অমর একুশে বইমেলা ২০২১: বইমেলায় অনলাইনে বিক্রি বেশি হচ্ছে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৫, মার্চ, ২০২১, বৃহস্পতিবার
অমর একুশে বইমেলা ২০২১: বইমেলায় অনলাইনে বিক্রি বেশি হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক: বাংলা একাডেমিসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ মেলা প্রাঙ্গণে চলছে হাজারও মানুষের পদচারণা। মেলার সপ্তম দিনে এসে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি বই বিক্রির পরিমাণ; তবে বেড়েছে অনলাইনে বই বিক্রির অর্ডার। বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলছেন, চলমান করোনা পরিস্থিতি ও প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে দর্শনার্থীর খরা কাটলেও অনেক ক্রেতাই এখন নিয়মিত মেলায় আসছেন না। তবে এসব ক্রেতা নতুন বইয়ের ব্যাপরে খোঁজ রাখছেন নিয়মিত এবং অনলাইনে অর্ডারও করছেন।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মেলার ৭ম দিনে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৪টি নতুন বই। গল্প ১৭, উপন্যাস ২৩, প্রবন্ধ ২৩, কবিতা ৭৫, গবেষণা ৫, ছড়া ৪, জীবনী ৫, মুক্তিযুদ্ধ ৪, বিজ্ঞান ৪, ভ্রমণ ২, ইতিহাস ৬, রাজনীতি ১, চি./স্বাস্থ্য ৪, বঙ্গবন্ধু ১, রম্য/ধাঁধা ১, ধর্মীয় ১, অনুবাদ ৪, সায়েন্স ফিকশন ১, অন্যান্য ১৩-সহ মোট ১৯৪টি।

অনলাইনে বিক্রির বিষয়ে কথা প্রকাশনীর প্রকাশক মো. জসীম উদ্দিন জানান, দেশে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই মেলা প্রাঙ্গণে না এলেও অনলাইনে বেড়েছে তার প্রতিষ্ঠানের বই বিক্রির পরিমাণ। অনলাইলে বই বিক্রির সংখ্যা জানতে চাইলে জসীম উদ্দিন বলেন, মেলা প্রাঙ্গণের চাইতে প্রায় তিনগুণ বেশি বই তার প্রতিষ্ঠান অনলাইনে অর্ডার পেয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে মেলায় বই বিক্রির পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করেন এই প্রকাশক। বুধবার মেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক মো. শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এই মুহূর্তে অনলাইনে বই বিক্রির পরিমাণ বেশি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মেলায়ও বৃদ্ধি পাবে।

[১] অস্কার মনোনীত ও দ্যা গোল্ডবার্গসের স্টার জর্জ সেগাল মারা গেছেন ≣ [১] ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না: মাউশি সচিব ≣ আদার ঔষধি গুণ
এবারের মেলায় কী ধরনের বই বেশি আসছে এবং পাঠকের চাহিদা প্রসঙ্গে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বরাবরের মতো এবারও প্রায় সব ধরনের বই রয়েছে। তবে গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাসের পরিমাণ একটু বেশি। এছাড়াও প্রাধান্য রয়েছে কবিতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাধর্মী বইয়ের। এ বিষয়ে কথা প্রকশনীর প্রকাশক জসীম উদ্দিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানেও গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতিবিষয়ক প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী বই বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, এখনকার তরুণ পাঠকের চাহিদায় কবিতা ও উপন্যাসসহ রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত প্রবন্ধ ও ইতিহাস, বিজ্ঞান ও দর্শন এবং ধর্মীয় বই। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে এবার মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই এসেছে কথা প্রকাশনাসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে বলে জানান তিনি।

এদিকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিনই নামছে হাজারও মানুষের ঢল। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে বইপ্রেমীদের অড্ডা। বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে চলে লেখক ও পাঠকের অটোগ্রাফ কিংবা সেলফি পর্ব। আর সূর্য ডুবে গেলে হরেক রকমের আলোয় আরও স্পষ্ট হতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্টলগুলো। নিয়ন আলোতেই গুচ্ছে গুচ্ছে ভাগ হয়ে বিভিন্ন বই ও তার বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ দিন বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সেমিনার কক্ষে চলমান ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ বিষয়ে এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুলস্নাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব (ভারপ্রাপ্ত) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী, ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’-এর সদস্য-সচিব ডক্টর জালাল আহমেদ, বাংলা একাডেমির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল পাল, পরিচালক নেছারউদ্দিন আইয়ুব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

সভায় গত এক সপ্তাহে চলমান বইমেলার সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে কতিপয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত বইমেলা চালু রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ক্রমবর্ধমান করোনা পরিস্থিতিতে বাংলা একাডেমি, প্রকাশকবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে মেলায় আগতদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ এবং মাস্ক ব্যতীত বই বিক্রি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়। সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণে কেউ যেন মাস্ক ব্যতীত ঘোরাফেরা না করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত দলের পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রচার মাইকে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হবে। – যায়যায়দিন

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন