বাংলাদেশ-নেপাল ফিফা ফ্রেন্ডলি ড্র করেই সিরিজ বাংলাদেশের

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০২০
বাংলাদেশ-নেপাল ফিফা ফ্রেন্ডলি ড্র করেই সিরিজ বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার: প্রবেশে কঠোর বিধি-নিষেধের পরেও তাদের দমানো যায়নি। মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে কালও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হাজির হয় পনের হাজারের অধিক দর্শক। তবে এদিন তারা প্রথম ম্যাচের মতো তৃপ্তি নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে বেরুতে পারেননি। আবার হতাশও হতে হয়নি। নেপালের বিপক্ষে মুজিববর্ষের ফিফা ফ্রেন্ডলি জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে গতকাল গোলশূন্য ড্র করে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।

প্রথম ম্যাচের জয়ের রাতেই করোনা টেস্ট করানো হয় পুরো দলকে। সেখানে সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে জেমি ডে’র। নিশ্চিত হতে দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিনেও পরীক্ষা করানো হয় তাকে।
সেখানে পজেটিভ আসলে তাকে ছাড়াই গতকাল মাঠে নামে বাংলাদেশ। ডাগআউটে জেমির জায়গায় দাঁড়ান তারই সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে দু’টি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। পরিবর্তনটা মূলত রক্ষণভাগেই। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুর জায়গায় একাদশে ঢুকেন অভিজ্ঞ আশরাফুল ইসলাম রানা ও রক্ষণভাগে রিয়াদুল হাসানের পরিবর্তে দলে আসেন ইয়াসিন খান। তবে আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত গোল করেও মাহবুবুর রহমান সুফিল এই ম্যাচের মূল একাদশে সুযোগ পাননি। আক্রমণ ভাগ ও মাঝ মাঠে ‘উইনিং কম্বিনেশন’টা এখনই ভাঙতে চায়নি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নেপাল। তবে বাংলাদেশ পায় এগিয়ে যাওয়ার সহজ দু’টি সুযোগ। দু’টিই নষ্ট করেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। ১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে বারের উপর দিয়ে মারেন তিনি। ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে সাদউদ্দিনের কাছ থেকে ডান প্রান্তে বল পেয়ে দারুণ এক ক্রস করেন আগের ম্যাচের গোলদাতা নাবীব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু সেই ক্রসে পা লাগালেও তাকে গোলে পাঠাতে পারেননি সুমন। এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষে সুমনের সময়ও শেষ হয়। তার বদলে দ্বিতীয়ার্ধে নামেন আগের ম্যাচের গোলদাতা মাহবুবুর রহমান সুফিল। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটে ম্যাচে নিজেদের প্রথম সুযোগ পায় নেপাল। ডান প্রান্ত থেকে দারুণ এক ক্রস পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি নেপালি ফরোয়ার্ডরা। এরপর টানা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫৭ মিনিটে সাদ বক্সে ঢুকে পড়লে, নেপালি কিপার লিম্বু সুইপার কিপার হিসেবে আটকে দেন তাকে। পরের দুই মিনিটে সুফিল ও জীবন টানা দুইবার বক্সে ঢুকে পড়লেও গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে জীবনের বাড়ানো বল নিয়ে পোস্টে ঢুকেন সুফিল। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ক্যাটব্যাক করে জীবনকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো জীবন তাতে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে অরক্ষিত গ্যালারি থেকে নেমে আসেন এক দর্শক। খেলা চলাকালীন সময়ে পূর্ব গ্যালারি থেকে নেমে আসা সেই দর্শক মাঠে ঢুকে জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে সেলফিও তোলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিনে নেপাল তাদের মরণ কামড় দেয় বাংলাদেশের রক্ষণে। ম্যাচের শেষ চার মিনিটে স্বাগতিকদের একেবারে দিশাহারা করে ফেলে নেপালের আক্রমণ ভাগ। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তপু-রহমতরা। এতেই ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বিপদ ডেকে আনেন রহমত মিয়া। কিন্তু সেই ফ্রিকিকে কাজের কাজ করতে পারেননি নেপালের অধিনায়ক ভারত খাওয়াজ। পরের মিনিটে নেওয়াজ শ্রেষ্ঠার হেড সাইড পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

এই যাত্রায় বাংলাদেশ বাঁচলেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে কাতারে। যেখানে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে আগামীকাল দেশ ছাড়বে জামাল-সুফিলরা। সে যাত্রায় দলের সঙ্গে যেতে পারেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ জেমি ডে।

বাংলাদেশের একাদশ: আশরাফুল ইসলাম রানা, তপু বর্মণ, ইয়াসিন খান, রহমত মিয়া, বিশ্বনাথ ঘোষ, জামাল ভূঁইয়া, মানিক মোল্লা (সোহেল রানা), মোহাম্মাদ ইব্রাহিম (বিপলু আহমেদ), সাদ উদ্দিন, নাবীন নেওয়াজ ও সুমন রেজা (সুফিল)।