ঐক্য, বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা হোক বিজয় দিবসের অঙ্গিকার,

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৭, ডিসেম্বর, ২০২০, বৃহস্পতিবার
ঐক্য, বাকস্বাধীনতা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা হোক বিজয় দিবসের অঙ্গিকার,

||মাহবুবুর রহমান তাজ||

আজ আমাদের মহান বিজয় দিবস, ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী।

আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ের সূর্য উদিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি হয় বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা প্রাপ্তি জাতির মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অনুভূতি সব সময়ের ও আনন্দের। তবে আনন্দের চেয়ে বেদনাগুলো আত্মা বিদীর্ণ করবে শতাব্দীর পর শতাব্দী। যারা স্বজন হারিয়েছেন, অগণিত মানুষেরা আত্মত্যাগ দিয়েছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন, ইজ্জত ও সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদেরকে গভীরভাবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা আমাদের ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে যারা সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করেছিলেন তাদের মধ্যে সবার তুঙ্গে ছিলেন বীর বাঙালির কিংবদন্তি ও বীরসেনানী, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব। কোটি কোটি বাঙালিকে তিনি উজ্জীবিত করেছিলেন ফলে তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন একদল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদেরকেও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য। সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর পথপরিক্রমায় স্বাধীনতার স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে সে হিসাব মেলানে ও আমাদের দায়িত্ব।

সাত কোটি থেকে এখন আঠারো কোটিতে উন্নীত হয়েছে জনসংখ্যা। যদিও আশানুরূপ উন্নতি লাভ করতে পারেনি তদুপরি উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই মাতৃভূমি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সার্বিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও সফল হচ্ছে যদিও দারিদ্রতা প্রায়শই প্রকট।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্জিত স্বাধীন দেশটিতে এগুলো প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হতে আরো বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি, পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য যা এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা বলা যায়। এমনকি দেশপ্রেমের অন্তরালে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিও তৎপর।

দেশ ও জাতির প্রধান শক্তি হলো ঐক্য। সর্বক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য । মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দল, মত,পথ ও জাতি-ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে। ফলে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো স্বাধীনতার পর আমরা কি সেই ঐক্য ধরে রাখতে পেরেছি? এর উত্তর সকলের কাছে দিবালোকের সূর্যের ন্যায় সুস্পষ্ট।

সুতরাং এদেশের সার্বিক উন্নতির জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশেষ করে ধর্মপরায়ণ মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর এর দায়দায়িত্ব অপরিসীম।
লেখক:মাহবুবুর রহমান তাজ
প্রধান সম্পাদক
বিজয় বাংলা

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 6
    Shares