বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতিতে ড,আহমদ আব্দুল কাদের

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২০
বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতিতে ড,আহমদ আব্দুল কাদের

||এহসান বিন মুজাহির||

লেখক, গবেষক, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, নন্দিত ইসলামী স্কলার, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. আহমদ আবদুল কাদের (Dr. Ahmad Quader)
বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ রেজাল্ট করে নিজের যোগ্যতার প্রমান দিলেও ইসলামী আন্দোলনের জন্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করেননি। করলে তিনি হয়তো আজ সচিব, রাষ্ট্রদূত বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়ে বিলাসী জীবন যাপন করতে পারতেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকলে তিনি হয়তো মন্ত্রীও হতে পারতেন, কিন্তু ঈমান, আকিদা, ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেননি।

আমাদের কাছে এসে তিনি কি পেয়েছেন ঘৃণা, অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া? কোন দলের দালাল নয় সামান্য জমির দালালরাও তো আজ ঢাকা শহরে আজ বহু গাড়ি বাড়ির মালিক। অথচ এতো মেধাবী হওয়ার পরও গাড়ি বাড়ি দূরের কথা ঢাকা শহরে এখনো নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়তে পারেননি এ আহমদ আবদুল কাদের। এখন তিনি জীবনে পড়ন্ত বেলায় উপনিত। দালালীর সুযোগ সুবিধা আর কবে ভোগ করবেন তিনি একটু বলবেন কি মুহতারাম?
…………………………………………………………………………
জনাব ডক্টর আহমদ আব্দুল কাদের তাঁর সাথে নেতা কর্মীর সম্পর্কের পাশাপাশি আমার রয়েছে ছাত্র শিক্ষকের একটি নির্মল সম্পর্ক। তাই স্যারকে অনেক কাছথেকে নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কলীন তিনি আমাদের অর্থনীতি পড়াতেন। শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহঃ)এর ছাত্র হওয়ার কারনে উনার প্রতি আমার মধ্যে একটা বিরূপ ধারণা কাজ করছিল দারুণভাবে। তাই একজন সমালোচকের দৃষ্টি দিয়ে সুক্ষ্মভাবে আমি উনার চলন বলন লক্ষ করছিলাম সে সময় থেকে। কিন্তু উনার কিছু বিষয় আমাকে উনার প্রতি আমাকে আরো আগ্রহী করে তুলে।

আমাদের ক্লাসে শিক্ষকদের জন্য চেয়ার টেবিল ছিলো। শিক্ষকরা ক্লাসে এসে বসে পড়াতেন, চা খেতেন। কিন্তু স্যারকে দেখলাম ব্যাতিক্রম তিনি পুরো ক্লাস দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়াতেন। স্যারের বিষয় ভিত্তিক প্রতিটি লেকচার ছিলো খুবই গুছানো। ক্লাসে টাইমিংয়ের ব্যাপারেও স্যার ছিলেন খুবই সচেতন।

একটি ক্লাসে স্যার ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে যারা কাজ করেছেন, বই লিখেছেন তাদের তালিকা বলছিলেন। আমার সন্দেহের কান অপেক্ষায় আছে কখন তিনি মওদুদি সাহেবের নাম বলেন সেটার জন্য। যেহেতু আমিও অনেকের কাছথেকে শুনেছি তিনি আসলে জামাতে ইসলামীর লোক তিনি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এসেছেন আমাদের কওমীদের আন্দোলন বা ঐক্যকে বিনষ্ট করার জন্য। তিনি অনেক লেখকের নাম বললেও মওদুদী সব্য এড়িয়ে গেলেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম উপমহাদেশে আর কারা এ বিষয়ে কাজ করেছেন। তখন স্যার বইয়ের নামসহ আরো কয়েকজন লেখকের নাম বললেও মওদুদী সাহেবের নাম বলেননি। তখন আমি বললাম স্যার আমরা তো জানি মওদুদী সাহেবও ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে চমৎকার কাজ করেছেন। তখন স্যার উনার বইয়ের নাম বলে এককথায় উত্তর দিলেন এ ক্ষেত্রে তিনিও খুব ভালো কাজ করেছেন।

তখন কেন যেন মনে হয়েছে উনার প্রতি মওদুদীবাদের অপবাদটি সম্ভবত সঠিক নয়। তখন আমি ভাষা ভাষা কথাগুলোকে সাইটে রেখে উনার সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টা করলাম। উনার সম্পর্কে যত জেনেছি আমার বিরোধী মন তত মুগ্ধ হয়েছে। অবাক হয়েছে।

তিনি যখন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তখন ছাত্র শিবির জামায়াতে ইসলামী অঙ্গ সংগঠন ছিলনা। বরং জামায়াতে ইসলামী যখন শিবিরের মত একটি স্বতন্ত্র সংগঠনকে নিজেদের ছাত্র সংগঠনে রুপ দিতে চাচ্ছিল তখন আহমদ আবদুল কাদের সাহেব এর কঠিন বিরুধীতা করেন। যার কারণে জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধনে তখন সংগঠনে উনার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অনাস্থার পক্ষে বিপক্ষে ভোটাভোটি করা হয়। আর সে সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক কাজ কিছুটা শিথিল করে সারাদেশে শিবিরের সদস্যদের ম্যানেজ করে আহমদ আবদুল কাদের সাহেবের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করে। যার কারণে সংগঠনে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও অনাস্থা ভোটে তিনি সম্ভবত ৮ ভোটে হেরে যান।

আর তখনও তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথে কোন প্রকার কম্প্রোমাইজে না গিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট মাসুদ মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলামসহ শিবিরের প্রতিনিধি পরিষদের সিংহভাগসহ বিশাল একটা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় জনশক্তি নিয়ে শিবির থেকে বের হয়ে এসে যুব শিবির গঠন করেন।

আর সে সময় যুব শিবিরের কাজ করতে গিয়ে তিনি পদে পদে বাঁধার শিকার হন এমনকি চট্টগ্রামে জামায়াত শিবির কর্তৃক তাঁর উপর কঠিন হামলা করা হয়। কারণ জামায়াতে ইসলামী তখন আহমদ আবদুল কাদের ও যুব শিবিরকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করতো। আজ সেই আহমদ আবদুল কাদেরকে জামায়াতে ইসলামীর দালাল বলে ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। এটা যে তাঁর প্রতি কত বড় জুলুম!

আহমদ আবদুল কাদের সাহেব একথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে এদেশে ইসলামি বিপ্লবের জন্য আলেম উলামা ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবিদের সম্মেলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই, তাই তিনি সেই সময় বিশিষ্ট বুজুর্গ হযরত হাফেজ্জী হজুর (রহ.) সাথে গিয়ে ঐক্য গড়েন।

হাফেজ্জী হজুর রহ তাঁর যোগ্যতা ও মেধার কারণে তিনাকে খুব স্নেহ করতেন। তাঁর সেই সময়কার নাম আবদুল কাদের বাচ্চু নামটি পরিবর্তন করে আহমদ আবদুল কাদের রাখেন।তিনি হাফেজ্জী হুজুরের প্রতি অধিক ভালোবাসা কারণে তাঁর বহুল পরিচিত ও প্রসিদ্ধ নামটির পরিবর্তন মেনে নিতে বাধ্য হন।

এরপর থেকে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহঃ, ফজলুল করীম রহঃ, মুফতি আমিনী রহঃ, মহিউদ্দিন খান, খতিব ওবায়দুল হক সাহেবসহ এমন কে আছেন যে তাঁকে বুক পেতে নেননি? এর কারণ তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের জন্য তাঁর কোরবানি লক্ষ করেছেন।

তিনি বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ রেজাল্ট করে নিজের যোগ্যতার প্রমান দিলেও ইসলামী আন্দোলনের জন্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করেননি। করলে তিনি হয়তো আজ সচিব, রাষ্ট্রদূত বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়ে বিলাসী জীবন যাপন করতে পারতেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকলে তিনি হয়তো মন্ত্রীও হতে পারতেন। কিন্তু আমাদের কাছে এসে তিনি কি পেয়েছেন ঘৃণা, অবজ্ঞা আর অবহেলা ছাড়া? কোন দলের দালাল নয় সামান্য জমির দালালরাও তো আজ ঢাকা শহরে আজ বহু গাড়ি বাড়ির মালিক। অথচ এতো মেধাবী হওয়ার পরও গাড়ি বাড়ি দূরের কথা ঢাকা শহরে এখনো নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়তে পারেননি এ আহমদ আবদুল কাদের। এখন তিনি জীবনে পড়ন্ত বেলায় উপনিত। দালালীর সুযোগ সুবিধা আর কবে ভোগ করবেন তিনি একটু বলবেন কি মুহতারাম?

হা তাঁর একটাই অপরাধ তিনি আলেম না। যদি তিনি আলেম হতেন, তাহলে তিনি নিঃসন্দেহে এদেশের আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী হতেন।

এদেশে ইসলামি আন্দোলনের কাংখিত লক্ষ্যে যে লোকটি যুগ যুগ ধরে আলেমদের পিছনে দৌড়িয়ে যাচ্ছেন। খুব কাছথেকে যাঁরা তাঁকে দেখেছে
আমাদের সেই আকাবীররা তাঁকে বুকে জড়িয়ে নিলেও আমরা কেউ কেউ আজ তাঁর থেকে মওদুদীয়াতের গন্ধ আবিষ্কারের জন্য নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।

না জেনে তাঁর সমালোচনা মূখর হচ্ছি। তাঁর উপর জুলুম করছি। বিশাল হৃদয়ে এ মাজলুম মানুষটিকে এ নিয়েও কখনো মুখ খুলতে দেখিনি। হাসি মুখে এগুলো এড়িয়ে গিয়ে বলেন। ওরা তো জানে না। (মানুষের ভুল বুঝাবুঝি দূর করার স্বার্থে উনার সংক্ষিন্ত একটি জীবনী রচিত হওয়া সময়ের অনিবার্য দাবী বলে মনে করছি)সমালোচনা জবাবে সমালোচনা না করে তিনি ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন নিয়ে লিখে যাচ্ছেন শতাধিক বই। ব্যাকরণহীন আমাদের অসহনশীল ভাঙ্গাগড়ার ইসলামিক রাজনীতিতে তিনি একটি সহনশীলতার প্রলেব ও নীতিঅটল উদার রাজনীতির আবহ তৈরীর কাজ করে যাচ্ছেন।

অথচ আমাদের কেউ কেউ বলেন তিনি জামায়াতের চর। তার কারনে আমাদের কোন ঐক্য ঠিকেনা। অথচ এ দেশে ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামি ঐক্যজোট,হেফাজতে ইসলামিসহ এমন কোন বৃহত্তর ঐক্য আছে যাতে নেতৃত্ব দেননি তিনি? আর দল ভাঙ্গন বা অন্যায় আপোষহীনতার একটি দৃষ্টান্ত দেখান তাঁর বিরুদ্ধে। না হয় আমরা কি রাসূলের ঐ হাদিসের মেসদাক হয়ে যাবো না? “মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি যা শুনো তা বলে বেড়াও”।

লিখেছেন Kawsar Ahmed ভাই