ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৬, ফেব্রুয়ারি, ২০২১, শুক্রবার
ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:২৭ এএম

ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ)-এ জাতীয় পতাকা উত্তেলণের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্ববৃহৎ পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের এক সভায় প্রধানমন্ত্রীকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। রাজবাড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে এই মত বিনিময় সভায় জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল ইরশাদ মো. সিরাজুম মুনিরের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু মুছা আশয়ারীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে ইসলাম ও মুসলামান জাতির কল্যাণে তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)-এ জাতীয় পতাকা উত্তেলনের ঘোষণা দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন। একই সাথে তিনি নিজেকে ইসলাম ও রাসূলপ্রেমী হিসেবে আবারও সকলের সামনে প্রতিষ্ঠিত করলেন। এজন্য জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জমিয়াত মহাসচিব বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দাবীর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় ইতোমধ্যে মাদরাসা শিক্ষায় বিদ্যমান বহু সমস্যার সমাধান হয়েছে। তারপরও এখনও যেসকল বিষয়সমূহে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বিশেষ করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকগণ যুগযুগধরে বিনা বেতনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন যাদের উপযুক্ত সম্মানী প্রদানের পাশাপাশী এ শিক্ষা স্তরকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয় করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সাথে সাথে উচ্চতর মাদরাসার সাথে সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসাসমূহের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে এ বিষয়টিরও সুষ্ঠ সুরাহা করে প্রধানমন্ত্রী আলেম ওলামাদের হৃদয়ে স্থান করে নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল রেখে দীর্ঘদিন মাদরাসাসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করছে এবং পড়ালেখায় পিছিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীতা ও বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ অনেকাংশেই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যেই করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সকলের মাঝে সস্তি ফিরে এসেছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পঠদানের নির্দেশনা প্রদান করা জরুরী বলেও তারা মনে করেন। নতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্ব যখন মানুষের হাতের মুঠোয়, অতীতে যে কাজটি করতে দিন শেষ হয়ে যেত ডিজিটালাইজেশনের কারণে সেটি বর্তমানে মিনিটেই করা সম্ভব হচ্ছে। ঠিক এমন সময় দেশের মাদরাসাসমূহের প্রশাসনিক দপ্তর তথা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে নানাবিধ কার্য সম্পন্ন করতে অনেকটা বেগ পেতে হয়। দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দের প্রতি আহŸান জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সভায় অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জালাল উদ্দীন, অধ্যক্ষ মাওলানা মুহীউদ্দীনসহ রাজবাড়ি জেলার উপজেলা সভাপতি ও সেক্রেটারিগণ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন