ময়মনসিংহে বুরো ধান ফলন হ্রাসের আসঙ্খা:জমিতে পানি রাখার পরামর্শ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার
<strong>ময়মনসিংহে বুরো ধান ফলন হ্রাসের আসঙ্খা:জমিতে পানি রাখার পরামর্শ</strong>

ময়মনসিংহ থেকে আবুল হাসান হাশেম,ব্যুরো রিপোর্টার |

সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহে বোরধানের আগমনী বার্তায় উদ্বেলিত কৃষক।বাতাসে দুলছে কাচা আধপাকা ধান।হাইব্রিড সহ আগাম জাতের ধানের জীবনকাল সংক্ষিপ্ত হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই ধান মাড়াইয়ের উৎসবে যোগ দিত ছেলে বুড়োর দল।সর্বোপরি বোরধানের আবাদে যখন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে কৃষক, তখনই প্রকৃতির বিরুপ আঘাতে নষ্ট হয়েছে কৃষকের সোনালী ফসল।হিট শকে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের শীষ।বিবর্ণ হয়ে গেছে সবুজ ধানক্ষেত।চিটায় রুপান্তরিত হয়েছে সোনালী ধান।শঙ্কা দেখা দিয়েছে উৎপাদন হ্রাসের।আশানুরুপ ফলন না পাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে কৃষক।

কৃষকদের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে,গত রবিবার এবং সোমবার হঠাৎ করে ময়মনসিংহের নেত্রকোনা,কিশোরগজ্ঞের হাওর অঞ্চল সহ বিভিন্ন উপজেলায় দমকা হাওয়ার সাথে গরম বাতাস প্রবাহিত হয়।ঘন্টাখানিক স্থায়ী এই বাতাসেই পুড়েছে কৃষকের কপাল।চিটা হয়ে গেছে কৃষকের ধানের শীষ।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন,এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড ধানের ফলন ভালো হবে বলেই মনে হচ্ছিল।স্বল্প জীবনকাল(১৪০দিন)এবং খেতে সুস্বাদু ,বাজারে চাহিদা থাকায় বেশী করে বিআর ২৮ ও ২৯ ধানের চাষ করেছি।এখন দেখছি এই ধানগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।যে অবস্থা দেখছি তাতে হতাশা বাড়ছে ।যা খরচ করেছি তাই আসবেনা।কোন কোন জমিতে যা দেখছি কাঁচি হাতে যাবার দরকারও নেই।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে মোট বোরধান আবাদের লক্ষমাত্রা সম্বন্ধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক কর্মকর্তা মোছাঃনাসরিন আক্তার বানু জানান,চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ২ লক্ষ ৬১ হাজার ১শত হেক্টর।তবে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭ শত ৮০ হেক্টর জমিতে।

আবাদের ক্ষেত্রে লক্ষমাত্রা অর্জিত হলেও শঙ্কা জেগেছে উৎপাদন লক্ষমাত্রা নিয়ে।তবে কৃষকদের চিন্তিত না হয়ে হিট শকের হাত থেকে ফসল রক্ষায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়েছে তারাকান্দা কৃষি অফিস।তারাকান্দা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কাওছার আহমেদ খাঁন বলেন,ধানে চিটা হবার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হলো অসহনীয় তাপমাত্রা।যদি তাপমাত্রা কোন কারণে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস. বা তার উপড়ে হয় তবে হিট শকে ধানে চিটা হতে পারে।ফুলফোটার সময় যদি ১/২ ঘন্টা এমন গরম বাতাস থাকে তবে চিটা হতে পারে।এর কারণ হলো প্রচন্ড গরম ঝরো বাতাসের কারণে গাছ থেকে পানি প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় বেড়িয়ে যায়।এর ফলে গর্ভধারণ,পরাগায়ণ ও চালের বৃদ্ধিতে সমস্যা হয়।গত কয়েকদিন আগে যে গরম বাতাস বয়ে গেছে তাতে এমনটিই ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য তিনি পরামর্শ প্রদান করেন যে, জমিতে সবসময় পর্যাপ্ত পানি রাখতে হবে।মিউরেট অব পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম মিশিয়ে ৫ শতাংশ হিসেবে স্প্রে করা যেতে পারে।এবং প্রয়োজনে ম্যাটিভো ৬ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।এসময় তিনি আরও বলেন,রোরধানের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত মারাত্নক।ব্লাস্ট সহ আরো কিছু রোগে বোরধান নষ্ট হতে পারে ।তাই সরকারী কৃষি অফিস এর সাথে কৃষকরা যোগাযোগ করে পরামর্শ ও সহযোগীতা নিলে ভালো হয়।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন