নিরীহ আলেম-তালাবাদের হয়রানি করবেন না, আল্লামা মাহমুদুল হাসান দা. বা.

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩০, এপ্রিল, ২০২১, শুক্রবার
<strong>নিরীহ আলেম-তালাবাদের হয়রানি করবেন না, আল্লামা মাহমুদুল হাসান দা. বা.</strong>

গুলশান আজাদ মসজিদ থেকে বাংলাদেশের সরকার, ওলামা-তোলাবাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বয়ান দিলেন বেফাক এবং হাইয়াতুল উলয়ার সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান হাফিঃ

চুম্বকাংশঃ “ছাত্ররা-বাবারা! বদনামি করো না, আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবে”?
‘’নিরিহ আলেমদের ছেড়ে দিন, অপরাধীদের বিচার করে ছেড়ে দিন’’

কওমী মাদরাসার ছাত্ররা-বাবারা! পড়াশুনা শেষ করে ভালো আলেম হও, তারপর রাজনীতি করো। কেউ ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ার হয়, ব্যারিস্টার হয়। সবাই আগে পড়াশুনা করে, তারপর প্রাক্টিস করে। তোমরা আগে আলেম হও। জিহাদ কী, কীভাবে করতে হয় শিখো আগে, তারপর মাঠে নামো।

ছাত্ররা-বাবারা! বদনামি করো না। আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবে? আমি যতদিন আছি- আমার বন্ধুবান্ধব নিয়ে (মোকাবেলা করবো) কোনো সরকার ইসলাম শেষ করার চিন্তা করেনি করবেও না। সরকারের ইসলাম বিরোধী কোনো কাজ হলে আমরা প্রতিবাদ করবো। সমালোচনা করবো। কিন্তু কারো পক্ষ হবো না। এমন পক্ষ হবো যাতে মসজিদ, মাদরাসা বন্ধ হয়ে যায়।

এক বছর আগের কথা বলছি। মসজিদে ৫/৬ জন নামাজের কথা বলা হলো। যারা আইন কন্ট্রোল করে তাদের বড় বড় অফিসার আছে, যারা হুজুর হুজুর করে জীবন দিয়ে দেয়। অনেকে আব্বাও ডাকে। বলেছিলাম এই যে আইন করলে মসজিদে কেন? বলে হুজুর পুরো রমজান মাসে কোনো মসজিদে পুলিশ যাবে না। জুমা পড়বেন পুলিশ যাবে না। তারাবীহ পড়বেন পুলিশ যাবে না। এই যে আজকে গতবছরের চেয়ে লোক বেশি নাকি কম? আপনাদের তো তিন ফুট দূরে দূরে বসার কথা ছিলো? এখানে শত শত পুলিশ আছে, ওসি-ডিসিরা আছে কেউ আপনাদের কিছু বলেছে? হ্যাঁ, দু’একটা সমস্যা হয়েছে। একশ জায়গায় তো হয়নি। সেটা তো দেখবেন। প্রশাসনের সবাই কি মুসলিম? অমুসলিম(মুসলিম বিদ্বেষী) আছেনাহ?

কওমী মাদরাসার ছাত্ররা! তোমরা দাওরা পড়ো। জিহাদ বাব আছে। জিহাদ কী, কীভাবে করতে হয় শিখো। কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে জিহাদ নয়। জিহাদের জন্য মারকাজ দরকার, ট্রেনিং দরকার, অস্ত্র দরকার, নেতৃত্ব দরকার। আছে তোমাদের? জিহাদের সামান তৈরি করো। জিহাদের প্রধান সামান মুসলমানদের আল্লাহওয়ালা বানাতে হবে। সারা বিশ্বের মুসলিম দেশের লিডাররা সব তাগুতের দালাল। জিহাদের কেন্দ্র বানাও তারপর জিহাদ করো।

সরকারকে বিনীত অনুরোধ করে বলছি, নিরীহ আলেম-তলাবাদের হয়রানি করবেন না। নিরীহ আলেমদের ছেড়ে দিন। অপরাধীদের বিচার করে ছেড়ে দিন। রমজান মাস কুরআন তেলাওয়াতের মাস। মাদরাসাগুলো বন্ধ। হেফজখানাগুলো বন্ধ। কুরআন তেলাওয়াত বন্ধ হয়ে আছে। খুলে দিন। কুরআন তেলাওয়াত চালু হবে। আমাদেরও লাভ, আপনাদেরও লাভ। আমার তো ধারণা এই রমজান শেষ হওয়ার আগে করো না শেষ হয়ে যাবে। রাগ করে হোক আর যাই হোক মাদরাসাগুলো বন্ধ করেছেন এবার খুলে দিন। কুরআন তেলাওয়াত করতে দিন। আল্লাহ আপনাদের ভালো করবেন। হাফেজদের ছেড়ে দিন। ছোট ছোট ছাত্রদের ছেড়ে দিন। কতগুলো মানুষ মারা গেলো। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় মারা গেলো। দু’জন ছাত্র ছিলো। বাকীরা কারা? ছোট ছোট হাফেজ ছাত্রদের বয়স ১৫ বছর। ৩০/৩৫ বছরের লোক মারা গেলো তারা কারা? তাহলে মাদরাসা কেন বন্ধ থাকবে?

৩০.০৪.২১ ইং, শুক্রবার, যাত্রাবাড়ী মাদরাসা মসজিদে প্রদত্ত জুমার বয়ান।
অনুলিখন, শাহনূর শাহীন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন