাকতে হবে। ছাড় দেয়ার মানসিকতা লালন করতে হবে। আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ না এটা অবুঝ ভাইদের বুঝাতে হবে। না বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের হাইকমান্ড থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উদারতার মানসিকতা শুধু বক্তব্যে নয়, আমাদের আচরণেও প্রকাশ পেতে হবে।