অকল্পনীয় দুর্ভোগে সিলেট সিলেটে পাওয়ার গ্রিডে অগ্নিকান্ড : প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩১ ঘণ্টা পর শুরু

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২০
অকল্পনীয় দুর্ভোগে সিলেট সিলেটে পাওয়ার গ্রিডে অগ্নিকান্ড : প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩১ ঘণ্টা পর শুরু

বিজয় বাংলা রিপোর্টার:

স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বিদ্যুতহীন সিলেট। সিলেট কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপ-কেন্দ্রে অগ্নিকান্ড ঘটে। এরপর থেকে বিদ্যুতহীনতার কারণে নেমে এসেছে বিপর্যয়। খাবার পানির সঙ্কটসহ সার্বিকখাত লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। থমকে যায় সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম। টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুত বিচ্ছিন্নের এমন পরিস্থিতি সিলেটের বৃহৎ জনগোষ্ঠির জন্য সৃষ্টি করেছে এক অকল্পনীয় দুর্ভোগ।
এদিকে, অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠন করা হয়েছে ৪ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এ কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এইচআরএম) রূপক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জায়েদী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেওয়া হয়েছে এমন এ নির্দেশনা। তবে গ্রিডে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন উপ-কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুমারগাঁও গ্রিড সাব স্টেশনের সম্পন্ন হয়েছে বাস বার মেরামত। এর পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য ‘টেস্ট রান’র প্রস্তুতি নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ত্রুটি ধরা না পড়লে সরবরাহ করা হবে ডিভিশন ১ ও ২-এ বিদ্যুৎ এমনটাই জানিয়েছে পিডিবি কর্তৃপক্ষ। পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে বিদ্যুতের লোড কম থাকবে। তাই একই সাথে ফ্রিজ, মোটরসহ ভারি ইলেকট্রনিক সামগ্রী চালু না করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি : অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠন করা হয়েছে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ- ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এ কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে নির্বাহী পরিচালক (ওএন্ডএম) পিজিসিবি বরাবরে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এইচআরএম) রূপক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জায়েদী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেওয়া হয়েছে এমন এ নির্দেশনা। অগ্নিকান্ডে প্রায় ৭০ কোটি টাকার ২৫/৪১ এমবিএ দুটি ট্রান্সফর্মার পুড়ে গেছে। ট্রান্সফর্মারগুলোর বাইরের অংশ পুড়লেও ভেতরে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেভি ফিডার ও বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সিলেট নগরী, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, ছাতক ও সুনামগঞ্জ রয়েছে বিদ্যুৎহীন। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে কয়েক লাখ গ্রাহককে।

মেরামত সম্পন্ন শেষে রানিং টেস্টের প্রস্তুতি : গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড সাব স্টেশনের বাস বার মেরামত সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য ‘টেস্ট রান’র প্রস্তুতি নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ত্রুটি ধরা না পড়লে ডিভিশন ১ ও ২-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা কথা। সন্ধ্যা ৫টার দিকে টেস্ট রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কুমারগাঁও প্লান্টে বিদ্যুৎ চলে এসেছে।

পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে বিদ্যুতের লোড কম থাকবে। তাই একই সাথে ফ্রিজ, মোটরসহ ভারি ইলেকট্রনিক সামগ্রী চালু না করার আহবান জানিয়েছেন তিনি। এর আগে গতকাল দুপুর ২টার দিকে গাজীপুর থেকে পাওয়ার ট্রান্সফরমার এসে সিলেটে পৌঁছায়।

অকল্পনীয় দুর্ভোগে বিপর্যস্ত জনজীবন : প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় গা-সওয়া সিলেটের মানুষ। এছাড়া সংস্কারের কারণে বিদ্যুতহীনতায় মানিয়ে চলার অভ্যাসও আছে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎহীনতা সার্বিকভাবে ঘটে না। তবে খোদ বিদ্যুত কেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এক অকল্পনীয় পরিস্থিতির মুখে গোটা সিলেটবাসী। বিদ্যুৎহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিশেষ করে নগরবাসী জানেন না এখনো কখন আসবে বিদ্যুৎ। গতকাল সাড়ে ১১টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে সিলেট নগরীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো। আগুন লাগার এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি এখনো। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। অগ্নিকান্ডের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরে পানি সরবরাহ করতে পারছে না। বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে চরম দূরবস্থার মধ্যে আছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অধিকাংশ বিপণি-বিতান ও দোকানপাট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে। পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় গতকাল দুপুর থেকেই বাসা-বাড়ি, মসজিদসহ নানা স্থানে খাবার পানিসহ দেখা দিয়েছে নানা সঙ্কট। বিদ্যুতের অভাবে অনেক গৃহস্থালীর কাজ বন্ধ হয়ে আছে। বৈদ্যুতিক সংশ্লিষ্ট সেবাও নেই। মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়ার সুযোগ না থাকায় পারিস্পরিক যোগাযোগ বন্ধ। ইন্টারনেট সেবাও থমকে গেছে। কদর বেড়েছে মোমবাতির, চড়া দামে বিক্রি করছে দোকানীরা। গতরাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার সাথে সাথে মানুষ কমে গেছে নগরীতে। এক রকম ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে নগর জুড়ে। গতকাল বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসা বাড়িতে পানি না থাকায় যে সকল স্থানে বিকল্প উপায়ে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা আছে সেসব স্থানে পানির জন্য দীর্ঘ লাইন ধরছেন জনসাধারণ।

৩১ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু : সিলেটের কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিডের ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনার দীর্ঘ ৩১ ঘণ্টা পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, জালালাবাদ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুবিদবাজার, আখালিয়া ও মদিনা মার্কেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতেও ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে।