মহীসোপানঃ বাংলাদেশের যে দাবিতে ভারতের আপত্তি

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার
<strong>মহীসোপানঃ বাংলাদেশের যে দাবিতে ভারতের আপত্তি</strong>

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ কন্টিনেন্টাল শেলফ বা মহীসোপানের যে দাবি করেছে, তাতে আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণসংক্রান্ত কমিশনে (সিএলসিএস) ভারতের বক্তব্য, সমুদ্রপৃষ্ঠের যে বেসলাইনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, তা ঠিক নয়, সেটি বরং ভারতের মহীসোপানের অংশ।

ভারতের আগে এ বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মিয়ানমার, তবে ভারতের মতো তারা আপত্তি জানায়নি।

বাংলাদেশ বলছে, ভারতের এই আপত্তির আইনগত কোন ভিত্তি নেই বলেই তারা মনে করে। এই বিষয়ে তারা সিএলসিএসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে।

মহীসোপান কী?

কন্টিনেন্টাল শেলফ বা মহীসোপান হচ্ছে সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর সমুদ্রের দিকে পানির নীচে যে ভূখণ্ড ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে যে নেমে যায়, তাকে ভূগোলের ভাষায় বলা হয়ে থাকে মহীসোপান, যাকে উপকূলীয় ওই দেশের বর্ধিত অংশ বলে ধরা হয়ে থাকে।

১৯৫৮ সালের কনভেনশন অনুযায়ী, সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর স্থলভাগের বেসলাইন থেকে লম্বালম্বিভাবে সমুদ্রের ২০০ মাইল পর্যন্ত এলাকার মালিকানা সম্পূর্ণ ওই দেশের। একে বলা হয় এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক অঞ্চল (ইইজেড) বা একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে সমুদ্রের পানি ও তলদেশের ওপর ওই দেশের একছত্র অধিকার থাকে। সেখানকার সমুদ্রে অন্য কোন দেশ মাছ ধরতে পারে না।

এরপর থেকে দেড়শ মাইল পর্যন্ত সীমার সমুদ্র তলদেশের খনিজ সম্পদের মালিক হবে ওই দেশ, তবে পানিতে থাকা মাছ ধরতে পারে অন্য দেশও।

এই পুরো সাড়ে তিনশো মাইলকে ওই দেশের মহীসোপান বলা হয়।

দেশের আকার ভেদে এই মহীসোপানের দৈর্ঘ্য কমবেশি হতে পারে। যেমন অস্ট্রেলিয়ার মহীসোপানের আয়তন অনেক বেশি।

বাংলাদেশ নিজের ভূখণ্ড থেকে লম্বাভাবে সাড়ে তিনশো মাইল এলাকার মহীসোপান নিজের বলে জাতিসংঘে দাবি করেছে।

সূত্রঃ bbc news

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন