নামাজ পড়ার অপরাধে হবিগঞ্জে প্রাণ আরএফএল’র বেস্টবাই শো রুম থেকে চাকুরীচ্যুত হওয়ার অভিযোগ করলেন সেলস এক্সিকিউটিভ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১, মে, ২০২১, শনিবার
নামাজ পড়ার অপরাধে হবিগঞ্জে প্রাণ আরএফএল’র বেস্টবাই শো রুম থেকে চাকুরীচ্যুত হওয়ার  অভিযোগ করলেন সেলস এক্সিকিউটিভ

স্টাফ রিপোর্টার,হবিগঞ্জ ব্যুরোঃ শুক্রবার জুমার নামাজে যাওয়ার অপরাধে হবিগঞ্জ শহরের প্রাণ আরএফএল কোম্পানির বেস্ট বাই শো রুমের একজন সেলস এক্সিকিউটিভকে চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে৷ চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর ওই সেলস এক্সিকিউটিভ ফেসবুুুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে৷ এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা।

জানা যায়, ৩০ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে এবিষয়টি ঘটে।
পাঠকদের সুবিদার্থে পোষ্ট টি হুবহু তুলে ধরা হলো।

” আমি মারুফ খান, আরএফএল বেস্ট বাই, হবিগঞ্জ সদর শোরুমের একজন সেলস্ এক্সিকিউটিভ।

আমি একজন মুসলমান! নামাজ আদায় করা আমাদের ইসলাম ধর্মে প্রত্যেকের জন্য ফরয। আর সেই ফরয নামাজ (পবিত্র জুম্মার নামাজ) পড়তে যাবার অপরাধে আজ আমাকে শোরুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
আজান পরার পর আরএফএল বেস্ট বাই শোরুম, আমাদের হবিগঞ্জ সদরের শোরুম ম্যানেজারকে ফোন দেই কিন্তু উনি ফোন না ধরে কেটে দেন। উনি ফোন ধরবেন কিভাবে উনি তো প্রতিদিনের ন্যায় কাজ ছেড়ে বাহিরে গিয়ে আরাম করছিলেন। উনি ফোন না ধরাতে আমি কাপড় বদলিয়ে আমরা ৩জন শোরুম বন্ধ করে মসজিদে চলে যাই। ঠিক ঐ মূহুর্তে ম্যানেজার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন যে, আমি কার অনুমতি নিয়ে শোরুম বন্ধ করছি, সে আমাকে বলে যে আমি চাকরি করতে চাই না নামাজ পড়তে চাই?

আমি তখন বললাম স্যার চাকরি করি বলে কি আমাকে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে?
উনি আমাকে ঐ কথা শুনে হুমকি দেন যে আমাকে ঘাড় ধরে শোরুম থেকে বের করে দিবেন এবং আমাকে চাকরি থেকেও বের করে দিবেন।

ঐ মূহুর্তে আমি নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে চলে আসি এবং আইসা শোরুম খুলি।
তখন ম্যানেজার আইসা আমাকে শোরুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমি কিছু বুঝে উঠতে না পেরে কি করবো না করবো কোনো কিছু না ভেবে চলে আসি।

শুধুমাত্র মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুম্মার নামাজ পড়ার অপরাধে আমাকে কাজ ও শোরুম থেকে বের করে দেয়া হলো।

চাকরি করি তাই বলে কি আমি আমার ধর্ম ও নামাজ আদায় করতে পারবোনা।
নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি এটাই কি আমার অপরাধ?

নামাজ পড়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে আর সেই অপরাধে যদি চাকুরিচ্যুত হতে হয় তাহলে আমি আমার আল্লাহ ও রাসুলের বিধান পালন করতে গিয়ে সেই চাকরি করবোনা।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেস্ট বাইয়ের ম্যানেজার জাকির হোসেনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে বেস্ট বাইয়ের এরিয়া ম্যানেজার মাইনুল হাবিব জানান, আর এফ এল বেস্ট বাই কখনো নামাজের জন্য কাউকে চাকরিচ্যুত করেনা। আমরা এ বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখেছি, পুরো ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। অভিযুক্ত মারুফ খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আগামীকাল শনিবার আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।

  1. বিজয় বাংলা/১ মে/২১
শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন