এই বয়োবৃদ্ধ মানুষটির নাম আলহাজ্ব আইনুদ্দিন সাহেব

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১, মে, ২০২১, শনিবার
<strong>এই বয়োবৃদ্ধ মানুষটির নাম আলহাজ্ব আইনুদ্দিন সাহেব</strong>

|সাইমুম সাদী|

বৃদ্ধের লম্বা এবং ফর্সা চেহারার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম আমি।

আমার দিকে কিছুটা ঝুকে জিজ্ঞেস করলেন, মাওলানা সাহেব কি দেখছেন?

বললাম, আপনাকে দেখছি। এত সুন্দর নুরানি চেহারা কখনো দেখিনি তাই।

আমার কথা শুনে মৃদু হাসলেন এবং বিড়বিড় করে কি যেনো বলতে লাগলেন।

আমি বললাম, ঠোঁট নেড়ে একা একা কি বলছেন?

বললেন, এই যে নুরানি চেহারার কথা বললেন, আল্লাহ যেনো আপনার এই কথাটা কবুল করেন, মৃত্যুর পর আমাকে ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এজন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম।

আমার চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। বললাম, চাচাজান আল্লাহ আপনাকে দুনিয়াতে প্রচুর সম্পদ ও সম্মান দিয়েছেন এবং আখেরাতেও সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আবারও দুই হাত আকাশের দিকে তুলে বললেন, আমীন।।

আলহাজ্ব আইনুদ্দিন সাহেবের বাংলা মোটরে অবস্থিত বিশাল ব্যবসায়িক অফিসে বসে কথা বলছিলাম। অনেক বড়ো বিজনেস প্রতিষ্ঠান, বড়ো রিসোর্টের মালিক, প্রচুর জায়গা জমি আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। ঢাকার বাহিরে কলাতিয়ায় দশ কাটা দামি জমি মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য দিয়েছেন। এছাড়াও মুফতি সালাহউদ্দীন আইয়ুবী র দুটো মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আমাকে বললেন, যেকোনো সময় মরে যেতে পারি তাই দ্রুত মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য জমি রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে চাই।

আলহামদুলিল্লাহ তিনি সময়মত রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সেখানে একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ হয়। শিশুরা পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে। আইনুদ্দিন চাচা প্রায়ই তার বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে মাদ্রাসার আশেপাশে ঘুরে আসেন। তিনি আলেম না তাই আক্ষেপ কর‍তেন, আলেমদেরকে ইজ্জত করতেন।

একটু আগে জানলাম এই নুরানি চেহারার মানুষটি ইন্তেকাল করেছেন৷ ইন্নালিল্লাজি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুর পর তিনি ওই মাদ্রাসা ও মসজিদের আশেপাশে যেতে পারবেন কিনা জানিনা। কিন্তু দোয়া কর‍তে পারি তারজন্য।

আল্লাহ আমাদের আইনুদ্দিন চাচাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন