মানসিক হাসপাতালের রেজিস্ট্রারের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, জরুরি সেবা বন্ধ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২০
মানসিক হাসপাতালের রেজিস্ট্রারের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, জরুরি সেবা বন্ধ

পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম হত্যা মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেবার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে।

চিকিৎসকরা মিস্টার মামুনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি নিশ্চিত করার দাবিতে সকাল থেকে হাসপাতালের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় ও সিনিয়র চিকিৎসকদের অবরুদ্ধ করে রেখে বিক্ষোভ করছে।

ফলে তাৎক্ষনিকভাবে জরুরি সেবা বন্ধ হয়ে যায় দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দানকারী শীর্ষস্থানীয় এ হাসপাতালটিতে। হাসপাতালটির সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় একজন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য।
প্রসঙ্গত ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার হাসপাতাল সংলগ্ন তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।

তাকে আটকের খবর দিয়ে পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, আনিসুল করিম হত্যা মামলায় এফআইআরভুক্ত পনের জনের মধ্যে মোট বার জনকে এ পর্যন্ত আটক করা গেছে। এর মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে মিস্টার মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে আসা রোগীদের ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এ ইড হাসপাতালে পাঠাতেন।

ওই হাসপাতালেই পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম নিহত হন। মঙ্গলবারই মিস্টার মামুনকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত নয়ই নভেম্বর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে মারা যান পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম। পরে হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তাতে দেখা যায় একদল ব্যক্তি মিস্টার করিম ওই হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে একটি রুমে নিয়ে মারধর করছেন। অভিযোগ ওঠে যে এ মারধরের সময় ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজে যারা আনিসুল করিমকে টেনে হিঁচড়ে ওই কামরাটিতে নিয়ে যায় তারা কেউই চিকিৎসক ছিলেন না। এদের মধ্যে চার জন ওয়ার্ড বয়, দুজন সমন্বয়কারী, আর কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী ছিল। এদেরকেসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশ গত দশই নভেম্বর জানিয়েছিলো। যাদের মধ্যে হাসপাতালটির একজন পরিচালক ডাঃ নিয়াজ মোর্শেদ। এদের মধ্যে দশ জনকে আদালতে হাজির করার পর আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বাবা ফয়েজ উদ্দিন বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলা করেছিলেন।