এখনও জ্বলছে একটি প্রদীপ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৫, মে, ২০২১, শনিবার
<strong>এখনও জ্বলছে একটি প্রদীপ</strong>

স্টাফ রিপোর্টার : শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রহ. সম্পর্কে আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না। অনেক জায়গায় আমি শায়খুল ইসলামের গল্প করি। অনেকেই তার সম্পর্কে জানতে চান। আমি তখন বলি, আপনি তার ইলমের পরিধি সম্পর্কে সামান্য ধারণা পেতে হলে তার লিখিত “ফাতহুল কারিম ফি সিয়াসাতিন নাবিয়্যিল আমিন” বইটি পড়ে দেখুন। তার মুতালায়ার বিস্তৃত পরিধি দেখে আপনার চোখ আকাশে উঠতে বাধ্য। “আল ফুরকান” এর পাতায় চোখ বুঝলে মনে হবে হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলি থানভি রহ. এর কলমের কালি ঝরেছে বায়মপুরির কলম দিয়ে।

শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানি রহ. জীবন সায়াহেৃ। তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনার পরে কে হবে দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস? উত্তর প্রদান করতে তিনি একটুও সময় নিলেন না! বললেন, সিলেটের মুশাহিদকে নিয়ে এসে দারুল উলূমের শায়খুল হাদিস বানিয়ে দাও। বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন ‘হাফিজুল হাদিস’। তাকে নিয়ে অনেক কথা লেখার আছে। তার জীবনী নিয়ে থিসিস করা প্রয়োজন। জানি না কাকে আল্লাহ এ গুরুত্বপূর্ণ কাজের তাওফিক প্রদান করবেন।

সিলেট বিভাগের কোষে কোষে এখনও শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রহ. এর ইলমের ঝলক বিদ্যমান। ব্যক্তি গঠনে তিনি ছিলেন অনন্য। শত শত শায়খুল হাদিস তার হাতে গড়া ছাত্র। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের দুই বছর পূর্বে শায়খুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। ছোটবেলা থেকে আব্বুর মুখে শুনতাম বায়মপুরির নাম। এমন কোনো মাহফিল ছিল না, যে মাহফিলে বায়মপুরির নাম উচ্চারিত হত না। শায়খুল ইসলামের বিশেষ সান্নিধ্যপ্রাপ্ত শিষ্য হলেন আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইদরিস শায়খে লক্ষিপুরি দা. বা.। এমন নুরানি চেহারার কোনো মানুষ আমি জীবনে দেখি নি। মনে হয় তার চেহারা থেকে আলোর ফোয়ারা প্রবাহিত হচ্ছে। এক নাগাড়ে তাকিয়ে থাকতে মন চায়।

কোনোভাবে অন্তর পরিতৃপ্ত হয় না। জীবনের প্রত্যেকটি কাজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহের অনুসরণ করেন খুব গুরুত্বের সাথে। জীবন ধারণ খুব সাদাসিদে। অর্থ এবং সম্পদের প্রাচুর্য নেই। অথচ তিনি চাইলে বৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হতে পারতেন। ভিটে ছাড়া কোন জায়গা নেই৷ কোন ব্যাংক ব্যলেন্সও নেই৷

পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন শায়খুল ইসলামের হাতেগড়া দারুল উলূমে। জীবন ধারণে কোনো লৌকিকতা নেই। মাদরাসায় খুব সাদাসিদে একটি রুমে থাকেন। নিচে চাটাই বিছানো। যে কোনো সময় তার সাথে দেখা করতে পারবেন। খাদেমের ঝামেলা পোহাতে হয় না। বসে বসে নির্বিরাম তাসবিহ পড়ছেন। কেউ গেলে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনেন। সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন আমলের কথা বলে দেন।

আসরের পর বাজারের মসজিদের বারান্দায় একটি চৌকিতে বসে তাসবিহ পড়তে থাকেন। কত বড় বড় মানুষ এসে পায়ের নিচে বসে থাকে। এক শুক্রবার আমিও বসেছিলাম।

ছোটবেলায় অনেক আকাবিরকে দেখেছি। সকলেই চলে গেছেন নশ্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। যে এক দুজন এখনো আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, তাদের মাঝে অন্যতম হলেন আল্লামা লক্ষিপুরি দা.বা.। তিনিও এখন জীবন সায়াহেৃ। বার্ধক্য এবং অসুস্থতায় অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। রমজানের শেষ দিকে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন৷

আজ হজরতকে দেখতে কিছু সময়ের জন্য তার বাড়িতে গিয়েছিলাম৷ হজরতের স্নেহভাজন খাদেম বদরুল ভাইয়ের কল্যাণে কিছু সময় হুজুরের সান্নিধ্যে কাটানোর তাওফিক হলো৷ হজরত প্রাণভরে দোয়া করে দিয়েছেন৷

পুরো বাংলাদেশ যে কয়েকটি প্রদীপের আলোয় এখনও আলোকিত, তাদের মাঝে অন্যতম হলেন তিনি। দোয়া করি আল্লাহ তাকে সুস্থতার সাথে দীর্ঘ জীবন দান করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন