হাবিবুর রহমান মিছবাহর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, মামলা ঝুলে আছে আদালতে

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৩, মার্চ, ২০২১, মঙ্গলবার
হাবিবুর রহমান মিছবাহর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, মামলা ঝুলে আছে আদালতে

ইসলামী জার্নাল : নানা ধরণের লোভ-লালসা দেখিয়ে ২ সন্তানের জননী নাঈমা জান্নাতের সাথে পরকীয়া প্রেম করার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহ (কুয়াকাটা)-এর বিরুদ্ধে। এবিষয়ে গত ১৬/১১/২০২০ ইং তারিখ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত (খিলগাঁও আমতলী আদালত)-এ নাঈমা জান্নাতের স্বামী হাফেজ খলিলুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং সি.আর ২৬২/২০২০।

এবিষয়ে হাফেজ মাওলানা খলিলুল রহমান বলেন, আমার স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান নিয়ে আমার সংসার ভালোই ছিল। আমার সংসারে কোন অশান্তি ছিল না। বিগত অনুমান ২ বছর পূর্বে ফেইসবুকে আমার স্ত্রী নাঈমা জান্নাতের সাথে হাবিবুর রহমান মিছবাহ পরিচয় হয়। সেখান থেকেই তাদের কথোপকথনের এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে তার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে এবং নানা ধরণের লোভ-লালসা দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার আমার অজানতে আমার স্ত্রী নাঈমা জান্নাত ছোট ছেলেটাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়, তাকে বাসায় না পেয়ে আমি আমার এবং তার নিকট আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করে কোন খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে ফোন লোকেশন ট্রাকিং এর মাধ্যমে দেখতে পাই সে রায়েরবাগে আছে। সেখানে গিয়ে জানতে পারি এখানে মিছবাহর বন্ধু মুসাদ্দেকের বাসা। অনেক খুঁজাখুঁজি করে তাকে মিছবাহর বন্ধুর বাসায় পেয়ে আমার সাথে করে আমার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসি। খোঁজাখুঁজির মধ্যে ২দিন পার হয়ে যায়,এই দুইদিন মিসবাহ আমার স্ত্রী নাঈমা জান্নাতকে নিয়ে তার বন্ধুর বাসায় অবস্থান করে। বাসায় আসার পরে তার হ্যান্ড ব্যাগে দামি একটি স্বর্ণের আংটি দেখতে পায় এবং তাকে আংটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে এটি একটি সাধারণ আংটি বলে চালিয়ে দেয়। পরে জানতে পারলাম আংটি এটি মিছবাহ দিয়েছে এবং মোবাইলসহ বিভিন্ন সময়ে নাঈমা জান্নাতকে সে অনেককিছু দিয়েছে। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর নাঈমা জান্নাত সে তার ফেইসবুকে আত্মহত্যামূলক একটি পোস্ট দেয় এবং ৯ নভেম্বর পুনরায় হাবিবুর রহমান মিছবাহের কাছে চলে যায়। পরে আমি একদিন মিছবাহর অফিসে যাই এবং সেখানে গিয়ে মিছবাহর মুখে জানতে পারি আমার ডিভোর্সের কথা। সে বলে আপনার স্ত্রী তো আপনাকে ডিভোর্স দিয়েছে।
এবিষয়ে জানতে মুসাদ্দেকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মিছবাহ সাহেব আমার বন্ধু নয়, তিনি একজন ওয়ায়েজ হিসেবে আমাদের একটা প্রোগ্রামে আসে এবং সেখান থেকেই তার সাথে পরিচয়। সেই পরিচয়ের সুবাদে সে একদিন ফোন দিয়ে একটি বাসা ভাড়া করে দেওয়ার কথা বললে আমি তাকে ব্যবস্থা করে দেই, এরমধ্যে একদিন সে আমাকে ফোন দিয়ে বলে আপনার ভাবিকে নিয়ে আজ আপনার বাসায় বেরাতে আসবো,আমি সম্মত্তি দিলে সেদিনই ভাবিকে নিয়ে চলে আসে। তখনো আমি জানতাম না সে একাধিক বিয়ে করেছেন। পরে জানতে পারি যে, মেয়েটি অন্যের স্ত্রী। এরপর আমি মিছবাহকে কল দিয়ে অনেক রাগের ভাষায় কথা বলি।
এ ব্যাপারে নাঈমা জান্নাতের বড় ভাইয়ের সাথে কথা হলে সে মিছবাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সে একজন অপরাধী। চোর কখনো নিজের অপরাধ স্বীকার করে না, চোরের মতই থাকে। সে অপরাধী, অপরাধ করছে কিন্তু সে এটা স্বীকার করতেও রাজি না। সে মানুষের কাছে বলে বেড়ায় আমি যে এসব করছি কোন প্রমাণ আছে?
তিনি আরো বলেন, নাঈমা কোথায় আছে আমরা এখনো জানিনা কিন্তু সে নাঈমাকে সাথে নিয়ে কোর্টে হাজির হয়। ওর টাকা আছে টাকা দিয়ে সবকিছু হাত করার চেষ্ঠা করে।
হাবিবুর রহমান মিছবাহ মুঠোফোনে বলেন, এবিষয়ে কোর্টে মামলা হয়ছে, যা বলার আমি কোর্টেই বলছি। আর কাউকে কিছু বলব না। সে মামলা দিয়েছে আমার নামে, কোর্টে এটার ফয়সালা হবে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন