মানুষ ফেরেশতা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২০
মানুষ ফেরেশতা

আতাউল কারীম মাকসুদ:: বয়স ৯৩ বছর। একনাগাড়ে ৫ বছর হজরত শায়খুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানি রাহ.-এর চেহারা বরাবর বসে সহিহ বুখারির পাঠ গ্রহণ করেছেন। শেষ ৩বছর ছিলেন হজরত মাদানি রাহ.-এর পারিবারিক খাদেম। প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতেন মাদানি পরিবারে। মাদানি পরিবারের বাজার করে দিতেন। হজরত মাদানি রাহ. ইচ্ছে করেছিলেন, নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাঁকে হিন্দুস্তানে রেখে দিবেন। কিন্তু প্রিয় মাতা-পিতার সাথে সাক্ষাতে দেশে আসেন। ভিসাজনিত জঠিলতায় আর যেতে পারেন নি দেওবন্দে। সরকারি কর্মকর্তারা ১০টাকা সুদ চেয়ে বসেন। গত শতাব্দির ৫০এর দশক তখন। কিন্তু সুদ দিয়ে প্রিয় শায়খের খেদমতে হাজির হন নি।
থেকে যান গ্রামীন বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রায় ৭০বছর যাবত ইলম বিতরণ করছেন। কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার রামপুর মাদরাসা, কুমিল্লা রানীর বাজার মাদারাসা, সর্বশেষ মুজাফফারুল উলুম মাদরাসায় খেদমতে হাদিসের মাধ্যমে অসখ্য ছাত্রের ইলমি পিপাসা নিবারণ করছেন।
গত সন্ধায় হাজির হই হজরতের খেদমতে। অবিভূত হয়ে পড়ি তাঁর ব্যক্তিত্বে। ফিরে আসার তাড়া থাকাসত্ত্বেও রাতে থেকে যাই। দায়িত্বের বোঝা মাথার উপর, নইলে কয়েকদিন থেকে যেতাম। সুবহানাল্লাহ, এতটা নুরে ধোয়া চেহারা, পুরো অবয়বটা নুরস্নাত যে, তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে। চেহারা দেখলে মনে হয়, দুনিয়ার লোভÑলালসা কখনো অন্তরের আশে-পাশেও আসে নি। আমার দিল বলছিলো, কোনো ফেরেশতার সাক্ষাৎ পেয়েছি।
শায়খুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহর প্রিয় ছাত্র, শায়খুল হাদিস কুতবে জামান আল্লামা শাহ আবদুল লতিফ দা.বা.৷
থেমে থেমে কেঁদে উঠেন, কেঁদে কেঁদে হন সারা৷ একটু পর আবার মুচকি হাসি দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার বাসা কোথায়?
একটু পর পর দুহাত তুলে মুনাজাত করেন৷ আল্লাহ তাআলার সাথে আপনমনে কথা বলেন৷ আল্লাহ তাআলার সাথে এভাবে কথা বলা যায়; ভাবতে পারি নি৷ মুনাজাত শেষে করেই আনমনে হয়ে যান, মনে হয় তিনি অন্যজগতের বাসিন্দা। গভীরভাবে কী যেন ভাবছেন, পরখ করছেন অন্যকিছু। ঠিক তখনই দুচোখ বেয়ে অশ্রুঝরতে থাকে অবিরত৷
কথা বলেন সহজ-সরল ভাষায়। কিন্তু বেশ কিছু কথা আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়; তরজমা-মাফহুম কিছুই বুঝে আসে নি আমার। চোখ তুলে যখন তাকান, ভয় ধরে যায় তখন। কাঁচুমাচু হয়ে যেতাম আমি। মুচকি হাসি দিয়ে যখন কথা বলেন, মনে হয় আকাশের তারকারাজি খেলা করছে তার মুবারক চেহারায়।
আমাকে যারা চিনেন, হয়ত জানেন আমি কত বেশী কথা বলি!, কিন্তু ভাই বিশ্বাস করেন, হজরতের সামনে কথা বলতে রীতিমত ঘেমে যেতাম।
কথা বলেন খুব কম। কিন্তু গলার আওয়াজ এত সুন্দর ও আকর্ষণীয়, শুধু কথা শুনতেই মন চায়। আমি মুখিয়ে থাকতাম, কখন কিছু বলবেন। কিন্তু তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আবার আনমনা হয়ে যান।
সন্তানদের ভাষ্য, রাত ১২টার পর সাধারণত ঘুমান না তিনি। কখনো আরবিতে কথা বলেন, কখনো উর্দুতে, কখনো ফারসিতে। মাঝেমধ্যে শুনা যায়, সজোরে ধমক দিচ্ছেন; সাথে -সাথে আবার চুপ হয়ে যান। রেগে যান, ঘর থেকে বের করে দিতে বলেন।
কথাগুলো হয়ত; কিছু বন্ধুদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু সহজ জবাব বলে দেই। হজরত এখনো বা-হায়াত আছেন। একদিন গিয়ে দেখা করে আসেন। কোনো দলিল-প্রমাণ লাগবে না, সাক্ষাতে দেখা করে আসুন, ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা নিভু-নিভু এই প্রদীপকে সুস্থতার সহিত দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন।
যাতায়াত : কুমল্লিার চান্দিনা নেমে সি এন জি দিয়ে ‘পুনরা’ বাজার, সেখান থেকে রিক্রায় মাশিকারা সরকার বাড়ী।