রমজানে বেশি খেয়ে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৬, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার
রমজানে বেশি খেয়ে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?

এই রমজানে কিভাবে করোনাভাইরাস ও গ্রীষ্মের তাপদাহের সাথে তাল মিলিয়ে সুস্থ থাকা যায় সে পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

শুরু হয়েছে মুসলিমদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এ বছর রমজান পালিত হচ্ছে বৈশাখের তাপদাহ ও করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই। প্রায় ১৪ ঘণ্টা দীর্ঘ রোজা রাখার পর তাই প্রয়োজন বিশেষ যত্ন, পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাদের থেকে জেনে আসা যাক এই রমজানে কিভাবে করোনাভাইরাস ও গ্রীষ্মের উষ্ণতার সাথে তাল মিলিয়ে সুস্থ থাকা যায়।

পানিই জীবন

সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। আর এবছর গরমও পড়ছে অনেক। তাই শরীর সতেজ রাখতে বেশি করে পানি পান করার বিকল্প নেই। তবে অনেকেই মনে করেন সেহরিতে বেশি করে পানি খেলেই পানির চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে, যা একদমই সঠিক নয়। ইফতার থেকে সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ পর পর পানি খাওয়া উচিত। একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির এ সময়ে কমপক্ষে ১০ গ্লাস বা আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত। তারাবির নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা ঘুমানোর আগ পর্যন্ত একটু একটু করে পানি খেতে পারেন। এ ছাড়া পানি জাতীয় সবজি বা ফল যেমন, টমেটো, শসা, তরমুজ খেলেও পানির চাহিদা পূরণ হবে। ভুলবেন না পানির অপর নাম জীবন।

খাবারে রাখুন মৌসুমি ফল

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল মধুমাস নামে খ্যাত। হরেক রকম ফলের মেলা দেখা যায় পুরো গ্রীষ্মজুড়ে। তাই ইফতার এবং সেহরিতেও রাখতে হবে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লেটের অর্ধেক পরিমাণ জায়গায় যেন ফল আর সবজি থাকে খেয়াল রাখতে হবে। দোকানের কেনা রঙ ও কেমিক্যাল দেওয়া জুস না খেয়ে ইফতারে খেতে পারেন মাল্টা বা কমলার ঘরে বানানো জুস। এছাড়া চিনি ছাড়া লেবুরও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। মনে রাখবেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধেও ভিটামিন-সি অধিক কার্যকরী। 

অধিক ভোজন, অধিক ঝুকি
সারাদিন রোজা রেখে অনেকেই ইফতার কিংবা সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে খাবার গ্রহণে শরীর প্রস্তুত থাকে না। তাই শরীরকে সময় দিয়ে আস্তে আস্তে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। ইফতারে হালকা কিছু খেয়ে কিছুক্ষণের বিরতি নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নেয়া উচিত। রাতের খাবারে শাক, সবজি, মাছ, মাংস, ডাল, লাল চালের ভাত কিংবা রুটি হতে পারে আদর্শ খাবার। এছাড়া সেহরিতে ওটস, লাল চালের ভাত, বাদাম, ডিম ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে পারেন।

এড়িয়ে চলবেন যাদের

ডুবো তেলে ভাজা যেকোনো খাবার রোজা রাখার পর না খাওয়াই ভালো। এসব খাদ্যে “ট্রান্সফ্যাট” নামক ক্ষতিকর ফ্যাট থাকে যার মাত্র ২ শতাংশ হার্টের ২৩ শতাংশ ক্ষতি করতে সক্ষম। চিনির সরবত বা চিনি জাতীয় কোনো জুস বা খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। অনেকেই পানিশূন্যতা দূর করার জন্য বেশি বেশি চা-কফি পান করেন যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও খারাপ। চা-কফি পরিমিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং শরীর থেকে পানি সহজেই বের হয়ে যেয়ে সহায়তা করে।

পরিমিত ঘুম আর ব্যায়ামের বিকল্প নেই

সারাদিনের ক্লান্তি এবং ধকল এক নিমেষেই দূর হয়ে যায় পরিমিত ঘুমের কারণে। ঘুম মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য সর্বাপেক্ষা জরুরি। তাই রাত জেগে কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে শরীরকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম দিন। ব্যায়াম করলেও ঘুম ভালো হয়। যারা মনে করেন রোজা রেখে ব্যায়াম করা যায় না তারা এতদিন ভুল ভেবে আসছেন। ইফতারের আগে আধা ঘণ্টা হেঁটে কিংবা ভোরের দিকে যোগব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সহজেই সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে পারেন।

শারীরিক সুস্থতা সবচেয়ে সব আশীর্বাদ। যার শরীরে সুখ নেই তার মনেও সুখ নেই। মহামারির দিনগুলোতে তাই ঘরে থাকুন আর বেশি করে শরীরের যত্ন নিন।

বিজয়বাংলা/আশরাফ/২৬ এপ্রিল/২১’

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন