নাস্তিকতার জার্নিঃ পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৮, এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার
নাস্তিকতার জার্নিঃ পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যে

কখনো প্রশ্ন করেছি কী নিজেদেরকে মুসলমানদের সন্তান কেন নাস্তিক হয়?

আজকের যুগে আমাদের মুসলিম দেশগুলোর অন্তত অর্ধেক নাস্তিকের নাস্তিকতার দিকে ধাবিত হওয়ার সফর শুরু হয়েছে, আমরা হুজুরদের নিম্নমানের চলাফেরা ওঠা বসা আচার আচরণ, কথায় কাজে অমিল, নিম্নমানের ইন্টেল্লেকচুয়াল লেভেল, জ্ঞান বিজ্ঞান বিমুখতা, যুগের অনুপযোগিতা, নারীসমাজকে তাচ্ছিল্য করা, বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী বর্ণনা, নিজেদের হুজুর শায়খদের অন্ধ অনুকরণ ও অন্ধভাবে বিশ্বাস, আনসায়েন্টিফিক কথা বলা, বিজ্ঞানকে শত্রু মনে করা, মিম্বরের মানুষের সাথে সাধারণ মানুষের দূরত্ব, চিন্তা চেতনায় দূরত্ব, মিম্বরের মানুষদের বদ আমল, বদ আখলাক, অনৈক্য, নিজেদের মাঝে গালাগালি, হিংসা- বিদ্বেষ, ঘৃণার চাষাবাদ ও অন্তঃদ্বন্দ ইত্যাদি দেখে দেখে। বাকি অর্ধেক নাস্তিক হয়েছে হয়ত পারিবারিক শিক্ষার অভাবে, সঠিক শিক্ষা না পাওয়ার কারণে। কিংবা স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে বিভিন্ন বই পড়ে, অন্য নাস্তিকদের সংস্পর্শে গিয়ে৷ ইউনিভার্সিটি -কলেজের নাস্তিক প্রফেসরদের সংস্পর্শে গিয়ে৷ বিদেশী নাস্তিক লেখকদের বই পড়ে কিংবা ভিডিও দেখে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আনুমানিক ১৮০০ সাল থেকে ইউরোপের মানুষ আস্তে আস্তে খ্রীষ্টান ধর্ম ছাড়তে শুরু করে মূলতঃ চার্চের মানুষের অত্যাচারে, খ্রীষ্টান প্রিস্টদের অত্যাচার অবিচার, জ্ঞান বিজ্ঞান বিমুখতা, বিজ্ঞানকে শত্রু মনে করা, অযৌক্তিক কথাবার্তা বলা ও প্রচার করা, সময়ের চাহিদাকে না বুঝা, অযথা ফতোয়াবাজী, ধর্মকে ব্যবসার উপকরণে পরিণত করা, আখলাক বিবর্জিত কাজ ইত্যাদি দেখে দেখে। আজকের ইউরোপ আমেরিকার ধর্মহীন সমাজ হচ্ছে তারই চূরান্ত রুপ। আজ আমরা সকল মতবাদের হুজুররা, পীর-মাশায়েখরা যা করছি এক্সেক্টলি তাই করত খ্রীষ্টান প্রিস্ট পোপরা৷

আমাদের দেশগুলোতেও অলমোস্ট একই প্রক্রিয়ায় সকল কিছু চলছে। এখানে এই কথা বলার সুযোগ নেই যে, আমার মতবাদের আলিম এমন না। না কখনোই একথা বলার সুযোগ নেই। no exception at all. সকল মতবাদের হুজুরেরাই (আলিম উলামা ও পীর-মাশায়েখ) সমান দায়ী। তবে সব মতবাদের মাঝেই অল্প দু চারজন আলিম/মাশায়েখ হয়ত এসবের ব্যতিক্রম আছেন। তাদেরকে স্যালুট, ধন্যবাদ, জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

কৃতঃ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন