শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের দায়ে মাদরাসা সুপারের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২০
শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের দায়ে মাদরাসা সুপারের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বিজয় বাংলা ডেস্ক,:
পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামি মাদরাসা সুপারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক। বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা ইলিয়াস জোমাদ্দার (৫৫) আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় আট মাসের মধ্যে রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার বিচার কাজ শেষ করেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা ইলিয়াস জোমাদ্দার বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামের রাশিদিয়া (স্বতন্ত্র) এবতেদায়ি মাদরাসার সুপার। তার বাবার নাম আব্দুল গফ্ফার জোমাদ্দার।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ১০ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটি ওই মাদরাসার ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো আরো তিনজন সহপাঠীকে নিয়ে সে গত বছর ৮ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে ওই মাদরাসায় সুপার মাওলানা ইলিয়াস জোমাদ্দারের কাছে কোরআন শিক্ষার জন্য যায়। পোনে ৮টার দিকে সুপার অন্য তিনজন ছাত্রীকে ছুটি দিয়ে দেয়। পরে ওই ছাত্রীকে মাদরাসার লাইব্রেরির কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে মুখ চেপে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক সহপাঠীর সহযোগিতায় বাড়িতে যায়। মেয়েটি তার মা-বাবাকে ঘটনা জানানোর পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে মামলা না করার জন্য মাদরাসা সুপার ভিকটিমের মা-বাবার পা ধরে মাফ চায়। ঘটনার ১১ দিন পর ১৯ আগস্ট মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মাদরাসা সুপার মাওলানা ইলিয়াস জোমাদ্দারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পর আসামি পালিয়ে যায়। পুলিশ ওই বছর ১৮ অক্টোবর আসামিক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে পিবিআই এর এসআই মো. আবু সাইয়েদ ওই বছর ১৩ নভেম্বর অভিযুক্ত মাওলানা ইলিয়াস জোমাদ্দারের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত চলতি বছরের ৯ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এর পর আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে বিচার কাজ শেষ করেছে।