সংবাদ সংগ্রহের সময় ২ টিভি পারসনের উপর হামলা

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২১
সংবাদ সংগ্রহের সময় ২ টিভি পারসনের উপর হামলা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শাহাপুর ও পেয়াদাপাড়া এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর কর্মী-সমর্থকরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহতরা হলেন– মাছরাঙা টেলিভিশন রাজশাহীর ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল এবং দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন রফিকুল ইসলাম।

আহত মাহফুজুর রহমান রুবেল বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্বপালন কালে আকস্মিকভাবে মুক্তার আলীর সমর্থকরা হামলা চালান। আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। হামলাকারীরা আমার মোবাইল সেটটি ভেঙে ফেলে। তারা আমার ক্যামেরাও ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় দিপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন রফিকুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। এমনকি আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে রাজশাহী জেলা যুব মহিলা লীগের এক নারী নেত্রীকেও লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা।’

তিনি আরও জানান, বাঘায় যুব মহিলা লীগের নেত্রীরা নৌকার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ওই সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা তাদের কাছ থেকে নৌকার লিফলেট নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে ফেলছিলেন। এই দৃশ্যের তারা ভিডিও ধারণ করছিলেন। আর তখনই বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ওপর আক্রমণ করে। এক সমর্থক তার গলা টিপে ধরে বলে, ‘সাংবাদিকের বাচ্চা তোকে আজ মেরেই ফেলব।’ এরপর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ব্যাপারে হামলার শিকার দুই সাংবাদিক অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর মেয়র প্রার্থী মুক্তার আলীর সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। এক বিবৃতিতে আরইউজে সভাপতি কাজী শাহেদ এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক বলেন, ‘হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন এ ব্যাপারে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’

প্রসঙ্গত, আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে অংশ নিয়েছেন শাহিদুজ্জামান শাহিদ, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তোজাম্মেল হোসেন এবং স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।