দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন দিলেন ইটনা থানার এসআই পার্থ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০২০
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন দিলেন ইটনা থানার এসআই পার্থ

বিপ্লব রায় বিজয়,ইটনা (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মামলার সাক্ষী দিতে গিয়ে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানায় কর্মরত এসআই পার্থ রায় চৌধুরী (৪৩)। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মোটর সাইকেলযোগে আদালতে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গোগড়াছড়ি হাইওয়ে রোডে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সাথে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হলে দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএম সড়ক দুর্ঘটনায় এসআই পার্থ রায় চৌধুরীর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত এসআই পার্থ রায় চৌধুরী রাঙ্গামাটি জেলার আনন্দ বিহার এলাকার মৃত আশুতোষ রায় চৌধুরীর ছেলে।

তার স্ত্রী এবং দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় ছেলে প্রিয়তোষ রায় চৌধুরী (১৪) ৮ম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে প্রয়োতোষ রায় চৌধুরী (৮) ১ম শ্রেণির ছাত্র।

ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএম জানান, খাগড়াছড়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে রোববার একটি মামলায় (খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলার জি,আর-১৯৬/২০১৯) এবং মঙ্গলবার একই আদালতে আরেকটি মামলায় (খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার নন জি,আর-৮৮/২০১) এসআই পার্থ রায় চৌধুরীর সাক্ষী দেয়ার কথা ছিল।

এজন্যে গত ১৪ নভেম্বর (শনিবার) তিনি ইটনা থানা থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) একই আদালতে আরেকটি মামলায় সাক্ষী থাকায় রোববার (১৫ নভেম্বর) আদালতে সাক্ষী দেয়ার পর তিনি রাঙ্গামাটির বাড়িতে যান।

সেখান থেকে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে তিনি সাক্ষী দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেলযোগে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সকাল পৌনে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গোগড়াছড়ি হাইওয়ে রোডে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসের সাথে তার মোটর সাইকেলের সংঘর্ষ হলে এসআই পার্থ রায় চৌধুরী গুরুতর আহত হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে এসআই পার্থ রায় চৌধুরীর স্ত্রী অর্পনা রায় চৌধুরী এবং বড় ছেলে প্রিয়তোষ রায় চৌধুরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।

ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএম বলেন, মাত্র এক মাস আগে গত ১৪ অক্টোবর এসআই পার্থ রায় চৌধুরী ইটনা থানায় যোগদান করেছিলেন। এই স্বল্প সময়েই তিনি নিজ কর্মদক্ষতায় থানার সকল স্টাফের পাশাপাশি কর্ম এলাকার মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে সহকর্মীদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে গেছে।