একটি বই পরিচিতি, ‘হাজারায়ে সোওম কি কিয়ামাতে সোগরা’

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, মে, ২০২১, বুধবার
<strong>একটি বই পরিচিতি, ‘হাজারায়ে সোওম কি কিয়ামাতে সোগরা’</strong>

সাঈদ আহমাদ খান নদভিঃ তাওরাত, ইঞ্জিলের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী ইহুদি- খৃস্টানদের ধারণা হলো, “পাঁচশো বছরের মাথায় তাদের কোনো মহান নেতার আবির্ভাব হবে৷ এবং তাদের খৃস্টবাদ ও ইহুদিবাদের বিশাল বিপ্লব ঘটবে৷” তাই তো ইতিহাস বলে, প্রতি পাঁচশো বছরের মাথায় তারা নিজেদের ধারণা বাস্তবের রূপ দিতে উপদ্রব শুরু করে৷ ক্রুসেড যুদ্ধসহ অগণিত প্রমাণ রয়েছে৷

চলতি শতাব্দীর শুরুটা ছিলো তাদের সেই আরেকটি পাঁচশো বছরের শেষ প্রান্ত৷ তাদের বিশ্বাস এটাই তাদের শেষ অপেক্ষা৷ অপেক্ষার পালা এবার শেষ হবেই৷ বিশ্বব্যাপী ইহুদি- খৃস্টান রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবেই৷ তাদের প্রতীক্ষিত মহান নেতার আবির্ভাব হবেই এবার৷ তাই তো সর্ব শক্তি দিয়ে এবার তারা মাঠে নেমেছে৷ বাইতুল মুকাদ্দাসকে তাদের নেতার মারকাজ বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে৷ এমনকি সকলে মিলে বাইতুল মুকাদ্দাসকে ওদের রাজধানী ঘোষণা করেছে৷ বাইতুল মুকাদ্দাসকে ধ্বসানোর জন্য ১৯৯৫ সাল থেকেই মসজিদের নীচে অসংখ্য গর্ত খুঁড়েছে৷ যাতে মসজিদ নিজে নিজেই ধ্বসে পড়ে৷ এবং হাইকালে সুলাইমানির রাস্তা পরিষ্কার হয়৷

বিশ্লেষকদের মতে, বাইতুল মুকাদ্দাসের নিচে অলরেডি হাইকালে সুলাইমানি তৈরি হয়ে গেছে৷ এখন শুধু মসজিদ ধ্বংসের পালা!

ইহুদিদের ধারণা, তাওরাতে বর্ণিত গুণাবলী সম্বলিত একটি লাল বাছুর জন্মালেই তাদের প্রতীক্ষিত মাসিহ চলে আসবে৷ সে ধারণা বাস্তবায়নে হাজার বছর ধরে তারা চেষ্টা করে আসছে৷ (বহু প্রচেষ্টার পর গেলো বছর তাদের সেই বাছুর জন্মেছে!)

নিজেদের প্লান সম্পন্ন করতে সমস্ত আরব মুসলিম শাসকরা তাদের প্রথম টার্গেটে ছিলো৷ আরবের বাদশাহদেরকে হাত করে তারা তাদের অর্ধেক স্বপ্ন পুরা করতে পেরেছে৷ এখন শুধু প্রতীক্ষিত মাসিহর আগমন ঘটলেই বাকিটা পূর্ণ হবে বলে তাদের ধারণা৷

কিন্তু আমরা মুসলিমদের ঈমান আল্লাহর প্রতি৷ আমাদের বিশ্বাস, বিজয় আমাদেরই হবে৷ আমাদের ঈমান বলে, ওদের ধারণা আজীবন ধারণাই থাকবে৷ ওদের বিজয়ের স্বপ্ন পূর্ণ হবে না কোনো দিন ইনশা আল্লাহ!

এ সকল বর্ণনার সুবিস্তারিত আলোচনা পাবেন “হাজারায়ে সোওম কি কিয়ামাতে সোগরা”- তে৷ মূল লেখক শায়খ আব্দুল আজিজ মুস্তফা কামেল বইটি আরবিতে লিখেছেন৷ উর্দুতে অনুবাদ করেছেন উস্তাদে মোহতারাম আল্লামা সালমান হুসাইনি নদভি৷ বাঙলাতেও অনুবাদ হয়েছে৷ অনুবাদ করেছেন মুসা আল হাফিজ৷ আপনার সুবিধা মতো যে কোনো ভাষায় বইটি কিনে এসব ষড়যন্ত্র জেনে অবশ্যই নিজের ঈমানকে পোক্ত করুন!

লেখক অত্যন্ত আবেগ দিয়ে মুসলিমদের দূরাবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন৷ পড়ার সময় কখনো বা আপনার হৃদয়েও রক্তক্ষরণ বয়ে যাবে৷ কখনো বা জোশে আপনার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাবে৷ লেখক অত্যন্ত আফসোস করে লিখেছেন, “একটি বাস্তবতা হলো, আমরা মুসলিমগণ হাত গুটিয়ে সব কিছু আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে বিজয়ের বিশ্বাস করি ঠিক, কিন্তু ধীরে ধীরে ইহুদিরা বিশ্বব্যাপী তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে একের পর এক তাদের প্লানগুলোকে বাস্তবতার রূপ দিয়েই চলছে৷ আফসোস, ওরা কাজ করার একশো বছর পূর্বে প্লান করে৷ এবং প্লানকে পূর্ণ করে ছাড়ে৷ আর আমরা মুসলিমরা কাজের একশো বছর পর গিয়ে চিন্তা করি কী করা যায়! এটাই আমাদের ও তাদের মধ্যকার পার্থক্য৷ এটাই আমাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ৷”

এতসব নিরাশার পরেও আমাদের বিশ্বাস, একদিন বিজয়ের পতাকা উড্ডীন হবেই৷ তবে, বিজয়ের জন্য শর্ত হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা৷ প্লান ও একতার সুন্নতকে নতুন করে জিন্দা করা!

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 20
    Shares