ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের ________________________________ ‘ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায়, এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না’

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২০
ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের ________________________________ ‘ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায়, এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ নভেম্বর, ২০২০, ০৯:২
আপডেট: ২৯ নভেম্বর, ২০২০, ৯:২৫

ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একজন ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে, তখন এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না। ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এক ব্রিফিংয়ের সময় এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যে অনাহূত বিতর্কের সৃষ্টি করছে, তার ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

এ সময় সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ভাস্কর্য নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সংস্কৃতির প্রতি চ্যালেঞ্জ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা, চর্চা এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পবিত্র ইসলাম ধর্মের একজন নিবেদিত প্রাণ ও অনুসারী হিসেবে ইসলামের সঙ্গে জ্ঞানবিজ্ঞানের সমন্বয় করে প্রকৃত ইসলামের চর্চা এগিয়ে নিতে জনমানুষের ধর্মানুরাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণ করেছেন মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘একজন ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্বে, তখন এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে—তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

এ ছাড়া সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভাস্কর্যকে যারা মূর্তি বলে অপপ্রচারে নেমেছে, তারা নিজেরাই ভ্রান্তিতে আছে, দেশের আলেম সমাজ এবং বিশেষজ্ঞগণ এরই মধ্যে বারবার বলেছেন মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘ইসলাম আমাদের ধর্ম। এ ধর্মের বিধিবিধানে ধর্মীয় ইস্যুতে বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই। নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্ক করতে, নিষেধ করা হয়েছে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে।’

‘কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন এবং তাঁদের এমন রুচি ও ভাষা ব্যবহার দেখে তাঁদের ধর্মচর্চা ও ইসলামি রুচিবোধ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে’ বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের প্রকৃত ইসলাম চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে সবাই বিরত থাকি।’ তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, জনগণের শান্তি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা করলে জনগণই রুখে দাঁড়াবে।’

‘দেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান এবং রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো বক্তব্য বরদাশত করা হবে না’ বলে আবারও সাবধান করে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারপ্রধান আগেই বলেছেন, দেশে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন হবে না।’

তাই ‘অন্য কোনো পথ না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে’ বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

‘যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, তাদের সবাইকে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার’ আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

সুত্র:NTV,প্রকাশিত,২৮শে নভেম্ভর