ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষে প্রেসক্লাব রণক্ষেত্র

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১, মার্চ, ২০২১, সোমবার
ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষে প্রেসক্লাব রণক্ষেত্র

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০২১, ২:০০ এএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্রদলের প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও নেতাকর্মীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ এদিক-ওদিকে ছুটতে শুরু করে। পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধওয়ার মধ্যেই পুলিশ ২০ রাউন্ডের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ এবং বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা দফায় দফায় প্রতিবাদ জানায়। পুলিশও বেপরোয়া লাঠিপেটা করতে থাকে। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের রুখতে রাবার বুলেটও ছুঁড়তে দেখেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সহ-সভাপতি মামুন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। গতকাল রোববার ছাত্রদলের এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল।

এর আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হতে থাকে। সকাল ১১টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল জাতীয় প্রেসক্লাবের চত্বরে এসে পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। পুলিশ সোহেলকে জানিয়ে দেয় অনুমতি ছাড়া কোনো সমাবেশ প্রেসক্লাবের সামনে করা যাবে না। এ সময়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারাও ছিলেন।

পুলিশের সাথে আলোচনার পরপরই সোহেল জাতীয় প্রেসক্লাবের মূল গেইট দিয়ে বাইরে এসে ফুটপাতে নেতাকর্মী নিয়ে সমবেত হলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ। এরকম পরিস্থিতিতে পুলিশের লাঠিপেটায় ছাত্রদল কর্মীরা প্রেসক্লাব চত্বরে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। সেখান থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কেউ কেউ। পরে পুলিশের একটি দল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে লাঠিচার্জ করে এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ছুঁড়ে।

এই ঘটনার পরপর দ্বিতীয় দফায় আবারো ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের মারমুখী অবস্থানের মধ্যেও ‘মুশতাক হত্যার বিচার চাই’, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমাদের সাথে’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবলও আহত হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাপারসন মামুনসহ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রেস ক্লাবের ৫/৬ জন কর্মচারিরা আহত হন।

আহত হয়েছেন যারা: ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল জানান, দেশপ্রেমিক লেখক মোস্তাকের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে ন্যাক্কারজনক পুলিশের হামলা প্রমাণ করে স্বৈরাচার সরকার সকল মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করে ফ্যাসিস্ট কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতাকে নিয়ে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও গণমানুষের অধিকার আদায় করবে ইনশাআল্লাহ।

ছাত্রদলের আহত সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সহ-সভাপতি মামুন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কে এম সাখওয়াত হোসেন, আকতার হোসেন।

ঢাবি ছাত্রদলের মেহেদী হাসান, নূরে আলম ভূইয়া ইমন, এনামুল হক এনাম, নাসির উদ্দিন শাওন, তরিকুল ইসলাম তরিক, সালেহ মো. আদনান, বায়েজিদ হোসাইন, তৌহিদুল ইসলাম, শরীফ প্রধান, আবিদ ইসলাম খান, হাসান আবেদুর রেজা বায়েজিদ, শাহজাহান শাওন, বি এম কাউছার।

জবি ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মুজিব হল ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক। ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের মারজুক আলামিন, বাপ্পি, মারজুক আহমেদ। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সিরাজ উদ্দিন বাবু, বুরহান উদ্দিন ইসরাক, জামাল হোসেন, শাহাবুদ্দিন ইমন, শামীম আকন। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের মো. বেলাল হোসেন খান, নাজমুল হুদা, তানজিয়া আক্তার এলিনা। তীতুমীর কলেজের মাহফুজুর রহমান লিঙ্কন, মাসুদ রানা রিয়াজ, মো.ইকবাল হোসেন আসিফ। কবি নজরুল কলেজের নিখিল চন্দ্র শ্রাবণ, ইমরান মীর, ইমরান খন্দকার, মো.শওকত হোসেন, সাইয়্যেদুর রহমান সাইদ। সরকারি বাঙলা কলেজের মাসুম হোসেন, রিয়াদ জোয়ার্দার। ইডেন কলেজের শিরিন, তুলি, জান্নাতুল ফেরদৌস। সোহরাওয়ার্দী কলেজের জসিম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের রফিকুল ইসলাম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নূর হোসেন। গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জিএম হাসান। ঢাকা জেলা ছাত্রদল নেতা রাসেল খান রিপন, সজিব রায়হান, জসীমউদ্দিন রাব্বী। কুমিল্লা ছাত্রদলের এস এম আবু তালেব। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের মো. আরিফ বিল্লাহ, রায়হান, মো. রুবেল হোসেন। মাগুরা জেলা ছাত্রদলের মার্জান বিশ্বাস। মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের হুমায়ুন আহমেদ, মাহাদী ইসলাম বাবু।#

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন