চাঞ্চল্যকর খুকু-মুনীর ফাঁসি বনাম আজকের মুনিয়া-আনভীর

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৮, এপ্রিল, ২০২১, বুধবার
<strong>চাঞ্চল্যকর খুকু-মুনীর ফাঁসি বনাম আজকের মুনিয়া-আনভীর</strong>

আব্দুল্লাহ আল ফারুকঃ সেই এরশাদের আমলের ঘটনা। তার মানে আজ থেকে প্রায় ৩২-৩৩ বছর আগের ঘটনা। ঘটনাটি ছিল আমাদের শৈশবের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা।

তখন যাত্রাবাড়ি থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত পুরো অঞ্চলটি ছিল সবুজ শ্যামল গ্রাম। পাকা বাড়িঘরের লেশমাত্র ছিল না। শনির আখড়া ও চিটাগাং রোডের দু’ পাশে ছিল বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত।
যতদূর মনে পড়ে, তখনও রমাযান মাস চলছিল। একদিন ভোরে এলাকার মানুষ ধানক্ষেতের আইলের ধারে একজন সম্ভ্রান্ত মহিলার লাশ দেখতে পায়। মহিলার পরনের স্বর্ণের সকল অলঙ্কার অক্ষত দেখে সবাই বুঝতে পারে, এটা কোনো ডাকাতি নয়; পূর্বপরিকল্পিত খুন। তারপর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

সেই নিহত মহিলার নাম ছিল রীমা। মুনিয়ার মতো তিনিও ছিলেন শহিদ বুদ্ধিজীবির মেয়ে। ওদিকে আজকের মতো সেদিনের খুনীও ছিল প্রভাবশালী পরিবারের শিক্ষিত ছেলে মুনীর। পড়াশোনা করেছে আমেরিকায় উইসকনসিন ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ’র প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ আবুল কাশেম এবং সে সময়ের খ্যাতনামা গাইনি ডাক্তার মেহেরুন্নেসার ছেলে সে।

আমাদের ছোটকালে সেই ঘটনা দেশজুড়ে ভীষণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। পত্রিকার প্রথম পাতায় অনেক দিন টানা সংবাদ শিরোনাম ছিল। আমাদের শৈশবে কোনো হট নিউজ থাকলে বিকেলের দিকে দু’ পাতার নিউজপ্রিন্ট কাগজে বিশেষ বুলেটিন বেরুতো। খুকু-মুনীরের ফাঁসির দিনেও তেমন বুলেটিন বেরিয়েছিল। বাউল শিল্পীরা খুকু-মুনীরের পরকীয়া ও রীমার নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক পালা গানও বের করেছিল।

এত কিছু হওয়ার কারণ হলো, প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে মুনীরের ফাঁসি কার্যকর করা চাট্টিখানি বিষয় ছিল না। লম্বা মামলা-মোকাদ্দমা হয়েছে।
অবশ্য তখনকার সাংবাদিকমহল ছিল আদর্শ ও নীতিবান সংবাদকর্মী। ক্ষমতা ও প্রভাবের বিরুদ্ধে তারা টানা ‍সংগ্রাম করে অবশেষে সেই রীমা হত্যার বিচার বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়।

এখন তো সবাই ধরে নিয়েছে যে, রীমা হত্যাকাণ্ডের জন্যে সেদিন যদিও মুনীরের ফাঁসি হয়েছিল; যদিও তা একজন স্বৈরশাসকের আমলে ঘটেছিল; কিন্তু আজকের মুনিয়ারা কখনই ন্যায়বিচার পাবে না।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন