রামাদ্বান ০৪ | মাহে রামাদ্বানের এত গুরুত্ব কেন?

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৭, এপ্রিল, ২০২১, শনিবার
রামাদ্বান ০৪ | মাহে রামাদ্বানের এত গুরুত্ব কেন?

লেখকঃ আবুল কাশেম সুমন।

এ পৃথিবীর সব কিছুতেই আমরা কম-বেশী গুরুত্ব খুঁজি। যেমন, সম্পদ, জমিন, পশু, পাখি, মানুষ ইত্যাদির মধ্যে শ্রেষ্ঠ/গুরুত্ব রয়েছে। তেমনি সময়, দিন, মাসের মধ্যে ও গুরুত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

আমরা জানি, ২৪ ঘন্টায় ১ দিন। এই এক দিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল আছর। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা নামাজসমুহ ও মধ্যেবর্তী সময়ের সালাতের প্রতি যত্নবান হও (অর্থাৎ আছরের নামাজের)। সুরা বাকারা- ২৩৮ ।

৭ দিনে ১ সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হল শুক্রবার অর্থ্যাৎ (জুমআবার) এই জুমআ সম্পর্কে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ, যখনই জুমআর আযান হয়ে যাবে, তখন দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও (মসজিদে চলে যাও) নামাজের জন্য, ইহা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। সুরা জুমআ – ৯। হাদীস শরীফে রাসুল (সাঃ) জুমআকে গরীবের জন্য হজ্ব বলেও অভিহিত করেছেন।

১২ মাসে ১ টি বছর। এই ১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ, উত্তম মাস হচ্ছে রামাদ্বান মাস, এ মাসের চাঁদ আকাশে উদিত হওয়ার সাথে সাথে দোযখের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেহেশতের দরজা খোলে দেওয়া হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, ছাওয়াব কাজের নেক দেওয়া হয় অন্যান্য মাসের চেয়ে ৭০ – ৭০০ গুণ বা তার চেয়েও অধিক। এ নিয়ে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে. রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১৫৫১)

শুধু তাই নয় কবরবাসীকে ১ মাসের জন্য ছুটি ও প্রদান করা হয়। এ মাসে এত এত ছাওয়াব এত সুযোগ দেওয়া হল কেন, এবং এ মাস এত সম্মানী কেন? এ সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল ফোরকানে ঘোষণা করা হচ্ছে, এই মাহে রামাদ্বান এমন একটি মাস, যে মাসে মানবজাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী আল কোরআন। সূরারা বাকারা- ১৮৫ নং আয়াত।

এই মাহে রামাদ্বান মাসের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময়, ফযীলতপূর্ণ, অতি উত্তম রাত হল শবে কদর। এই শবে কদর নিয়ে পবিত্র আল কোরআনে পুরো ১ টি সূরাই নাযিল হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এ রাতেই কোরআন নাযিল করেছি। লাইলাতুল কদর হচ্ছে, হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, এবং এ রাতে আল্লাহর হুকুমে দলবদ্ধ হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরেশতাদের নিয়ে জিব্রাইল (আঃ) পৃথিবীতে নেমে আসেন। শান্তিময় এই রাত ফজর পর্যন্ত। সুরা কদর-১-৫ নং আয়াত।

এ রাতে কোরআন নাযিল হওয়াতে রাতের মূল্য বেড়ে গেল; এ মাসে পবিত্র কোরআন নাযিল হওয়াতে এ মাসের দাম বৃদ্ধি পেল। এই কোরআন যাদের উপর নাযিল হয়েছে, তারা যদি এ মহা সম্মানিত কিতাব নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে আমলের মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারে। তাহলে তারা কি সম্মানী, দামী হবে না? হ্যাঁ, অবশ্যই হবে।

এ বিষয়ে মহান রাব্বুল আলামিন বলেন- যদি তোমরা আমার হেদায়াত (কোরআনকে) অনুসরণ কর তাহলে ইহকাল ও পরকালে তোমাদের ভয় ও কোনো চিন্তা থাকবে না। সূরা বাকারা- ৩৮।

তাই আসুন আমরা এই মহিমান্বিত পবিত্র কোরআন নাযিলের মাস, মাহে রামাদ্বানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই ব্যক্তিগত,সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ও আন্তঃর্জাতিক জীবনে কোরআন মেনে চলব। এ সমাজ ও রাষ্ট্রকে কোরআনের রঙ্গে রঙ্গিন করে তুলব। আর তাই যদি করতে সচেষ্ট হই, আমরাও অবহেলিত, পদদলিত থেকে হব সম্মানীত, দুনিয়ার সকল তাগুতি শক্তি হবে নিমজ্জিত।।মহান রব তা প্রাণপণে চেষ্টা করার তাওফিক দান করুক— এই প্রত্যাশায়।

আবুল কাশেম সুমন,
বি,এ,ডিগ্রী, (ফাযিল) এম,এ,(কামিল).
প্রধান শিক্ষক, শাহ আব্দাল (রহঃ) ইসলামি একাডেমী এন্ড হাই স্কুল, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন