ইসলামী আন্দোলন চেয়েছিল ইসলামপন্থীদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ঐক্য; হেফাজত চেয়েছিল ভিন্ন কিছু

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩০, এপ্রিল, ২০২১, শুক্রবার
<strong>ইসলামী আন্দোলন চেয়েছিল ইসলামপন্থীদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ঐক্য; হেফাজত চেয়েছিল ভিন্ন কিছু</strong>

গাজী আতাউর রহমানঃ আমার গত পোস্টে কয়েক ভাই প্রশ্ন তুলেছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্য চাইলে হেফাজতে নাই কেন। এমন প্রশ্ন অনেকেরই। বিষয়টি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে বিভিন্নজন নানাভাবে নাজেহাল করার চেষ্টা করেন। আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার করে দেওয়ার।

এর আগে যারা বলেছেন, মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযমকে নিয়ে আমি অসত্য উদ্ধৃতি দিয়েছি; তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে বলবো, আমি কোন অসত্য উদ্ধৃতি দেয়নি। আমার কাছে সংরক্ষিত ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কামিয়াব প্রকাশন লিঃ কর্তৃক প্রকাশিত, মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম লিখিত “বাংলাদেশে ইসলামী ঐক্যপ্রচেষ্টার ইতিহাস” নামক বই -এর দু’টি পৃষ্ঠা থেকে আমি দু’টি উদ্ধৃতি দয়েছি।
কারো সন্দেহ থাকলে বইটির ৩৫ ও ৩৯ নং পৃষ্ঠা দু’টি পড়ে যাচাই করে দেখতে পারেন। বইটির পিডি এফ কপি অনলাইনেও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে পৃষ্ঠা নাম্বার হেরফের হতে পারে।
তবে আমি মরহুম গোলাম আযম সাহেবকে নিয়ে কোন রকম মিথ্যাচার না করলেও, মরহুম গোলাম আযম সাহেব আলোচ্য বইটিতে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় অসত্য তথ্য তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর মনের মতো করে ইতিহাস বয়ান করতে গিয়ে বইটিতে শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী র., হাফিজ্জি হুজুর র. শায়খুল হাদীস আজিজুল হক র. পীর সাহেব চরমোনাই র. মুফতি ফজলুল হক আমনী র. হাটহাজারী ও পটিয়া মাদরাসার শীর্ষস্থানীয় বুজুর্গ আলেমগণসহ দেশের অনেক আলেমের প্রতি নানারকম অশালীন, অসঙ্গত ও অবমাননাকর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
বইটি এতোই একপেশে ও স্ববিরোধিতায় ভরপুর, যা যেকোন সচেতন নিরেক্ষ পাঠকের কাছেই ধরা পড়বে।

আমি বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাইনি। কারণ, তাতে পরিবেশ মোটেও উন্নত হয় না।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর জন্মের ইতিহাস বয়ান করতে গিয়ে যখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই মরহুম গোলাম আযমের ভূমিকা টেনে আনলাম, তখন অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কিছু ভাই আমার প্রতি মিথ্যাচারিতার অভিযোগ আনলেন।
অতএব, এখন অনিচ্ছা সত্যেও আমাকে এ বিষয়ে আরো কিছু লিখতে হবে।
আশা করি পরে কোন সময় মরহুম গোলাম আযম সাহেবের আলোচিত বই এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো, ইনশা আল্লাহ।

যাতে ইসলামী ঐক্যপ্রচেষ্টার একতরফা ইতিহাস পাঠ করে জামায়াত শিবিরেরও যেসব সরল, দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রিয় বন্ধুগণের অন্তরে দেশের বুজুর্গ ওলামায়ে কেরামের প্রতি যে অভিমান, ক্ষোভ এবং ভুল ধারনার তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা হলেও দূর হয়।

এবার আসি হেফাজত প্রসঙ্গে।
হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর, শায়খুল ইসলাম আহমদ শফি র. ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে হাটহাজারী মাদরাসা, হাটহাজারী এলাকার আলেম এবং শায়খুল ইসলামের র. খলীফাগণই ছিলেন। সেই কমিটিতে হযরতের খলিফা হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম সাহেবও ছিলেন।
প্রতিষ্ঠার পর প্রথম তিন বছর হেফাজতের বড় প্রোগ্রাম ছিল, বছরে চট্টগ্রাম শহরে বড় একটি মাহফিল। তিনটি মাহফিলেই প্রধান এবং শেষ বক্তা ছিলেন, মুফতি ফয়জুল করীম সাহেব।
হঠাৎ করে ২০১৩ সালে মরহুম কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে যখন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরী হয় এবং সেই সুযোগে কিছু নাস্তিক ব্লগার রাসূল স. কে নিয়ে নানারকম কটুক্তি প্রকাশ করতে থাকে, এমন একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হেফাজত থেকে নতুন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।

২০১৩ সালের ৯ মার্চ হেফাজত আমীর শাহ আহমদ শফি র. দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে হাটহাজারী মাদরাসায় আহবান করেন। আমীরে হেফাজতের এই ডাকে সর্বমহলে সাড়া পরে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই’র সব প্রোগ্রাম বাতিল করে হুজুরসহ কেন্দ্রীয় একটি বড় প্রতিনিধিদল হাটহাজারীর প্রোগ্রামে যথা সময়ে হাজির হয়।

গাজী আতাউর রহমান
যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন