বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২০
বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

করোনায় পরিস্থিতিতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। সরকারি হিসেবে, পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও ঢাকার জাতীয় মানসিক ইন্সটিটিউটের বহির্বিভাগে মহামারির আগের তুলনায় এখন মাসে গড়ে প্রায় এক হাজার রোগী বেশী আসছে।

রাজধানীতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন ৪ হাজার ৭৪৭ জন রোগী। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৭০ এ।

চিকিৎসকরা বলছেন,দীর্ঘদিন ঘরে আটকে থাকা , স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ব্যাহত হওয়া, চাকরি ও রোজগার হারানো, ব্যবসায় ধস, করোনায় আক্রান্ত হবার আতঙ্ক, কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় কাছে থাকতে না পারার বেদনা – এসব কারণ থেকে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তারা হাসপাতালে এমন দু-একজন রোগী পাওয়া গেছে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছিল পরে আর ওই বিষণ্ণতা থেকে বের হতে পারেনি। অনেকের আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা করোনায় মারা গেছেন, কিন্তু দাফন-কাফন করতে যেতে পারেনি। এর ফলে নিজেদের মধ্যে অপরাধ বোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে তারা বিষণ্ণতায় চলে গেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন বলেন, ‘কারও আর্থিক সমস্যা, কেউ আবার জব হারিয়েছে। অন্যদিকে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে কি হবে সেটা একটা আতঙ্ক। আবার কেউ প্যানিক ডিসঅর্ডার নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকেই আছেন যারা প্রবাস থেকে চাকরি হারিয়ে এসেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়েছে।’

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারিতে পরিবর্তিত জীবনাচারে অভ্যস্ত হওয়া অনেকের জন্য কঠিন। তাই মনোবল ধরে রেখে মানসিক সুস্থতা অটুট রাখার চেষ্টা করতে হবে সবাইকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেহেতু বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে সহসাই এই বিশ্ব মুক্তি পাচ্ছে না, সেহেতু এ নিয়ে খুব বেশি আতঙ্কিত বা ভয় না পেয়ে সকলকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শতভাগ মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সময়মত খাদ্য গ্রহণ, গোসল, বিশ্রাম, নিয়মিত হাল্কা ব্যায়াম, ইতিবাচক চিন্তা—এসব অভ্যাস পালন করলে শারীরিক রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা যেমন বজায় থাকবে তেমনি মানসিক শক্তিও বজায় থাকবে।

তাছাড়া, পরিবারে পরস্পরকে সহমর্মিতা দেখানো এবং আত্মীয় বা স্বজনদের সঙ্কটে পাশে দাঁড়ালেও তাদের মনকষ্ট দূর করতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নিজেরও মনে প্রশান্তি সৃষ্টি হয়।