বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা ধর্ষণ ব্যভিচার বন্ধে হাজার হাজার মুসল্লি রাজপথে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২০
বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা ধর্ষণ ব্যভিচার বন্ধে হাজার হাজার মুসল্লি রাজপথে

বিজয়বাংলা রিপোর্টার।

ধর্ষণ-যিনা ও ব্যভিচার বন্ধ, পুলিশ হেফাজতে যুবক রায়হানের মৃত্যু ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইট ও কাকরাইলে দু’টি ইসলামী দলের আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে হাজার হাজার মুসল্লি বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সমাবেশে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সিলেটে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, ধর্ষণ-নারী নির্যাতন বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শুধু ধর্ষণের মৃত্যুদন্ড নয়, মৃত্যুদন্ড আইন যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে। যিনা-ব্যভিচার প্রতিরোধেও আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন। যিনা-ব্যভিচার, পরকিয়ার প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবিতে আগামী ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকায় বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সমাবেশগুলোতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে ধর্ষণের শাস্তির আইন প্রচলিত রয়েছে। কিন্ত ধর্ষণ বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশেও ধর্ষণ যিনা-ব্যভিচার বন্ধ করতে ইসলামী আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বাদ জুমা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সমমনা ইসলামী দলসমূহ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বের করে।
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগরী : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, দেশে আইন থাকলেও আইনের বাস্তবায়ন নেই। তাই শুধু আইন পাস নয়, ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান কার্যকর করে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু ধর্ষণের মৃত্যুদন্ড নয়, যিনা-ব্যভিচার রোধেও আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন। ধর্ষণের মৃত্যুদন্ড আইনের যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশের নারী নির্যাতন আইনে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশের জুলুম নির্যাতনে সিলেটে যুবকের মৃত্যু বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। এই যদি হয় প্রশাসনের অবস্থা তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তিনি বলেন, ধর্ষকমুক্ত বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ধর্ষণের আইন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে, কিন্তু ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, কী কারণে দেশে ধর্ষণ বাড়ছে তা উদঘাটন করতে হবে। দেশে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অশ্লীল সিনেমা, হিন্দি ফিল্ম চালু রেখে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। নারীদের অর্ধনগ্ন পোশাকের কারণেও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। বাঘের মুখে ঠেলে দিয়ে হিং¯্র থাবা থেকে বাঁচা যাবে না।

সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন-ধর্ষণসহ নারীর প্রতি বর্বরতা এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি, সিলেটে পুলিশ হেফাজতে যুবক রায়হানের মৃত্যু ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশ ও গণমিছিল পূর্ব জমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ধর্ষণের এ আইন অপপ্রয়োগের বলি হয়ে নিরীহ মানুষ যেন মৃত্যুমুখে পতিত না হয়। তিনি যিনা-ব্যভিচার, পরকিয়ার প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবিতে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকায় বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেএম আতিকুর রহমান, ছাত্রনেতা এম. হাছিবুল ইসলাম, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সেক্রেটারী আলহাজ্ব শাহাদাত হোসাইন।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, যিনা-ব্যভিচার, অবৈধ সম্পর্ক, পরোকিয়ার ব্যাপারে আইন কী হবে? দেশের শীর্ষ ব্যক্তি যখন বলেন, প্রেম করবেন একজনের সাথে করবেন’ এধরণের বক্তব্য ধর্ষণকে উস্কে দিচ্ছে। পর্দার বিধান থাকলে ধর্ষণ অনেকাংশে কমে যাবে। ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে মানুষ বিপথগামী হয়। শরীয়া আইনের মাধ্যমে ধর্ষণের শাস্তি কার্যকর করতে হবে। তিনি মাগুরায় ইসলামী আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে জেলা ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জন আহত করায় তীব্র নিন্দা জানান এবং ভোলার ফরাশগঞ্জ ইউনিয়নের হাতপাখার প্রার্থীর ওপর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হামলা প্রমাণ করে সরকার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত দেশ সম্ভব নয়।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভোটারবিহীন সরকার ছলেবলে কলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। কিন্তু সরকারের অপকর্মের ফলে দেশের সাধারণ জনগণ ফুসে উঠছে। জনগণকে শান্ত করতে সরকার তড়িগড়ি ধর্ষণের আইন পাস করছে। সরকার সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনসহ ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। গুন্ডাবাহিনীদের থেকে প্রশাসনকে গুটিয়ে নিতে হবে। সরকার দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতন-ধর্ষণ, হত্যা, গুম, চুরি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতিতে সাধারণ নাগরিকরা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের বাক স্বাধীনতা হরণ করেছে। প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। ফলে সর্বত্র ধর্ষণ আর ধর্ষণ। আর এর সাথে জড়িত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগসহ সরকারদলীয় লোকজান। নারীর শ্লীলতাহানী, নারীর উপর নির্যাতন এটা এখন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নিয়মিত অপকর্মে পরিণত হয়েছে। সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের ধর্ষণ, গুম, খুন ও চাঁদাবাজি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে শুধু তাই নয় অর্থনীতি আজ ধংসের মুখে। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ট্রাক্স বৃদ্ধি করে জনগণকে শোষণ করা হচ্ছে।
মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, সিলেটে পুলিশের হাতে যুব খুন ও গাজীপুরে পুলিশের পোশাক পরে ধর্ষণ করে রাষ্ট্রের পোশাককে কলঙ্কিত করেছে। এদের প্রকাশ্যে বিচার হতে হবে। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে। এ আগুনে দ্বগ্ধ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিকে অভিশাপ থেকে বাঁচাতে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

পরে একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকারর মসজিদ থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইট-এ্যাঙ্গেলে গিয়ে মুনাজাতের মাধ্যমে গণমিছিলের সমাপ্তি হয়।
সমমনা ইসলামী দলসমূহ : এদিকে, বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদ ও তা’ বন্ধে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমমনা ইসলামী দলসমূহের উদ্যোগে গণমিছিল বিশাল গণমিছল বের করা হয়। গণমিছিলটি বিজয়নগর রাস্তার ওপর পুলিশ গতিরোধ করে। সেখানে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন করলেই হবে না আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। যিনা, ব্যভিচার, ধর্ষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে। দেশে একদিকে করোনাভাইরাসের আক্রমণ অন্যদিকে মা বোনদের ইজ্জত আব্রু লুণ্ঠিত হচ্ছে। হায়েনার মতো নারীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে দুর্বৃত্তরা। হত্যা নির্যাতন বাড়ছে। ধর্ষণের উৎস পশ্চিমা নগ্নতা, বেহায়াপনা বন্ধ না হলে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। তিনি পশ্চিমা সংষ্কৃতির কারণে সমাজ থেকে লজ্জা, শরম উঠে যাচ্ছে। অপসংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। আমাদের শিক্ষা নীতি ও পাঠ্য সূচিকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সাজাতে হবে।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মোহাম্মদ ঈশা সাহেদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসালাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানাা জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুসলিম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ,

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা ফয়সল আহমদ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেনে মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মহাসচিব ড. মোস্তফা তারেকুল হাসান, খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসিচব মাওলানা ফিরোজ আশরাফী।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মোহাম্মদ ঈশা সাহেদী বলেন, সারাদেশে যখন যিনা-ব্যভিচারের উৎসব চলছিল সরকার তখন নীরব ছিল। কিন্তু সারাদেশে মানুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল তখন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডরে আইন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে যিনা-ব্যভিচার সম্পর্কে কোনো কথা বলা হয়নি। যদিও কোরআনে যিনা-ব্যভিচারের কঠিন শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের আইনে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। যিনা-ব্যভিচার, ধর্ষণ বন্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, সমমনা দলসমূহের আজকের গণমিছিল প্রমাণ করে ধর্ষণ ও যিনা-ব্যভিচার প্রতিরোধে সমমনা ইসলামী দলসমূহের ৬ দফা দাবি সরকারকে মানতে হবে। সমমনা দল ঘোষিত দফাগুলো হচ্ছে, যিনা, ব্যভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধে জনসম্মুখে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রাপ্তি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নারীর অশ্লীল উপস্থাপনা ও পণ্য হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং নারীর মর্যাদা এবং অধিকার সংরক্ষণে কোরআন-হাদীসের শিক্ষাসমূহ জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, বৈশি^ক মহামারি করোনভাইরাসের মতো সারাদেশে ধর্ষণের মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্ষণ বন্ধে শুধু মৃত্যুদন্ডের আইন করলেই হবে না, তার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে দিতে হবে। ধর্ষণের উৎসগুলো বন্ধ করেতে হবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: বিরামহীনভাবে চলা ধর্ষণের ঘটনা প্রবাহ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং বিশেষত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল সদস্যের দ্বারা মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে দেশে আজ এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার গতকাল শুক্রবার পুরানা পল্টনস্থ পার্টির ঢাকা মহানগর কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সভায় পার্টির মহাসচিব আরো বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন করলেই লাভ হবে না; বরং অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে দমন করতে হলে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত বিধান ও কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী বিচারকার্য সুনিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মহানগর আমীর ও কেন্দ্রীয় সংগঠন সচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আবু তাহের খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর নায়েবে আমির মুফতি দিনে আলম হারুনী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফরহাদ আলম, মাওলানা মাতলুবুর রহমান, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান ও মাওলানা মুফতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

বিজয়বাংলা/প্রতিনিধি/হা:/20/10/17