বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২০
বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকার পর দেশের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো আজ থেকে আবার খুলে দেয়া হয়েছে।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল থেকেই এ সব কেন্দ্রে ভিড় করেছেন পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমী নারী-পুরুষ, যুবা, কিশোর-কিশোরী আর শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা। দর্শনার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে চিড়িয়াখানা, সাফারী পার্ক, সুন্দরবন, সেন্টমাটিনসসহ পর্যটন ও বিনোদনের আকর্ষণীয় নানা কেন্দ্র ।

ঢাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসের প্রথম রবিবার দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফ্রি ঘোষণা করায় আজ দর্শনার্থীরা টিকিট ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরা দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলেছেন, দর্শনার্থী প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, কারো শরীরে তাপ বেশি থাকলে তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন সীমিত আকারে দু’হাজার দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে ঢাকা চিড়িয়াখানায় ।

তিনি আরও জানান, গত সাড়ে সাত মাস চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকাকালে বিভিন্ন প্রাণী ১১৫টি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। এসব নতুন অতিথি, সবুজের সমারোহ আর নতুন রূপে প্রাণীদের দেখে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ আনন্দ পাচ্ছে।

একই রকম আকর্ষণ দেখা গেছে পাশের বোটানিক্যাল গার্ডেনে।

ওদিকে, ৩,১১০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত গাজীপুরের সাফারি পার্কের একজন কর্মকর্তা জানালেন আজ প্রথম দিন তেমন একটা ভিড় না হলেও সবাই যখন জানতে পারবে পার্ক খুলে দেয়া হয়েছে, তখন দর্শনার্থী বাড়বে।

দীর্ঘদিন সুন্দরবন বেড়াতে না পারার প্রতীক্ষা শেষে আজ প্রথম সুযোগেই দেশী বিদেশী পর্যটকদর নিয়ে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় ভ্রমণকারীরা মংলার পিকনিক স্পট থেকে সকাল সকাল লঞ্চে চড়ে সুন্দরবনের ভেতরে বিভিন্ন স্পটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

সুন্দরী গাছসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ-লতাগুল্ম-সমৃদ্ধ আকর্ষণীয় এ সুন্দরবন অঞ্চলে রয়েছে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ ও বানর সহ ৪২ প্রজাতির প্রাণীর অভয়ারণ্য। রয়েছে ৩১৫ প্রজাতির পাখি, কুমির ও সাপসহ ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ২৯১ প্রজাতির মাছ ।

ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটক নিষিদ্ধ

ওদিকে, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় প্রবালদ্বীপ সেইন্ট মার্টিন’স এর ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া বারণ করা হয়েছে। এখন একমাত্র জীবিত কোরাল রয়েছে ছেঁড়াদ্বীপে ।

সেইসঙ্গে দ্বীপের সৈকতে দূষণ রোধে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখা, রাতে তীব্র আলো না জ্বালানো এবং উচ্চ-শব্দে মাইক না বাজানোসহ নানা ব্যবস্থা কার্যকর করতে পরিবেশ আইনের আওতায় কোস্টগার্ডকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশবিদরা।

কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, পর্যটক আগমন বন্ধ রেখে দূষণ বন্ধ করতে পারলে কোরাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে এবং আগামী তিন চার-বছরের মধ্যে চারদিকে কোরাল -সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে দ্বীপটি।

সাগরজলে ভেসে-ওঠা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন’স। বৈচিত্র্যে ঠাসা চিরসবুজ এ দ্বীপের স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। টেকনাফ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রগর্ভে এই দ্বীপের অবস্থান। প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ এ দ্বীপের আকর্ষণ সৈকত জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সারি সারি নারিকেল গাছ, সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার অধিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন। প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস এই দ্বীপে। এই দ্বীপের একেবারে শেষ প্রান্তে ছেঁড়াদ্বীপ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফাহমিদা খানম গণমাধ্যমে বলেছেন, সেন্ট মার্টিন’স এখন আইসিইউর রোগী, এমন রোগীকে বাঁচাতে হলে বিশেষ উদ্যোগ থাকতে হবে। সবার সহযোগিতায় ছেঁড়াদ্বীপসহ সব জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।#

পার্সটুডে