সমমাননা দলের সম্মেলিত অপপ্রচার

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২০
সমমাননা দলের সম্মেলিত অপপ্রচার

সামান্যতম ভূমিকা- ইংরেজিতে একটা প্রবাদবাক্য আছে Attack is the best form of defense ‘আক্রমণই সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা’। আপনি যদি কেবল বিপক্ষ দলের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন, তাহলে দিনশেষে আপনি পরাজিত না হলেও অন্তত বিজয়ী হতে পারবেন না। পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এবং কেবল ডিফেন্স করে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সত্যিকারর্থেই বেশ ক্ষীণ। অন্যদিকে আপনি যদি বিপক্ষ দলের আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণও করেন, তাহলে তারাও খানিকটা নড়েচড়ে বসবে। এমনকি অনেকক্ষেত্রে এমনও হয়, যে শক্তি কম থাকার পরেও বিপক্ষ দলের ওপর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে থাকে। এখন আসি মুল আলোচনায়……..(পোস্ট পড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা মাথায় রাখলে বুঝতে সুবিধা হবে)

শুরুর কথা…..
গত ৯ই অক্টোবর ঢাকা মহানগরের আয়োজনে বায়তুল মোকাররমে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের শুধু যে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিলো তা নয়, সেখানে সমমাননা ইসলামী দলেরও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছিল। এ তথ্যটি অনেকের মাথায়ই নেই।

যাইহোক,দুটো দল অনলাইন পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে কমবেশ। আইএবির প্রচারণার দরুন সমমাননা দলের যে ৯ই অক্টোবরের প্রোগ্রাম আছে সেটা তাদের প্রচারণায় ভাটা পড়ার কারনে সোশ্যাল মিডিয়াতে তুলনামূলক তাদের সরব কম হয়েছিলো। (পয়েন্টেবল কথা হলো আইএবি পোস্টারে স্থান নির্ধারিত করে উত্তর গেইট উল্লেখ করেছিল বটে সেক্ষেত্রে সমমাননা দল শুধু মাত্র বায়তুল মোকাররম উল্লেখ করেছে কিন্তু তাদের সমাবেশ কোত্থকে শুরু হবে সেটা উল্লেখ করেনি)

জবরদখলের নৈপথ্যের কাহিনী-ঐদিনের সমাবেশে সমমাননা দল নামাজ শেষ না হতেই হুটকরেই উত্তর গেইট দখল করে প্রোগ্রাম শুরু করে দিয়েছে, অথচ তাদের সেখানে প্রোগ্রাম করার কথা ছিলনা,কোন ঘোষণাপত্রও ছিলোনা। (উল্লেখ্য মুসল্লিগণ সেদিন অনেক চিল্লাপাল্লা করেছিল একথা বলে যে, জু’মার নামাজটাও একটু শান্তিতে পড়তে দিলনা এ হুজুররা) -দখলদারিত্ব এ খেলাটা মুলত তাদেরই একটা গেইমের অংশবিশেষ,যা বিভিন্ন সংঙ্কটে, ইস্যুতে সর্বৈব প্রকাশিত হয়।

গেইট দখলের পরপরই তাদের উগ্র ছেলেপেলেরা এসে তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে আইএবির কর্মীবাহিনীকে ক্ষ্যাপিয়ে তুলতে চেয়েছিলো কিন্তু প্রতিউত্তরে কিছুই পায়নি তারা। তাদের এ যাত্রায় সফল হয়নি বলে, ফেইসবুক গরম রাখতে চিহ্নিত সেই উগ্র কুচক্রীরা আইএবির ফেস্টুন হাতে ছবি তুলে ঐদিনই একযোগে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে আইএবির কর্মীরা নাকি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিল। অথচ,ঐদিন আইএবির কর্মীবাহিনীরা উপস্থিত হাইকমান্ড নেতাদের আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল । যদি সেটা না দেখাত, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্নরকম হত। কিন্তু তারা সেটা না করে আনুগত্যের সর্বোচ্চটা দেখিয়েছে বলে পারস্পারিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের পরিবেশ তৈরী হয়েছিল। আইএবির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বলা চলে। উদারতার এ আচরণ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। ইসলামী দলগুলোর জন্য যা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। (তবে এসব কথা আইএবির কোন নেতা তো দূরের কথা কোন কর্মী, সমর্থক বা শুভাকাঙ্ক্ষী এটা নিয়ে অফলাইনে কিংবা অনলাইনে সামান্য আলোচনাটুকুও করেনি) এমন উদারতার হাজারো ইতিহাস আইএবির ঝুলিতে ধামাচাপা পড়ে আছে। সেগুলো যদি পর্বাকারে লেখা হয়, আরেকটা চেপে রাখা মুদ্রণ হয়ে যাবে।
নেতৃত্বে বলিষ্ঠ স্বাক্ষর রেখে- উপস্থিত আইএবির নেতারা রাস্তার গেইটে এসে সংক্ষিপ্ততাকারে সমাবেশ করে বিজয় নগরীর দিকে গিয়ে সমাবেশ শেষ করে ‘‘১৬ তারিখের সমাবেশে’’র ঘোষনা করে আন্দোলন শেষ করে দেয়।

এসব কেন করেছিল? কি জন্যে করেছিল? কারন কী?এসব আলোচনা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু করিনি কাদা ছুড়াছুঁড়ির হবে বলে। তবে তারা মনে করেছিলো এসবের প্রোপাগান্ডা করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাদের হিংসাত্মক বিদ্ধেষী মনোভাব ধামাচাপা দিবে!
(উত্তর ভূমিকায় নিহিত আছে)

শেষের কথা……

১৬ তারিখের সমাবেশের পরপরই তাদের মিথ্যাচারের প্রোপাগান্ডা তীব্রতর হয়েছে। প্রথমত তারা তারিখ নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে কিন্তু সেটা ধোপে টিকেনি প্রমাণ থাকার কারনে। তারপর শুরু করেছে সমমাননা দলকে নাকি উত্তর গেইটে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি সেটাও টিকেনি ছবি থাকার দরুন। তারপর শুরু করেছে কর্মীরা নাকি অতিউৎসাহী হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে সেটাও টিকলো না মুহতারাম গাজী আতাউর রহমান মাইকে বারংবার এনাউন্স করা ও প্রোটেক্ট দিয়ে আমাদের কর্মীবাহিনীরা সুশৃঙ্খলভাবে বের হতে সাহায্য করার সুস্পষ্ট প্রমাণের কারনে।
বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর উত্তর গেইটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশ শুরু হয়েছে।
(কিন্তু সমমাননা দল ৯ই অক্টোবর ১মিনিটের জন্যও আইএবিকে উত্তর গেইটে অবস্থান করতে দেয়নি,আইএবি সমমাননা দলকে ৩০সমাবেশের সময় দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের প্রোটেক্টে মিছিলে পথ সুগম করে দিয়েছে)
মুলত জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী দা.বা.কে মুরুব্বী মেনে মতিঝিল জোনে এডিসির মধ্যস্থতায় পল্টনের ওসির তত্ত্বাবধায়নে উভয় দলেরই সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়,সমমনা ইসলামী ছয় দল তাদের সমাবেশ বায়তুল মোকাররমে নয় বরং বিজয়নগর এলাকায় করবে। তবে জুমার নামাজের পর তারা তাদের কর্মীদের একত্রিত করে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল নিয়ে বিজয়নগরের দিকে যাবে। এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ উত্তর গেটে তাদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।(এক্ষেত্রে আইএবি প্রস্তাব দিয়েছিল তারা নামাজের পরপরই মিছিল নিয়ে বের হয়ে যাবে কিন্তু সমমাননা দল সেটা না মেনে নিজেদের প্রস্তাব মোতাবেক সিন্ধান্তগ্রহণ করে মিছিল বের করার কথা বললে আইএবি তাদের সম্মানার্থে আখলাকী পরিচয় দিয়ে তাদের সিন্ধান্ত মেনে নেয়) মোটকথা সবকিছুই হয়েছে তাদের প্রস্তবানা অনুযায়ী। এবং বিশৃঙ্খলার সংবাদও উঠেছে তাদের গড়া সাঙ্গপাঙ্গদের পক্ষ থেকেই।

গতকাল আশরাফ মাহদী প্রোপাগান্ডা মুলক পোস্টে তার তথ্যবিভ্রাট নিয়ে কমেন্ট প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু সে সদুত্তর না দিয়ে ডিফেন্সিভ খেলা খেলেছে আমার সাথে। আসলে সে পোষ্ট দিয়েছে হলো প্রতিহিংসা, বিদ্ধেশ বশত। যাতে করে ইসলামপন্থীদের সৌহার্দপূর্ণ সমোঝতায় ফাটল ধরে। কারন তাদের ইতিহাসে তো গড়ার কোন পাঠ নেই, আছে শুধু ভাঙ্গাভাঙ্গির খেলা। যা পারিবারিক থেকে রাজনৈতিক মাঠপর্যায়ে গড়িয়েছিলো। এদের মত ছাইপাঁশরা সর্বদাই তৃতীয়পক্ষ সেজে মিঠা লাগাতে ব্যস্ত থাকে। এদেরকে শেখ সাদী গুলিস্তাঁয়ে অবহিত করেছে ‘‘মিয়ানে দোকাশ জঙ্গগে-চু আতে শাস্ত’ বলে।
ফেক ও ট্রলবাজ আইডি উসামা মুহাম্মাদ নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সিন্ডিকেট আমীরের নির্দেশে তা হচ্ছে আইএবি তথা চরমোনাইকে নিয়ে নির্জলা মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ প্রোপাগান্ডার। তাকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে সুযোগ তিনি কাপোলে রাখেননি, সুনিপুণভাবে ব্লকলিস্টে রেখে দিয়েছে আমাকে। যদিও সেটা মাত্র দুটো কমেন্টের দরুন, একটা হচ্ছে শাইখুল ইসলাম রহিমাহুল্লাহর খেলাফত পাওয়া না পাওয়া না পাওয়া আরেকটি হচ্ছে হাদীসের সনদ
নিয়ে তার জঘন্যতম মিথ্যাচারের সম্মানসুচক জওয়াবে।

এমন একটি মীমাংসিত একটি সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়ার পরও আইএবির নামে নির্জলা এ মিথ্যাচারের প্রতিউত্তর থাকা সত্ত্বেও তারা ধৈর্য্য ধরে আল্লাহর ভরসা করে আছেন। কেননা ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন’। কিন্তু হিতে বিপরীত অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যেত তাহলে এটা আমাদের তথা ইসলাম পপন্থীদের জন্য চরম লজ্জার। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন ও সর্তক থাকতে হবে। এ মানসিকতা না ছাড়লে অচিরেই ইসলামপন্থীরা মুখ থুবড়ে পড়বে।

আমাদের কোন প্রতিপক্ষ নেই,একমাত্র কুফফার ছাড়া। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আইএবির ছাড় দেয়ার মানসিকতা বিগত দিনেও ছিলে, আগামিতেও অক্ষুণ্ণ থাকবে। না বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডায় দূরের কথা চোখ তুলে তাকাইও না। আহ! তারা যদি ছাড় দেয়ার, উদারতার মানসিকতা সামান্যতমও রাখত, তাহলে বিভেদের এ দেয়াল আর তৈরী হতনা।
শুধু মাঠে-মঞ্চে বক্তব্যে নয়, আমাদের আচরণেও উদারতা প্রকাশ পেতে হবে না হয় এ তোহমত ও মিথ্যাচারের ফুলঝুরি শেষ হবেনা।

মনে রাখবেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো আমরা আল্লাহর জন্য সবাইকে ভালোবাসি,পক্ষে আওয়াজ তুলি এবং আল্লাহর জন্যই সত্যকথা দৃঢ়ভাবে বলি যা কারো কারো গাত্রদাহের কারন হয়ে যায়।
স্মরণে রাখবেন, আমরা ব্যানারের মাধ্যমে ঐক্যের করার আগে আদর্শ চিন্তা-চেতনার ঐক্য জরুরী মনে করি। নতুবা এ চিন্তার বিচ্ছিন্নতাই একসময় এ ব্যানারকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। যার জলন্ত দৃষ্টান্ত আপনারে সামনে ভুরি ভুরি আছে।

মোটকথা এই সিন্ডিকেটরা Attack is the best form of defense ‘আক্রমণই সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আইএবি তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নামে অতিরঞ্জিত মিথ্যা তথ্য পরিবেশন ও সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকে আবার মিথ্যার ওপর সত্যের একটা চাদর বিছিয়ে ধোঁকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করে শান্ত সাম্প্রতিক পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে। দিনশেষে আইএবি পরাজিত না পারলেও অন্তত বিজয়ী হতে দিবে না।
এদের ব্যাপারেপবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন ;
ومكروا ومكر الله والله خير الماكرين (سوره ال عمران ٥٤)

পুনশ্চ : ৯ই অক্টোবরের তাদের হিংস্রতাপূর্ণ আচরণ, জবরদখল কে ডাকতে ১৬ই অক্টোবরের নিজেদের মন মত সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেভাগে মিছিল নিয়ে প্রোপাগান্ডার ছক আকে তারা

Shaikh Ahsan Foyzi