চেন সুচেন: চীনকে চাঁদে পাঠিয়েছেন আমেরিকা থেকে বিতাড়িত যে বিজ্ঞানী

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৩, ২০২০
চেন সুচেন: চীনকে চাঁদে পাঠিয়েছেন আমেরিকা থেকে বিতাড়িত যে বিজ্ঞানী

চীনের সাংহাই নগরীতে একটি পুরো যাদুঘরের ৭০ হাজার নিদর্শনের সবগুলোই শুধু একজন মানুষের জন্য নিবেদিত। তিনি হলেন ‘মানুষের বিজ্ঞানী’ চেন সুচেন। চীনের সবচেয়ে সম্মানিত এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে লিখেছেন বিবিসির কবিতা পুরি

যে রকেট দিয়ে চীনের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল, সেটি ছিল তাঁরই গবেষণার ফসল। এরপর যে ক্ষেপণাস্ত্র চীনের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়, তাও সম্ভব হয়েছে এই বিজ্ঞানীর প্রচেষ্টায়।

চীনে বিজ্ঞানী চেন সুচেনের মর্যাদা জাতীয় নায়কের। কিন্তু যে দেশে তিনি পড়াশোনা করেছেন এবং দশ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন সেখানে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কোনো স্বীকৃতিই নেই। মনেই করা হয়না তাকে।

চেনের জন্ম ১৯১১ সালে। চীনের সর্বশেষ রাজতন্ত্রের তখন ভঙ্গুর দশা। তার বাবা-মা দুজনেই উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। বাবা অনেকদিন জাপানে কাজ করের দেশে ফিরে চীনের জাতীয় শিক্ষাক্রম তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখেন।

ছোটোবেলাতেই চেনের ক্ষুরধার মেধার নানা ইঙ্গিত প্রকাশ হতে থাকে। সাংহাইয়ের জাও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষায় তিনি প্রথম হন। সেই সূত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বৃত্তি পান, যেটি ছিল সেসময় চীনা কোনো নাগরিকের জন্য একটি বিরল প্রাপ্তি। ১৯৩৫ সালে হালকা-পাতলা পোশাকে কেতাদুরস্ত এক যুবক চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে গিয়ে নামেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ জর্জিয়ার ইতিহাসের অধ্যাপক ক্রিস জেফারসন বলেন, আমেরিকাতে এসে চেনকে সম্ভবত বর্ণবাদী আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে, অধ্যাপক জেফারসন বলেন, “একটি আশাবাদ এবং বিশ্বাস তখন আমেরিকাতে তৈরি হচ্ছিল যে, চীনে হয়ত মৌলিক পরিবর্তন আসছে।”

এমআইটি শেষ করে চেন ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (ক্যালটেক) গেলেন সেসময়কার সবচেয়ে স্বনামধন্য অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হাংগেরিয়ান বংশোদ্ভূত থিওডর ভন কারমানের অধীনে একজন গবেষক হিসাবে। সে সময় চেনের সহকর্মী ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক মালিনা।

সুইসাইড স্কোয়াড নামে তখন ক্যালটেকে মেধাবী উদ্ভাবকদের যে নেটওয়ার্ক গ্রুপ ছিল, মালিনা ছিলেন তার প্রধান একজন সদস্য। এই গ্রুপের নাম সুইসাইড স্কোয়াড কেন ছিল সে সম্পর্কে বলেন বিজ্ঞান লেখক ফ্রেজার ম্যাকডোনান্ড : ‘এই গোষ্ঠীটি ক্যালটেকের ক্যাম্পাসে একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল। কিন্তু যেসব রাসায়নিক দ্রব্য তারা ব্যবহার করছিল তাতে একদিন কিছু দুর্ঘটনা ঘটে। যদিও কেউ তাতে মারা যায়নি, তবু তারপর থেকে এদের নাম হয়ে যায় সুইসাইড স্কোয়াড।’

একদিন মালিনা এবং ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ গ্রুপের কজন সদস্যের সাথে অংকের জটিল একটি সমস্যা নিয়ে চেনের আলাপ হয়। এর কিছুদিনের মধ্যে তিনি ঐ গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে যান, এবং রকেট নিয়ে গবেষণায় ভূমিকা রাখতে শুরু করে দেন।

রকেট বিজ্ঞানকে সেসময় ‘পাগলাটে এবং কল্পনা-প্রেমীদের’ বিষয় হিসাবে দেখা হতো, বলেন ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড।

“সুনাম হারানোর ভয়ে কোনো বিখ্যাত প্রকৌশলী তখন এ নিয়ে খুব বেশী মাথা ঘামাতে চাইতেন না।”

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে গেল। সুইসাইড স্কোয়াডের দিকে নজর পড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর। যুদ্ধবিমানের ডানায় জেট ইঞ্জিন লাগিয়ে ছোট রানওয়ে থেকে কীভাবে ওড়া সম্ভব তার গবেষণার জন্য তারা এই গ্রুপটিকে অর্থ দিল।

সামরিক সেই তহবিলের কল্যাণে ক্যালটেকের রকেট বিজ্ঞানী থিওডর ভন কারমানের নেতৃত্বে ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা হয় জেট প্রপালশান ল্যাব (জেপিএল)। ঐ প্রকল্পের মূলে ছিলেন চেন সুচেন এবং ফ্রাঙ্ক মালিনা।

চেন ছিলেন চীনা নাগরিক, কিন্তু চীনা প্রজাতন্ত্র তখন আমেরিকার মিত্র দেশ ছিল।

“ফলে আমেরিকার মহাকাশ বিজ্ঞান প্রকল্পে একজন চীনা বিজ্ঞানীর ভূমিকা নিয়ে তেমন কোনো সন্দেহ-সংশয় ছিলনা,” বলেন ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড।

গোপন অস্ত্র গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার জন্য চেনকে অনুমতি দেওয়া হয়। তাকে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান পরামর্শ বোর্ডের সদস্য করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ নাগাদ চেন সুচেন হয়ে ওঠেন জেট প্রপালশান অর্থাৎ জেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত প্রক্ষেপণের বিশ্বসেরা একজন বিশেষজ্ঞ। তাকে এবং থিওডর ভন কারমানকে জার্মানিতে একটি মিশনে পাঠানো হয়।

তাদের দায়িত্ব ছিল নাৎসি প্রকৌশলীদের, বিশেষ করে সে সময়কার জার্মান রকেট বিজ্ঞানী ওয়ার্নার ফন ব্রাউনের সাথে কথা বলা। কারণ, রকেট প্রযুক্তি সম্পর্কে জার্মানির দক্ষতা জানার জন্য আমেরিকা তখন উন্মুখ ছিল।

কিন্তু চল্লিশের দশকের শেষ দিকে এসে আমেরিকায় চেনের ক্যারিয়ারের ওপর হঠাৎ পর্দা নেমে আসে। সেই সাথে সেখানে বসবাসও কঠিন হতে শুরু করে।

মাও জে দং ১৯৪৯ সালে চীনে কম্যুনিস্ট প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা দেন। সাথে সাথেই ‘আরেকটি অশুভ রাষ্ট্র’ হিসাবে চীনের ভাবমূর্তি তৈরি হতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে, বলেন ক্রিস জেফারসন।

“চীনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুগ্ধতা উবে গিয়ে হঠাৎ শুরু হয় সন্দেহ।”

জেপিএল-এ নতুন একজন পরিচালক নিয়োগ পান। যোগ দিয়েই তার মধ্যে বিশ্বাস জন্মায়, গবেষণাগারে একটি গুপ্তচর চক্র কাজ করছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে তিনি সন্দেহভাজন কয়েকজনের নামও দেন।

“সন্দেহভাজনদের সবাই ছিল হয় চীনা না হয় ইহুদি”, বলেন ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড।

শীতল যুদ্ধ তখন শুরু হয়ে গেছে। একতরফাভাবে কম্যুনিস্ট তকমা লাগিয়ে লোকজনকে হেনস্থা করা, জেলে পোরার প্রক্রিয়া – যেটা কুখ্যাত ম্যাকার্থি জামানা নামে পরিচিত, তার ইঙ্গিত দেখা যেতে শুরু করেছে।

সেই দমবন্ধ পরিবেশের মধ্যে এফবিআই চেন, ফ্রাঙ্ক মালিনা এবং আরো কয়েকজন বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে এরা ‘কম্যুনিস্ট’ এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

চেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের প্রমাণ হিসাবে এফবিআই ১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র কম্যুনিস্ট পার্টির একটি নথি হাজির করে, যেখানে বলা হয় যে তিনি পাসাডেনা কম্যুনিস্ট পার্টির একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন।

চেন অবশ্য সবসময় বলে গেছেন তিনি কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন না, যদিও নতুন গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৩৮ সালে তিনি এবং ফ্রাঙ্ক মালিনা একসাথে পাসাডেনায় ঐ সংগঠনের সদস্য হন।

তবে সেসময় মার্ক্সবাদে দীক্ষা নেওয়ার চেয়ে তাদের বর্ণবাদ বিরোধিতা প্রকাশে অনেকেই নিজেদের কম্যুনিস্ট হিসাবে পরিচয় দিতেন, বলেন ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড। তিনি বলেন, পাসাডেনার ঐ সংগঠনটিও যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদের হুমকি তুলে ধরার চেষ্টা করছিল।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক জুয়োই ওয়াং বলেন, চেন যে কখনো যুক্তরাষ্ট্রে বসে চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু তারপরও তাকে গৃহবন্দী করা হয়।

জেপিএলে তাঁর কাজের অনুমতি বাতিল করা হয়। সেসময় ক্যালটেকে তাঁর সিনিয়র থিওডর ফন কারমান সরকারের কাছে লেখেন যে চেন নিরপরাধ, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।

পাঁচ বছর গৃহবন্দী করে রাখার পর ১৯৫৫ সালে প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার চেনকে চীনে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

স্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে নিয়ে জাহাজে ওঠার আগে তিনি অপেক্ষমাণ রিপোর্টারদের বলেছিলেন, জীবনে আর কোনোদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখবেন না।

“আমেরিকায় তিনি অন্যতম সুপরিচিত একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি সেখানে অনেক অবদান রেখেছিলেন, আরো রাখতে পারতেন। এটা শুধু তাকে অপমান নয়, এটি ছিল তাঁর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা”, বলেন লেখক-সাংবাদিক তিয়ান উ ফ্যাং।

নায়কের মর্যাদা নিয়ে চেন তাঁর মাতৃভূমি চীনে ফিরে আসেন, কিন্তু সাথে সাথে তাকে চীনা কম্যুনিস্ট পার্টিতে নেওয়া হয়নি।

কম্যুনিস্টদের মধ্যে তাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল। তাঁর স্ত্রী ছিলেন চীনা জাতীয়তাবাদী একজন অভিজাত বংশীয় নেতার কন্যা। ফলে তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল চীনা নেতাদের মধ্যে।

তবে ১৯৫৮ সালে চেন চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য হন, এবং তখন থেকেই তিনি সরকারের সাথে কোনোরকম বিরোধিতায় যাননি। সে কারণে তিনি তাঁর পেশায় অসামান্য সাফল্য পান।

তিনি যখন চীনে ফিরে আসেন তখন দেশটিতে রকেট বিজ্ঞান নিয়ে খুবই সামান্য ধারণা ছিল। কিন্তু তার ১৫ বছরের মাথায় তাঁর তত্বাবধানে চীন প্রথম মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হয়।

কয়েক দশক ধরে তিনি চীনে নতুন এক বিজ্ঞানী প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করে তোলেন। এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর জন্য চীনের সক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করেন।

চীনে যে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলেন চেন, তাঁর আবিষ্কৃত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরের যুদ্ধে আমেরিকার বিরুদ্ধে চীনের সিল্ক-ওয়ার্ম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পরে ২০১৬ সালে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা চীনা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস মেসনে আক্রমণ করে।

ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষ দক্ষতাকে ঠেলে দিয়েছিল, সেটিই পরে তাদেরকেই আঘাত করেছে।”

তিনি বলেন, স্থানীয় কম্যুনিজমের ভয়ে আমেরিকা এমন একজনকে বিতাড়িত করেছিল যিনি কিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু দেশকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে পারদর্শী করে তোলেন। “এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনাশা একটি পদক্ষেপ।”

যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রপালশান কোম্পানি অ্যারোজেটের সাবেক প্রধান ড্যান কিম্বাল বলেছিলেন, চেন সুচেনকে বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বোকামি একটি পদক্ষেপ ছিল।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন নতুন করে চরম বৈরিতা শুরু হয়েছে। এবার অবশ্য এই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে নয়, বরঞ্চ এই বিরোধ ব্যবসা এবং প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে।তাদের দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে চেনের অবদান সম্পর্কে অধিকাংশ আমেরিকানের কোনও ধারনাই নেই, কিন্তু অনেক চীনা-আমেরিকান এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া চীনা ছাত্র-ছাত্রীরা চেন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। তারা জানেন চেনকে কেন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তারা চেনের ঘটনা-প্রবাহ তুলনা করেন।

সাংবাদিক তিয়ান উ ফ্যাং বলেন, “চীন ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন এতই খারাপ যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই সব চীনারা এখন আতঙ্কিত যে তাদেরকেও চেনের মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।”

ফ্রেজার ম্যাকডোনাল্ড বলেন, চেন সুচেনের অভিজ্ঞতা একটি সতর্কবাণী যে জ্ঞানকে বিসর্জন দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে। “আমেরিকায় প্রযুক্তির উন্নয়নে সবসময় প্রধান ভূমিকাই রেখেছেন বাইরের দেশ থেকে আসা বিজ্ঞানীরা… কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে এ নিয়ে গর্ব করে কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

ম্যাকডোনাল্ড বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচিতে জেপিএলের অবদানকে ততটা স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি যতটা দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের পর গোপনে জার্মানি থেকে নিয়ে আসা ওয়ার্নহার ফন ব্রাউন এবং অন্য জার্মান বিজ্ঞানীদের।

তিনি বলেন, নাৎসি হওয়া স্বত্বেও ব্রাউন তাঁর কাজের জন্য যত প্রশংসিত হয়েছেন, চেন বা জেপিএলের অন্য বিজ্ঞানীদের কপালে তার ছিটেফোঁটাও জোটেনি।

“দেশের সমাজতন্ত্র-মনা কিছু বিজ্ঞানীর — তাদের অনেক হয় চীনা না হয় ইহুদি – হাত ধরেই যে আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সে গল্প যুক্তরাষ্ট্র কখনো শুনতে আগ্রহী হয়নি।”

দুর্বল একটি রাষ্ট্র থেকে অর্থনীতি এবং মহাকাশে পরাশক্তি হিসাবে চীনের যে পরিবর্তন, চেন ছিলেন তার অন্যতম কাণ্ডারি। কিন্তু তাঁর এই অসামান্য সাফল্য চীনের না হয়ে আমেরিকার সাফল্যের ইতিহাসের অংশ হতে পারতো।