মুজাহিদে মিল্লাত প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান (রহঃ),এক নজরে আন্দোলন ও সংগ্রাম

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, অক্টোবর, ২০২০, সোমবার
মুজাহিদে মিল্লাত প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান (রহঃ),এক নজরে আন্দোলন ও সংগ্রাম

মুহতারাম শাহ মমশাদ আহমদ:: ২০০২ সাল,জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার এর বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন। প্রধান অতিথির আসনে বসা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহঃ।হযরত প্রিন্সিপাল রহ এর জীবন বৃত্তান্ত মুলক আমার লেখা ” দীপ্ত জীবন” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনচনের জন্য শায়খুল হাদীস রহঃ এর দস্তমুবারকে তুলে দিলাম,শায়খুল হাদীস রহঃ বইয়ের পাতা উল্টিয়ে দেখতে লাগলেন,বয়ানের শুরুতেই বললেন, গ্রন্থটিতে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান সাহেবকে সিলেটের সিংহ পুরুষ বলা হয়েছে,মুলত তিনি শুধু সিলেটের নয়,বাংলাদেশের সিংহ পুরুষ।

সত্যিই তো,প্রিন্সিপাল রহঃ ছিলেন, এক আপোষহীন সিংহ পুরুষ, সিংহ বনের রাজা,আর মুজাহিদে মিল্লাত প্রিন্সিপাল রহ ছিলেন,আন্দোলনের রাজা।বাতিল,দুঃশাসন আর জুলুমের প্রতিবাদ করা ছিল তার মজ্জাগত স্বভাব,নিজ শক্তি সামর্থের তোয়াক্কা না করে আল্লাহর উপর ভরষা করে প্রশাসনের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলা ছিল তার স্বাভাবিক অভ্যাসের অংশ।

প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহঃ মানেই জীবনভর এক সংগ্রাম,একটি আন্দোলনের দাবানল,বাতিল শক্তির ত্রাস,জুলুমের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

একনজরে তার অবিস্মরণীয় আন্দোলন ও সংগ্রাম।

।। ইসলামদ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন।।

১৯৭৭সালে সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য চল্লিশ দিনব্যাপী জুয়া,হাউজিং, নাচগানের অশ্লীল অনুষ্ঠান প্রতিহত করেন।
১৯৮১ সালে সিলেট এম সি কলেজের জনৈক অধ্যাপক সরদার আলা উদ্দিন আল্লাহ ও রাসুল সঃ কে কটাক্ষ করে, তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে তীব্র গণআন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন,নাস্তিক আলা উদ্দিন দেশত্যাগে বাধ্য হয়।
রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও দিনের বেলা হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার দাবীতে ১৯৮৯ সালে জালালাবাদ ইসলাম সমিতির উদ্যেগে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন,প্রশাসন দাবী মানতে বাধ্য হয়।
১৯৯৪ সালে ইসলাম দ্রোহী লেখিকা তাসলিমা নাসরিনের ফাসি ও আল্লাহ ও রাসুলকে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধানের দাবীতে সিলেট থেকে আন্দোলনের সুচনা করেন,সাহাবা সৈনিক পরষদ গঠন করে নাস্তিক মুর্তাদ বিরুধী আন্দোলনের সুচনা করেন,তাসলিমা দেশ থেকে পলায়ন করে।
নাস্তিক মুর্তাদ বিরুধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে কাজির বাজার মাদ্রার ১৮ জন ছাত্র শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়, এর মধ্যে আমি ও ছিলাম,প্রিন্সিপাল রহঃ ও এক সপ্তাহ আত্নগোপনে থাকেন,গ্রেফতারের আতংক উপেক্ষা করে বন্দিদের মুক্তির দাবীতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন,প্রশাসন একমাসের মাথায় আমাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
কবি শামসুর রহমান, এদেশের নাস্তিক কুলের মুরব্বী,তিনি আজানের পবিত্র ধ্বনি কে বেশ্যা নর্তকীদের আওয়াজের তুলনা করেন,১৯৯৫সালের ১৯এপ্রিল কবি শামসুকে সিলেটে সম্বর্ধনা দানের প্রস্ততি গ্রহণ করা হলে প্রিন্সিপাল রহ এর নেতৃত্বে তা প্রতিহিত করা হয়।সিলেটে এদিন সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।
১৯৯৭সালে লেখক আহমদ শরীফ ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তি করলে প্রিন্সিপাল রহ সিলেটে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

।।দেশবাসীর ন্যায্য অধিকার আন্দোলন।।

১৯৮৯সালে সিলেটের আখালিয়ায় বিডি আর ক্যাম্পে বাসযাত্রীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বদলীয় অভুতপুর্ব আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ছিলেন প্রিন্সিপাল রহ।

সিলেট বিভাগ প্রতিষ্টার আন্দোলনে নব্বই দশকের শুরুতে তার নেতৃত্বে বৃহত্তর সিলেট উন্নয়ন ও বিভাগ আন্দোলন জোড়ালো ভুমিকা পালন করে,ফলশ্রুতিতে সিলেট বিভাগ প্রতিষ্টিত হয়।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের নাম কয়েকজন ইসলামদ্রোহী ব্যাক্তির নামে নামকরণের অপচেষ্টা হলে ১৯৯৯-২০০০সালে এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেন, কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

২০১৩ সালে শাবির গেইটে ভাস্কর্য নির্মানের অপচেষ্টা আলেম উলামাকে নিয়ে প্রতিহত করেন।

২০১১সালের ২৯ ডিসেম্বর ভারত কর্তৃক টিপাই বাধ নির্মানের প্রতিবাদে সিলেট হতে জকীগঞ্জ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গণপদযাত্রায় নেতৃত্ব প্রদান করেন।

আল্লাহ দেশ-জাতি ও ইসলামের কল্যাণে হযরত প্রিন্সিপাল রহ এর সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন, জান্নাতুল ফেরদৌসের উচু মাকাম দান করুন। আমাদের তার অনুকরণে দ্বীনের মুজাহিদ হিসেবে গ্রহণ করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন