সমমনা ইসলামী দল ও ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ নিয়ে কিছু কথা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২০
সমমনা ইসলামী দল ও ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ  নিয়ে কিছু কথা

এহসানুল হক:: বাইতুল মুকাররমে অনুষ্ঠিত হওয়া সমমনা ইসলামী দলসমূহ ও ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইছে। পক্ষে বিপক্ষে নানা রকম বিচার-বিশ্লেষন চলছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু কিছু বিভ্রান্তি লক্ষ্য করছি। আমি যেহেতু বাইতুল মুকাররমে উপস্থিত ছিলাম তাই অনেকেই বাস্তব ঘটনা জানতে চাচ্ছেন। সঙ্গত কারণেই এখন কিছু কথা বলতে হচ্ছে।

গত রবিবার(১১/১০/২০)সমমনা ইসলামী সমুহের বৈঠক থেক বাইতুল মুকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ ও গণমিছিলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এবং ইসলামি ঘরানার মিডিয়ায় সেদিনই সংবাদটি প্রচারিতও হয়। তখনো ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচীর কথা তেমন কেউ জানতে না। এরপরের দিন সোমবার(১২/১০/২০) নিয়ম অনুযায়ী ডিএমপির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। তখনো ডিএমপি থেকে বলা হয়নি সেদিন উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ আছে। এর অর্থ হলো, ইসলামী আন্দোলন তখন পযর্ন্ত সমাবেশের আবেদন করেনি। এরপর মঙ্গলবার(১৩/১০/২০)মতিঝিল থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, একই সময়ে সেখানে ইসলামী আন্দোলনও কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

এরপরের দিন বুধবার(১৩.১০.২০)মতিঝিল জোনের ডিসি অফিস থেকেই উভয় পক্ষকে ডাকা হয় বিষয়টি সমঝোতার জন্য। বৈঠকে সমমনা ইসলামী দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল রব ইউসুফি, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা জায়নুল আবেদীন, মাওলানা ফয়সাল আহমদ। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা ফজলে বারী মাসুদ।

আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় -সমমনা ইসলামী দল সমুহ তাদের ঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে নামাজের পরপরই সভাপতির সংক্ষিপ্ত বক্ত্যের মাধ্যমে শুরু করবে এবং পল্টন মোড় হয়ে বিজয় নগর গিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে মুল সমাবেশ করবে। সমমনা ইসলামী দল সমুহের গণমিছিল বায়তুল মোকাররম এলাকা ত্যাগ করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের গণমিছিল বায়তুল মোকাররম চত্তরে শুরু করবে।

এ পযর্ন্ত সব কিছুই ঠিক ছিলো। কিন্তু সমাবেশের দিন পরিস্থিতি বদলে যায়। জুমার নামাজের প্রায় পৌণে এক ঘন্টা পূর্বে আমি বাইতুল মুকাররমে উপস্থিত হই। গিয়ে দেখি বাইতুল মুকাররম উত্তর গেট চত্বর প্রায় পুরোটাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দখলে। দুই পাশে মাইকের স্ট্যান্ড সেট করা। প্রতি স্ট্যান্ডে দুটি করে মাইক। তারা লাল পোষাক পরিহিত থাকায় চিনতে সমস্যা হলো না। আমি পিছন দিকে গেলাম। সেখানে মজলিসের কিছু ভাইদের সাথে দেখা হলো। একটু পর আতাউল্লাহ ভাই সহ আরও অনেকেই আসলেন। উত্তর গেটের সিড়ি থেকে বেশ দূরে আমাদের দাড়াঁতে হলো। বুঝতে পারলাম নামাজের পর কি হতে যাচ্ছে।

ইমাম সাহেবের দ্বিতীয় সালাম শেষ হওয়ার আগেই উত্তর গেটের মূল চত্বর থেকে শ্লোগান শুরু হলো। চালু হয়ে গেলো ইসলামী আন্দোলনের সবগুলো মাইক। কাসেমী সাহেবসহ নেতৃবৃন্দ মসজিদ থেকে বের দেখলেন মূল চত্বরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। ছয়দলের নেতৃবৃন্দ বাম দিকের ছোট্ট জায়গায় ব্যানার নিয়ে দাড়াঁলেন।

আতাউল্লাহ ভাই আমাকে বললেন, বাইরে চলো। রাস্তায় এসে দেখি আমাদের ট্রাক দাঁড়ানো। আমরা গিয়ে উঠলাম। আতাউল্লাহ ভাই শ্লোগান দেয়া শুরু করলেন। ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুরু হলে আমাদের শ্লোগান বন্ধ করতে হলো। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কাসেমী সাহেবসহ সবাই বের হয়ে আসলে মিছিল বিজয় নগরের দিকে যাত্রা শুরু করলো।

এমন পাশাপাশি দুই মাইক চালু হওয়াটা খুবই দৃষ্টিকটু ছিলো। ছয়দলের মিছিলে আসা অনেকেই মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখলেন সমাবেশ চলছে। কিন্তু যখন বুঝলেন, এটা অন্য দলের সমাবেশ ততোক্ষণে আমাদের মিছিল বাইতুল মুকাররম এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তারা আর মিছিলে যোগ দিতে পারলো না। অনেকে বিষয়টি বুঝার পরও তাদের ভীড়ের কারণে মিছিল পযর্ন্ত আসতে পারেনি। এভাবেই অনেক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হলো।

সমাবেশ শেষ হওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য। নামাজের আধাঘন্টা পর তাদের সমাবেশ চালু করার যে দাবি করা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা উত্তর গেটে থাকা অবস্থায় তাদের সূচনা তিলাওয়াত শুরু হয়েছে এমন ভিডিও আমার কাছেই আছে। তাহলে কি আমরা উত্তর গেটে আধাঘন্টা ছিলাম? তারপর সমাবেশে ধাক্কাধাক্কী বা উত্তজনার যে কথা বলা হচ্ছে এটাও ভুল। একপক্ষ মূল চত্তর একতরফা দখল করায় সেখানে অপর পক্ষ দাঁড়ানোরই তেমন সুযোগ পায়নি। ধাক্কাধাক্কি কিভাবে হবে?

সমমনা ইসলামী দলের কর্মীরাও যদি জায়গা দখল করতে যেতো তাহলে বড় ধরনের বিশৃংখলার সম্ভবনা ছিলো। কিন্তু আল্লাহ পাক রক্ষা করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সংখ্যা অনেক বেশি বলেই জানি। তাদের তো এভাবে জায়গা দখল করার প্রয়োজনই ছিলো না। আর বর্তমান সময়ে ঢাকার সিনিয়র মুরব্বি নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব হুজুরের মতো ব্যক্তিকে পম্চিম পাশের কোণায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। ব্যাপারটা দুঃখজনক ছিলো।

ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ হয়তো নামাজের সাথে সাথেই আনুষ্ঠাতিক সমাবেশ শুরু করেনি। কিন্তু মূল জায়গাটা কর্মীদের দখল করা এবং মাইক চালু থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। সমঝোতা বৈঠকে থাকা ইমতিয়াজ আলম ভাই ও মাসুদ কে অত্যন্ত সজ্জন ভালো মানুষ হিসেবেই চিনি। তারা হয়তো চেষ্টা করছেন। কিন্তু কর্মী দের উচিত হয়নি উভয় পক্ষের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কে এভাবে অগ্রায্য করা।

ঘটনা এতটুকুই। বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা হয়তো ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। ওয়াদাও রক্ষা করতে পারিনি। তবুও আমি মনে করি আমাদের মধ্যে দূরত্ব আর বাড়ানোর তো প্রয়োজন নেই। সবাই যার যার জায়গায় ভালো থাকুক।