বিএনপির ৭ই মার্চের কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ, তবে বিএনপির ব্যখ্যা ভিন্ন

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৬, ফেব্রুয়ারি, ২০২১, শুক্রবার
বিএনপির ৭ই মার্চের কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ, তবে বিএনপির ব্যখ্যা ভিন্ন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রিশে মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশসহ মার্চ মাস জুড়ে উনিশ দিনের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার অংশ হিসেবে দলটি সাতই মার্চ আলোচনা সভার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেয়ার পর বিএনপি বলছে, তারা ‘আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে’ দিবসটি পালন করছে না।

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সাতই মার্চ পালনের প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক আবহ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, “ঐতিহাসিক সাতই মার্চকে যারা এত দিন নিষিদ্ধ করে রেখেছিলো তারাই এখন সাতই মার্চ পালন করবে”।

১৯৭১ সালের সাতই মার্চ ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ও তার পরও ভাষণটি অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়।

তবে প্রতি বছর সাতই মার্চে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোকেই দিবসটি পালন করতে দেখা যেতো।

এবার স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপনে বিএনপি যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে সাতই মার্চে আলোচনা সভার কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

মূলত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন প্রতিক্রিয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অনেকেই প্রশ্ন তোলেন বিএনপি কি সাতই মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের যে বার্ষিকী, সেই আঙ্গিকে পালন করতে যাচ্ছে কি-না।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “না, আমরা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করতে বা বলতে যাচ্ছিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মাস ব্যাপী কর্মসূচি আমাদের। একটি আলোচনা সভা সাতই মার্চে আছে এবং সেখানে আমাদের কথা বলবো”।

কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণের বার্ষিকী উপলক্ষেই বিএনপির আলোচনা সভার কর্মসূচি কি-না সেটি আসলে পরিষ্কারভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি দলটির নেতাদের কেউ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত অধ্যাপক ডঃ মাহবুব উল্লাহ বলছেন আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতিক্রিয়া তার চোখে পড়েছে কিন্তু এভাবে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করেন না তিনি।

“আমি জানিনা বিএনপি নতুন কিছু বলবে কি-না যা তারা ৭৭ সালের জন্মের পর থেকে বলেনি। তবে দলটি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করতেই পারে। হয়তো সাতই মার্চে হলেও সেটি শুধু সাতই মার্চে না থেকে সবকিছু নিয়েই আলোচনা হতে পারে”।

তিনি বলেন বিএনপি এখন হঠাৎ করে সাতই মার্চ নতুনভাবে পালন শুরু করলে তার কর্মীদের এর কারণও নিশ্চয় জানাবে।

“আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অনেক বিষয়কেই আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে এবং তার ঐতিহাসিক কারণও আছে। এখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে সবকিছু নিয়েই আলোচনা কিংবা মূল্যায়ন করা যেতেই পারে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে,” বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

তবে গত বুধবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে উৎসাহ ও গুরুত্বের সাথে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের আহবান জানিয়েছেন।

দলটির এবারের কর্মসূচিতে প্রথম বারের মতো ২৫শে মার্চের কালো রাত্রি উপলক্ষেও আলোচনা সভার কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী পহেলা মার্চ সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ঢাকায় আর ৩১শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন