বৃদ্ধাশ্রম থেকে একজন শিক্ষকের আহাজারি!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৫, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার
বৃদ্ধাশ্রম থেকে একজন শিক্ষকের আহাজারি!

নাঈম আহমদঃ চট্টগ্রামের সেলিম হোসেন। ৩২ বছর শিক্ষকতা করেছেন। ২ মেয়েকে লেখা-পড়া করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। গত ৫ বছর ধরে এখানেই আছেন তিনি। এর মধ্যে একবারের জন্য হলেও তাকে দেখতে আসেনি তার সন্তানরা অসুস্থ এই বৃদ্ধের চাওয়া, মৃত্যুর আগে যেন অন্তত একবার হলেও তার সন্তানরা তাকে দেখতে আসে।

অসহায় পরিবারহীন এই মানুষগুলোকে জ্বীবনের অন্তীম সময়ে পরম মমতায় আশ্রয় দিচ্ছে CHILD & OLD AGE CARE

করোনার এই সংকটকালীন মুহুর্তে প্রতিটি দিন পার করতে হচ্ছে দেশের এই বৃহৎ আশ্রমকে।

উক্ত বৃদ্ধাশ্রমের মালিকের ভাষ্যে, “আমি মূলত সেলিম কাকাকে (চাচাকে) চার/পাঁচ বছর আগে চিটাগাংয়ের মাজারের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আসি। সেলিম কাকাকে উনার দুই মেয়ে মাজারের সামনে বসিয়ে রেখে আর ফিরে আসে নাই। উনারা উনাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। তারপর আমার আশ্রয়ে চলে আসে সেলিম কাকা। এরকম সেলিম কাকার মতো এ পর্যন্ত প্রায় ৫২৫/৫২৬ বৃদ্ধ মা-বাবাকে রাস্তা থেকে তুলছি। এর মধ্যে আমি কিছু তুলছি, কিছু আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, কিছু পুলিশ-প্রশাসন। বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে বৃদ্ধ মা-বাবারা আসে”।

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতি বছরই অপেক্ষায় থাকি মূলত রোজার এবং তার উপরেই নির্ভর করি। রোজার সময়ে আমাদের একটি বড় সহযোগিতা আসে। মানুষ ধান দেন, সহযোগিতা করে, যাকাত দেয়, ফিতরা দেয়। তো একবৎসরও আশা করতেছি যে, মানুষ আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। মানুষ আমাদেরকে ধান দিবে, যাকাত-ফিতরা আমদেরকে দিবে”।

তিনি বলেন, “দিন দিন অনেক মা-বাবারা আসছেন। অনেককে সন্তানরা ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক থেকে যাচ্ছেন”।

তিনি নিজেদের আবাসনের সংকীর্ণতা তুলে ধরেন ও সর্বক্ষেত্রে মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন। তিনি বলেন, “সত্যিকার অর্থে সাহায্য পাওয়ার মতো মানুষ তারাই। কারণ তারা পরিবার ও সন্তান-সন্ততি থেকে বিতাড়িত। এদের জীবনেও ভালো পর্যায় ছিল, আজকে খারাপ পর্যায় চলে আসছে। সেলিম কাকাও কিন্তু শিক্ষক ছিলেন। ৩২ বছর শিক্ষকতা করেছেন। এমনিভাবে অনেক মা-বাবা এমনও আছেন— যাদের সন্তান ডাক্তার, প্রবাসী”।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন