“ক্ষমা করে দিও তোমরা আমায়, ভুল করে থাকি যদি কোন দিন”

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২০
“ক্ষমা করে দিও তোমরা আমায়, ভুল করে থাকি যদি কোন দিন”

বসে আছি মাদরাসার ছাদে। পেছনে বিশাল জলাধার। তারও পেছনে সুউচ্চ দালানকোটা। চিরচেনা ঢাকার যান্ত্রিক শহর। এতোটা খোলামেলা জায়গা নাগরিক জীবনে খুঁজে ফেরা এক অবাস্তব কল্পনার নাম। প্রাকৃতিক এই ভার্জিন পরিবেশের কারণে দেখা মিলে কিছু পাখপাখালিরও। ছাদের একপাশে রয়েছে অনেকগুলো কবুতরের আবাসন।

অবসরে, মনখারাপ করা সন্ধায়, অবসাদে, কখনও রাত নীশিতে মায়াবী চাঁদ তার অকৃপন জ্যোৎস্না বিলালে আমি এখানটায় বসি। চেষ্টা করি নিজেকে আবিস্কারের।

পেছনে ফেলে আসা পথপরিক্রমায় পায়ের ছাপ খুঁজে খু্ঁজে দেখি। হিসাব মিলাই সংক্ষিপ্ত জীবনের।

জীবনে এতো এতো সুখৈশ্বর্য পেয়েছি কখনও, মনে হতো তা ফুরানোর আগে মরে যাওয়াও সুখের। কষ্ট আর নিগ্রহও পেয়েছি অপ্রতুল। দমবন্ধ হয়ে আসা এসব অতীত আমাকে শুধু বিপর্যস্তই করেনি, অনেক ক্ষেত্রে মানসিক শক্তিও যোগায়।

কী হতে চেয়েছিলাম, কী হলাম, ব্যর্থতাগুলো না থাকলে কী হতে পারতাম এসব জমাখরচের হিসাবের স্থান আপাতত এই ছাদের কর্নার।

এখন আমার হিসাব মিলানের পালা। পরপারে পাড়ি দেয়ার দিনক্ষণ গোনার মোক্ষম সময়। অনেক অনেক মানুষের হৃদয়নিংড়ানো ভালোবাসা আবার আরো অনেকের ঘৃণা, সঞ্চিত জীবনের ঢালী খুলে কখনও তীব্রভাবে অনুভব করি, যাদেরকে কষ্ট দিয়েছি তাদেরকে খুঁজে খুঁজে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আমার মাঝে সক্রিয় আছে এক স্মৃতিকাতর সত্ত্বা। জীবনের প্রত্যুষবেলায়ও যাদের সাথে চলাফেরা করেছি এখনও তাদেরকে স্পষ্ট মনে করতে পারি।

আমি জানি, এটা অন্তত দূরহ হবে পেছন ফিরে আসা মানুষগুলোকে খুঁজে নেয়া। তাদের মুখেমুখি হয়ে Sorry বলে হাত চেপে ধরা। তবু যতোদূর সম্ভব চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

রাওয়াহা, মুরসালিনসহ কয়েকটি ছাত্র আছে। চমৎকার কণ্ঠ ওদের। মন ভীষন্ন হলে এদেরকে একটি সঙ্গীত গেয়ে শুনাতে বলি। এসব ফুটফুটে শিশুগুলোর মাঝে আমার ফেলে আসা দূরন্ত শৈশব খুঁজার প্রয়াস পাই।

আমার মন বলছে, সময় অনেক কম। দ্রুত কিছু করো। যা করার চোখের পলকে সাঙ্গ করে ফেলো।
এই তাগিদ নিয়েই সময়গুলো পার করছি।
দোয়া পড়ছি মনে মনে, হাসবুনাল্লাহু নি’মাল ওয়াকীল। নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাছীর