বিজ্ঞ উলামা প্রতিনিধি দল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,একটি প্রস্তাবনা;

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২০
বিজ্ঞ উলামা প্রতিনিধি দল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,একটি প্রস্তাবনা;

খতীব তাজুল ইসলামঃ বঙ্গবন্ধু হলেন বাঙালি জাতির শ্রদ্ধার ও সম্মানের। সদ্য স্বাধীন একটি দেশের মুসলিম পরিচয় ধরে রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কায়েম করেন। ইজতেমার ময়দান দ্বীনি দাওয়াতের জন্য ওয়াকফ করে দেন। ওআইসিতে যোগদান করে কুফরকে তাক লাগিয়ে দেন। এদেশের তৌহিদী জনতা ও আলেম উলামা শেখ মুজিবুর রাহমানের অবদান এভাবে স্মরন করেন।

মরহুম শেখ মুজিবুর রাহমানের কন্যা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন ধীরে ধীরে কিছু তশকর শিরকের ভান্ডার ও খোদাদ্রোহিতার মগজ নিয়ে যারা বেড়ে উঠেছে তারা গলিতে গলিতে আনাচে কানাচে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য স্থাপনের পরামর্শ দিলো। কিছু বাস্তবায়িতও হল। ইসলামের গভীর জ্ঞান এবং ঐতিহাসিক ভাবে আদর্শ চেতনা জাগরুক রাখার ক্ষেত্রে কোনটা মানানসই সেটা সিলেক্ট করার জ্ঞান যাদের কম তারা বাহ্যিক ভাবে ভাস্কর্য স্থাপনকেই অগ্রাধিকার দেয়।

শেখ হাসিনা যখন আলেম উলামা ও দীনদারদের পক্ষথেকে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও প্রতিবাদ আসতে দেখলেন তখন জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রী পরিষদের বিশেষ মিটিং ডাকলেন। মিটিংগে অধিকাংশ সদস্য মৌলবাদের উত্থান দমনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা জানতে চান যে, ওদের প্রতিবাদ কি বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণার চোখে দেখে বলে? সবাই নীরব। একজন আমতা আমতা করে বলার চেষ্টা করলো যে মাননীয়া ওরা তো জামাত প্রভাবিত হয়ে এসব করছে!
প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন- তাহলে শুধু ভাস্কর্যের বিরুদ্ধেই বলবে কেন? আমিতো দেখিনা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অন্য কোন বক্তব্য দিতে?
শুধু অনুমান নির্ভর কথা না বলতে সকলকে সতর্ক করেন।
তখন শেখ হাসিনা দেশের পরিচিত প্রভাবশালী কয়েকজন আলেমকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন।
বঙ্গভবনে আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল যোগদান করলেন।
আল্লামা মাহমুদুল হাসান যাত্রীবাড়ির নেতৃত্বে জুনাইদ বাবুনগরিকে সাথে নিয়ে আলেম প্রতিনিধিদল এখন বঙ্গভবনে। সভায় বৃটেন প্রবাসী গরীব এতীম ট্রাস্ট ফান্ডের ফাউন্ডার, নাজাত ইসলামি মার্কাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপ্যাল বিশিষ্ঠ লয়ার শায়খ সালেহ হামিদীকেও রাখা হলো।
প্রধানমন্ত্রী আগত উলামাদের শুকরিয়া জানিয়ে চা কফির ফাঁকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য উলামাদের পরামর্শ চাইলেন।

আল্লামা বাবুনগরি বলতে শুরু করলেন হামদ ও সালাতের পর বললেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ আপনাকে, উলামাদের সাথে পরামর্শের জন্য একটি সভা ডেকেছেন। আপনি জানেন বিশ্বের সর্ব শ্রেষ্ট মহামানব সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ সা: এর কোন ইমেইজ বা ছবি নেই। মুর্তি তো দূরের কথা। গোটা বিশ্বের কত কোটি ফলোওয়ার আছে জানেন! কত মসজিদ মাদরাসা বই পুস্তক আর আশিকান আছেন হিসাব করতে পারবেন! সেই রাসুলের জন্য কোটি কোটি মুমিন জীবন কুরবান করতে প্রস্তুত। অথচ তার কোন ইমেইজ নাই; আছে আদর্শ ও জীবন্ত জীবনের নমুনা।

বঙ্গবন্ধু হলেন এদেশের ফাউন্ডার। একজন ঈমানদার ও নিবেদিত মুসলিম। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন কেউ তার নাম মুছে দিতে পারবেনা। আমরা চাই এমন কিছু হোক যাতে গোটা বিশ্ব তাকে স্মরন রাখে। কিয়ামতের দিন যেন তিনি জান্নাতে রাজ সিংহাসন লাভ করেন। লেলিন স্টালিন সাদ্দাম গাদ্দাফি সহ পৃথিবীর অসংখ্য নেতার ভাস্কর্য উপড়ে ফেলা হয়েছে। মত ও পথের উল্টা লোক আসলেই সব উল্টিয়ে দেয়। আমরা চাই আপনি এমন কিছু করুন যাতে দমলত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই উপকৃত হয়। কালে যেন তা হারিয়ে না যায়। তুফান আর ভুমিকম্প ও বন্যায় যেন তা বিলীন হয়ে না যায়। যে কাজ মানুষের জন্য কল্যান বয়ে আনবে।
শেখ হাসিনা হজরতের বক্তব্যে যেন তন্ময় হয়ে গেছেন।

আল্লামা মাহমুদুল হাসান সাহেব বলে উঠলেন যে, মাননীয়া! কওমি সনদ স্বীকৃতির রূপকার, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসাবে আপনার যেমন অবদান তেমনি আপনার মরহুম পিতাও সেই সওয়াবের অংশ পাবেন। মানুষ যখন কোন নেক কাজ করে তখন তার পেরেন্ট বা মাতা পিতা কবরে সেই সওয়াবের অংশ পায়।

আজ আপনি যত কল্যানের কাজ করবেন তার অংশ আপনার পিতাও পাবেন। যিনি দেশটি বানিয়েছেন তার আত্মা খুশি হবে। আর যত অকল্যাণ, অন্যায় আর গোনাহের কাজ হবে তার আজাবের হিস্যা তিনিও ভোগ করবেন।
আপনি কি চাইবেন যে আপনার পিতা সওয়াবের বদলে গোনাহ লাভ করুন? অবশ্যই চাইবেন না।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়ে জানতে চান যে তাহলে কি করা যায়?
আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরি নোবেল প্রাইজের উদাহারন টেনে বললেন, এমন একটি পদক গঠনের ঘোষনা দিন যাতে বিশ্ব ব্যাপী তাঁর নাম সম্মানের সাথে চলমান থাকে।
শায়খ মাহমুদুল হাসান কথার রেশ টেনে বললেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠিত হোক। যা দিয়ে দেশের শিক্ষা বিভাগে অবদান রাখা হবে। বৃত্তি উপবৃত্তি ও স্টুডেন্ট সাপোর্ট স্কিম চালু হোক।
তিনি আরো যোগ করলেন যে দেশের প্রতিটি মসজিদকে এই ট্রাস্টের শৃংখলার ভিতর এনে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন ও মসজিদ ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা এই ট্রাস্টের অধীনে চলুক।
পেছনের ডান দিকের সারি থেকে কে যেন হাত তুলছেন। তাকে ফ্লোর দেয়া হলো। তিনি বলতে আরম্ভ করলেন। মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী ও সম্মানিত উলামায়ে কেরাম। বৃটেনে একটি ট্রাস্ট আছে। নাম হল NHS TRUST ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ট্রাস্ট। গোটা ইংলেন্ড তথা ইউরোপের স্বাস্থ্য বিভাগ এই ট্রাস্ট পরিচালনা করে ।
বাংলাদেশর জন্য “বঙ্গবন্ধু জাতীয় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট” গঠন করে আপামর সকলের জন্য চিকিৎসার সুযোগ করেদিন। পাকিস্তান হেলথ কার্ড প্রতি ফ্যামিলিকে দেয়া শুরু করেছে। ১০ লক্ষ রুপির ভ্যালু এই কার্ড। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য হেলথ কার্ড ইস্যু হোক এই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। সাধারণ জনগন এই চিকিতসা সাপোর্ট পেয়ে আপনার জন্য যেমন দোয়া করবে তেমনি আপনার পিতা জাতির গর্ব বঙ্গবন্ধুর কবরেও তার সওয়াব পৌছুতে থাকবে।
তিনি আরো যোগ করলেন যে, আমরা সীমিত পরিসরে গরীব এতীম ট্রাস্ট কায়েম করে অবহেলিতদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় ৭ শতাধিক ঘর, ৭ হাজার হুইল চেয়ার, সহ নৌকা রিকশা সেলাই মেশিন, ফুড প্যাক বিতরন চলমান। শত শত অসহায় রুগীদের চিকিতসা ব্যায় আমরা বহন করছি। আমরা গোটা দেশে বিশুদ্ধ পানির টিউবল স্থাপন করছি। অন্ধদের জীবনের ঠিকানা আমরা তৈরি করছি।
অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিতসায় আমরা অবদান রেখে চলেছি। তাই “বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট” এমন ভাবে গঠন করুন যাতে গোটা দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আমাদের চ্যারিটিগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি করেন?
শায়খ সালেহ হামিদি বললেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আমি বৃটেনের একজন ইমিগ্রেশন লয়ার। মসজিদের খতিব ও টিভি ভাষ্যকার। আমার মূল পরিচয় হলো কওমি অঙ্গন থেকে দাওরা করেছি। লন্ডন কলেজ থেকে ল শেষ করেছি। যেহেতু সুযোগে আজ আপনাকে কাছে পেলাম। আমার একটি অনুরোধ, বাংলাদেশের সকল কওমি মাদরাসার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিভাগকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক লেভেলের মত সমমান স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় কল্যানে আরেকটি অবদান রাখুন।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হলেন । আলেমদের দূরদর্শি চিন্তা ও কল্যানের এই ফর্মুলা শোনে এগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গিগীকার করলেন।

আমরা আশাকরি এমন পরিবেশ সহসা দেশে তৈরি হবে এবং জাতি সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।