হেফাজতে ইসলাম ও সদ্য প্রয়াত শায়খে বরুনী রহঃ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২০
হেফাজতে ইসলাম ও সদ্য প্রয়াত শায়খে বরুনী রহঃ

মৌলভীবাজারের একটি সুনামধন্য একাডেমীতে শিক্ষকতায় ঢুকেছিলাম নাম মাত্র সম্মানিতে। এটা ছিলো জীবনের প্রথম চাকুরী। এতে যে পরিমাণ সম্মানি পেতাম তার পরিমাণ উল্লেখ করে লজ্জা পেতে চাচ্ছিনা নতুন করে। তবে এতোটুকু বলা যায় এতে কোনভাবেই সম্মান রক্ষা হতোনা। দুয়েকটা টিউশনী ছিলো। তাদিয়েই টেনেটুনে সময় পার করছি।

২০০৩ সালের শেষ দিকে হঠাৎ শুনতে পেলাম “মাসিক হেফাজতে ইসলাম ” নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিন এবং এম্বোলেন্স সার্ভিস শুরু হবে। অফিস নেয়া হলো শ্রীমঙ্গল রোডের আলীম মঞ্জিলে। চুনারুঘাটের আমার এক বন্ধু মাওলানা হোসাইন ভাই এম্বোলেন্স সার্ভিসের ম্যানেজার। সেই সুবাধে তিনি পত্রিকার উদ্বোধনী সংখ্যায় একটা লেখা দিতে বললেন। আমি “মাসিক হেফাজতে ইসলাম, একটি প্রত্যাশা” নামে ছোট প্রবন্ধ লিখে দেই এবং তা ছাপাও হয়।

একদিন অভিমান করে স্কুলের চাকুরীটাও ছেড়ে দিলাম। এখন ভরসা শুধুমাত্র কয়েকটি টিউশনী। মন খারাপ করে শুয়ে আছি মেসে। হঠাৎ হোসাইন ভাই মেসে উপস্থিত। আমাকে তাড়া দিলেন, এখন আপনাকে যেতে হবে হেফাজত অফিসে। সম্পাদক মাওলানা আবদাল হোসেন খাঁন সাহেব অপেক্ষমান।

আবদাল সাহেবকে জানতাম। তবে সেটা দূর থেকে। এই প্রথম উনাকে সরাসরি দেখলাম। প্রাথমিক কথাবার্তা হলো। উনি সিদ্ধান্ত দিলেন পত্রিকায় কাজ করতে। ২০০৪ সালের মে সংখ্যা থেকে আমি পত্রিকায় কাজ শুরু করলাম। স্কুল ছেড়ে দেয়ার দিনেই এমন একটি কর্মসংস্থান! এটা আল্লাহর খাস রহমত ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। এখানে প্রতিমাসে যে সম্মানি পেতাম, তা অনেক মাদরাসার শায়খুল হাদীস থেকে খানিকটা বেশী ছিলো।

পত্রিকায় কাজ করতে গিয়ে আমি সান্নিধ্য পেলাম সদ্য প্রয়াত শায়খ খলীলুর রহমান হামিদী রহ: এর। পত্রিকার সার্কুলেশন বৃদ্ধির জন্য কয়েকটা পদক্ষেপের মধ্যে একটা ছিলো হুজুরের সফরে সাথে থাকা। এভাবেই সুযোগ পেলাম ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যের।

মাসিক হেফাজতে ইসলামে দায়িত্ব পালনের সুবাদে আমি বরুণা পরিবারের প্রায় সকল শায়খ ও তাদের সাহেবজাদাদের সাথে একান্তে মেশার সুযোগ পেলাম। শায়খের ছোট সাহেবজাদা শায়খ হাদী আলম হামিদী তখনও দেশেই ছিলেন। আমরা প্রচুর সময় একসাথে কাটাতাম।

এতো বিনয় ও নম্রতা একজন দেশ শ্রেষ্ট আলেম হয়েও অবলম্বন করতেন শায়খে বর্ণভী রহঃ, তা দেখে আমার বিস্ময়ের অন্ত থাকতোনা।
হুজুর আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। হাদিয়া দিতেন প্রচুর। আমার লেখা প্রথম উপন্যাস “জাগ্রত জনপদ” ২০০৫ এএকুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়। নজরুল মঞ্চে প্রকাশনা অনুষ্ঠানসহ প্রকাশের প্রায় সকল খরচ হুজুর দিয়েছিলেন।

২০০৫ এর জুলাই পর্যন্ত আমি মাসিক হেফাজতে দায়িত্ব পালন করি। এর সম্পাদক মাওলানা আব্দাল খাঁন সাব হুজুর আমার লেখালেখির একমাত্র উস্তাদ। এই দুই বছরে আমি দুহাতে লিখেছি। পবন্ধ, প্রতিবেদন, ছড়া, কবিতা, উপন্যাস, থ্রিলার, ছোট গল্পসহ প্রচুর লেখা এ দুই বছরে লিখেছি। মাওালানা আবদাল সাব হুজুর আমাকে আলসেমি করতে দিতেননা।
একজন শিক্ষক যেভাবে নিবীর পরিচর্যায় তার প্রিয় ছাত্রকে গড়ে তুলেন, সেভাবেই হজুর আমাকে সান্নিধ্য দিয়েছেন।

বর্ণভী পরিবারের অনেককে নিয়ে আলাদা আলাদা লিখার অনুসঙ্গ রয়েছে। ২০০৫ এর অগস্টে আমি সাংগঠনিক কাজে ঢাকা চলে আসি। আমার আসার সময়টাতে মরহুম শায়খ বর্ণভী হুজুর লন্ডন সফরে ছিলেন। যেকারণে হুজুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সুযোগ আমার হয়নি।

আজ হুজুর পৃথিবীতে নেই। তার স্নেহ ও ভালোবাসার ঋণ শোধ করার কোন সামর্থ আমার নেই। হৃদয় নিংড়িয়ে শুধু দোয়াই করছি- মহান প্রভু! প্রিয় শায়খ যেভাবে আমাদেরকে ভালোবেসেছেন, আপনিও তাঁকে স্বীয় ভালোবাসার চাদরে আবৃত করে রাখুন।

জান্নাতে ছায়ায় ভালে থাকুন প্রিয় শায়খ!