ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নুরুর বিরুদ্ধে ‘সংগীতশিল্পীর’ ডিজিটাল আইনে মামলা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার
<strong>ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে নুরুর বিরুদ্ধে ‘সংগীতশিল্পীর’ ডিজিটাল আইনে মামলা</strong>

নুরুল হক নুর – ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ইলিয়াস হোসেন নামের একজন, যিনি নিজেকে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

রোববার (১৮ এপ্রিল) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে নুরুল হকের বিরুদ্ধে এ নিয়ে দুটি মামলা হলো। শাহবাগ থানায় অপর মামলাটি করেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো: আশরাফুল ইসলাম সজীব।

পল্টন থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল নুরুল হক তার ফেসবুক পেজ থেকে বক্তব্য দেন। এতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে, এমন আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

তিনি এজাহারে নুরুল হকের বক্তব্যের কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, নুরুল হকের ওই বক্তব্যের নিচে অনেকে লাইক দিয়েছেন ও মন্তব্য করেছেন। ওই সব মন্তব্যের ভেতর ‌সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য আছে।

ইলিয়াস হোসেনের অভিযোগ, নুরুল হকের এই বক্তব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কর্মী-সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত হানে। নুরুল হকের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

ইলিয়াস আরো বলেন, নুরুল হক ও তার সহযোগী-সমর্থকদের আইনের আওতায় আনা গেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কর্মী-সমর্থকদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এর আগে একই অভিযোগে রোববার শাহাবাগ থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে নূর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা প্রকৃত মুসলমান নয়। প্রকৃত কোনো মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না।’

নুরের এমন বক্তব্যে আওয়ামী সমর্থন করা মুসলমানদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাটি রুজু করার আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়েছে, লাইভে নুর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘চাঁদাবাজ’, ‘মাদক চোরাকারবারি’, ‘ধোঁকাবাজ’, ‘বাটপার’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) সপ্তাহে একদিন নামাজ পড়েন, কিন্তু কখনো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন না। তারা ঘুষ নেয়, চাঁদাবাজি করে, মাদক চোরাচালান করে এবং টেন্ডার ব্যবসা করে। আবার নিজেদের মুসলমান দাবি করে। কোনো মুসলমান আওয়ামী লীগের সমর্থন করতে পারে না। যারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করে, তারা প্রকৃত মুসলমান নয়।’

এদিকে মামলা হওয়ার পর নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

রোববার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চান তিনি। এ সময় ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে অবশ্যই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আছেন, হিন্দু-খ্রিস্টান ভাইবোনরা আছেন। আমি আওয়ামী লীগের বা আওয়ামী সমর্থকদের ঢালাওভাবে আক্রমণ করে কোনো কথা বলিনি।

তিনি আরো বলেন, আমার লাইভের বক্তব্যের জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। স্বাভাবিকভাবে আমার যদি ভুল হয় আমার জায়গা থেকে ১০০ বার ক্ষমাপ্রার্থী থাকব। আমার ভুল হতেই পারে, আমি মানুষ, ফেরেশতা না।

মামলা হওয়ার পর ফেসবুক লাইভ ডিলেট করে দেয়া প্রসঙ্গে নুরু বলেন, আমি সানন্দে অনেকের পরামর্শ গ্রহণ করি। আমাকে অনেকে বলেছেন, গত ১৬ মার্চের লাইভে যা বলেছি একজন নেতৃত্বশীল জায়গা থেকে আমাকে একটু সহনশীল হতে হবে। এমনকি শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করে কোনো কথা বলা আমার জায়গা থেকে কাম্য নয়।…তাই আমি আমার ফেইসবুক পোস্ট লাইভ ডিলিট করে দিয়েছি।

সুত্র:নয়া দিগন্ত

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন