এই অপসাংবাদিকতার শেষ কোথায়?

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, মার্চ, ২০২১, শুক্রবার
এই অপসাংবাদিকতার শেষ কোথায়?

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি স্বাধীন মিয়া। তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা কেরামত আলী। দিরাই থানার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনী গ্রমের স্বাধীন মিয়া ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য (মেম্বার)।

হামলা ও ভাংচুরের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর স্বাধীনকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাল্লা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন শাল্লা উপজেলার হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। চেয়াম্যানের নিজ বাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। যেখানে হিন্দুদের বাড়িঘরে বুধবার সকালে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
অথচ ঘটনার দিন দুপুর নাগাত বিবিসি বাংলা এই হামলা, ভাংচুর এবং লুঠপাটের জন্য হেফাজতে ইসলামকে একমাত্ দায়ী করে লিড নিউজ সম্প্রচার করে। এরা যে উপায়ে সংবাদ সংগ্রহ এবং স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যক্তির ভূয়া উদ্ধৃতি প্রদান করে এতে একটি বিভ্রান্তি জনমনে তৈরী হয়, যে এ ঘটনার সাথে স্থানীয় হেফাজত এবং পরেক্ষভাবে জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হক দায়ী। এর জন্য ইসলামী রাজনীতিটাই প্রধান দায়ী।

হেফজাতের উচিৎ এই দালাল মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের সহায় সম্পদ লুণ্ঠন, দখল এবং বিতাড়ণের সাথে কোন কোন রাজনৈতিক দলের ক্যাডাররা জড়িত এর পরিসংখ্যান তৈরী করলে এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হবে,সবচেয়ে বেশী দখল আওয়ামীলীগের ক্যডাররাই করেছে। পাশাপাশি এটা চ্যলােণ্জ দিয়ে বলা যায় কওমী মাদরাসা ভিত্তিক কোন সংগঠনের কোন নেতা কর্মীরা এসব ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়।
কিন্তু হলুদ মিডিয়া এবং এদের পা চাটা সাংবাদিকগুলো এসব জেনেও বারবার উলামা ও ইসলামপন্থীদের সংখ্যালঘুদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এদের ইতরামী এবং দাস সুলভ মনোবৃত্তির পরিচয় দিয়ে থাকে।

আজ যদি কোন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অশালীন কোন স্ট্যাটাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আওয়ামীলীগাররা কারো উপর হামালা করে এর দায় কি বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার উপর বর্তাবে?
মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে স্থানীয় যুবক যেভাবে জঘন্য ভাষার ব্যবহার করেছে, সে প্রেক্ষিতে স্থানীয় হেফাজতের লোক জনের সংক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নেতৃস্থানীয় লোক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা সকল কর্মসূচী স্থগিত করে নেয়। এর পর স্থানীয় আওয়ামীলীগের মেম্বার স্বাধীন তার অনুসারীসহ নিজের প্রতিদন্ধি চেয়ারম্যানের বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং এই ইস্যুকে ব্যবহার নিজের ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে।
এই ঘটনার দায় হেফাজত কিংবা জুনায়েদ বাবুনগরীর উপর কীভাবে চাপাতে পারলো এই দালাল মিডিয়াগুলো?
এই অপসাংবাদিকতার অবসান হওয়া উচিৎ। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চ্যলােণ্জের মুখে ফেলে দিবে এই চক্র। এরা এই ধরণের সুযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুনে। অতএব সাপের বাচ্চা বেড়ে উঠার আগেই এদেরকে খতম করে ফেলা দরকার। দরকার শুধু ইসলাম আর মুসলিম নয় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের স্বার্থেই।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন