আমার ছাত্রদের বলি, পড়ালেখার পাশাপাশি আরে কিছু কাজ করো।

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২১
আমার ছাত্রদের বলি, পড়ালেখার পাশাপাশি আরে কিছু কাজ করো।

|মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন মিসবাহ|

এই যেমন-
১. প্রতিদিন পাঁচ লাইন করে হলেও কিছু লিখো,
২.সকালবেলা কিছু ব্যায়াম করো,
৩. বিকালে কিছু খেলাধুলা করো,
৪. বিশুদ্ধ বাংলায় বক্তৃতা করতে প্রতিদিন অল্প অল্প চেষ্টা করো,
৫. একটা বিষয় ঠিক করে দুটো গ্রুপ করে বিতর্ক করার প্রস্তুতি নাও,
৫. পাঠ্য তালিকায় ইংরেজি না থাকলেও তা শেখার জন্য অল্প একটু সময় বের করে শিখো,
৬. একটা দেয়ালিকা তৈরী করো,
৭. গণিতে মনযোগ দাও,
৮. নিয়মিত সাহিত্য পাঠ করো,
৯. সাধারণ জ্ঞানটা আয়ত্ব করো,
১০. মাঝেমধ্যে শিক্ষা সফরে বের হও।

আমার মাদরাসায় আপাতত এই দশটা কাজ আমি চালু করেছি। এমন কি হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষককে বলে প্রতিদিন রাত ৯: ২০ থেকে ৯:৪০ পর্যন্ত ইংরেজি শেখার আয়োজন করেছি।
নিধর্রিত সিলেবাসের বাইরে এই য়ে সহশিক্ষা মূলক কার্যক্রম, এতে কি লেখাপড়ায় খুব বেশী ক্ষতি করে ফেলে?

অনেককে বোঝাতে পারিনা।
এরা কুতর্ক জুড়ে দেয়।

এরা কিলিয়ে কাঁচা কাঠাল পাকিয়ে ফেলতে চায়। কিন্তু আমি তো জানি এগুলোর স্বাদ কখনো মিষ্ট হয়না।
অনেক শিক্ষক ছাত্রদেরকে পিঠিয়ে মানুষ বানানোর থিউরি নিয়ে ছাত্রদের উপড় অনেক ব্যক্তিগত নিয়ম চাপিয়ে দেয়। আসরের পরেও মাথা গোঁজেো পড়াতে বসে।
এই নিয়ম যিনি চালু করতে চায়, দিন শেষে আমি দেখি সেই একটা আকাম করে বসে। অতঃপর বহিস্কার!

এই শিক্ষা ব্যবস্থা কবে শিশুবান্ধব হবে?
হযরত আনাস রাঃ বাল্য বয়স থেকে রাসূল সা: এর খিদমাতে ছিলেন। তাকে গড়ে তুলতে রাসূল কখনো বেত বা শাসনের পথে হাটেননি।
রাসূল সাঃ পৃথিবীর একমাত্র শিক্ষক, যিনি কোন শিশুকে বেত্রাঘাত করেননি।
এরা শিশুদেরকে নানা কায়দায় শাস্তি প্রদান করে নবীর ওয়ারিস দাবী করে জোড় গলায়! এদের শাস্তির নানা কায়দা কানুন দেখে আমি নাম দিয়েছি নূরানী পদ্ধতির শাস্তি। অর্থাৎ শাস্তিটাকে এরা প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই কানুন কওমী অঙ্গনকে ধংস করে দিবে। এরা কি জানে, প্রাইমারী লেভেলে এদেশে কোটিরও উপরে ছাত্র সংখ্যা রয়েছে। কওমী মাদরাসায় প্রাইমারী লেভেলে ছাত্র সংখ্যা কতো? কেউ বলতে পারবে?
হাইয়্যা জানে পরিসংখ্যানটা?
বেফাক বলতে পারবে?
এদারা বলতে পারবে?
তানজীম বোর্ড বা উত্তর বঙ্গের বোর্ড বলতে পারবে?

এই পশ্নটা শাহ নজরুল ইসলাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন এর সঠিক পরিসংখ্যানটা কারো কাছে নেই।
এদেশে হাস মোরগের, গরু ছাগলের এমন কি বেওয়ারিশ কুকুরের হিসাব রয়েছে।
জানতে চাইলে প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে পাওয়া যায়। মাদরাসা ছাত্রদের পরিসংখ্যানটা কারো কাছে পাওয়া যায়না!
পরিসংখ্যান থাকলে বোঝা যেতো স্কুলের ছাত্রদের তুলনায় আমরা কী পরিমাণ শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছি।
একটি রাষ্ট্রের শিশুদেরকে অবহেলা করে যারা জিহাদ করে খেলাফত কায়েমের কথা বলে, এদেরকে বলদ বললে বলদ শব্দটার অপমান হয়। এদেরকে গালি দেয়ার মতে যুৎসই কোন শব্দ আমি বাংলা ডিকশনারিতে পাইনা।

কওমী মাদরাসা বোর্ড প্রাথমিক স্তরে যে বইগুলো রচনা করেছে এগুলো দেখুন। এগুলো এতোটা ভুলে ভরা, এতোটা অপরিকল্পিত, ছাত্রদের পড়াতে আমার লজ্জা হয়। পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইটা আমি পড়াচ্ছি। বানান বিভ্রাট, তথ্যগত ভুল আর হাস্যকর বিন্যাস এক কথায় ক্ষমার অযোগ্য।
বেফাক হাইয়্যার কমিটি গঠন করে এরা রাজনৈতিক দলগুলোর ন্যায়। শিক্ষাবোর্ড আর রাজনৈতিক সংগঠন যে আলাদা এটা যদি শতাধিক বছরেও না শিখতে পারে তাহলে এরা এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কতো দূর এগুবে।

“দিলাম দোয়া কইরা, খাইবে ভিক্ষা কইরা” এই ব্যবস্থাটা আর কতো শতাব্দি চালু থাকবে আল্লাহই ভালো জানেন!

২০২১ সালে এসে কওমী শিক্ষা ব্যবস্থায় মাত্র ১% পরিবর্তন কামনা করছি।
আমার এই আশা করাটা কি বেশী রকম বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো?

লেখকঃ সম্পাদক:বিজয় বাংলা