কা’বার ইমামের উপর হামলাকারী ব্যক্তিটি ছিলো ইমাম মাহদি দাবীদার

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৪, মে, ২০২১, সোমবার
<strong>কা’বার ইমামের উপর হামলাকারী ব্যক্তিটি ছিলো ইমাম মাহদি দাবীদার</strong>

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান কা’বার ইমামের দিকে তেড়ে যাওয়া ব্যক্তিটি ছিলেন কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদির দাবীদার!

গত শুক্রবার (২১ মে) জুমার খুতবারত পবিত্র কা’বার অন্যতম ইমাম শেখ বানদার বালীলাহকে আক্রমণের জন্য মিম্বারের দিকে ইহরাম পরিহিত ব্যক্তিটি লাঠি হাতে তেড়ে গেলে তাকে তৎক্ষনাৎ জাপটে ধরে মাটিতে শুইয়ে দেন সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মাদ আল জাহরানী।

মক্কার পুলিশ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাহরানীর প্রতিরোধের পর ইমামকে হামলার চেষ্টা করা ব্যক্তিটিকে অন্যান্য নিরাপত্তা রক্ষীরা মসজিদুল হারাম থেকে বের করে দেয় এবং পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত হামলার অভিযোগে নিজেদের কাছে আটক রাখে।

পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, হামলার চেষ্টা করা ব্যক্তিটি নিজেকে কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদি বলে দাবী করছিলেন এবং তিনি ৪০ বছর বয়সী একজন সৌদি নাগরিক।

কা’বার অন্যতম ইমামের উপর মিথ্যা মাহদির দাবীদারের আক্রমণ থামিয়ে দেওয়ার প্রশংসা স্বরূপ সকলেই সিকিউরিটি অফিসার জাহরানীকে বীর বলে সম্বোধন করছে।

মূলত গত শুক্রবার হারাম শরীফের জুমার নামাজের লাইভ টেলিকাস্টে দেখা যায় পবিত্র কা’বা শরীফে জুমার খুতবা চলাকালীন ইহরাম পরিহিত এক ব্যাক্তি লাঠি হাতে খুতবারত ইমামকে আক্রমণের জন্য মিম্বারের দিকে তেড়ে যাচ্ছে, যা হত্যাচেষ্টা হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

নিজের উপর হামলার চেষ্টা হলেও শেখ বালীলাহ জুমার খুতবা দেওয়া অব্যাহত রেখেছিলেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, পবিত্র কা’বায় এখন পর্যন্ত বহু সংখ্যক লোক নিজেদের ইমাম মাহদি বলে দাবী করে এসেছে এবং তা নিয়ে ছোট-বড় ভয়ংকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিলো।

পবিত্র কা’বায় এমনই এক ঘটনায় সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো ১৯৭৯ সালে।

তৎকালীন সৌদির প্রভাবশালী নাজদ গোত্রের সদস্য জুহাইমান আল ওতাইবি তার শ্যালক মুহাম্মাদ আল কাহতানিকে কাঙ্ক্ষিত ইমাম মাহদি দাবী করে তার সশস্ত্র দল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ যাবত মসজিদুল হারাম অবরোধ করে রেখেছিলো।

অবশ্য সেদিন পহেলা মুহাররম ফজরের নামাজের পরপর জুহাইমান তার শ্যালককে ইমাম মাহদি রূপে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সকলকে তার বাইআত গ্রহণ করতে বলার পর মিথ্যা মাহদি নিজেও নিজেকে মাহদি দাবী করে বাইআত চাইলে ব্যাপারটি যে হাদিসের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক তা বুঝতে পেরে যান ফজরের নামাজের ইমামতি করা কা’বার ইমাম শেখ সুবাইল।

সুযোগ বুঝে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে গিয়ে শেখ আব্দুল্লাহ বিন বা’যসহ বড় বড় শায়েখদের মূল ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন তিনি।

কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী প্রচেষ্টায় তৎকালীন সৌদি প্রশাসন বিদেশী সেনাদের সহায়তায় শেষমেশ এই বিভ্রান্তিকর ও ভয়ংকর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মসজিদুল হারাম ও নিরীহ মুসল্লিদের উদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলো।

আরবি ১৪০০ হিজরীর পহেলা মুহাররম থেকে শুরু হওয়া সেই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিলো ২৫৫ জন আর আহত ৫৬০জন।

তথাকথিত ইমাম মাহদি মুহাম্মাদ আল কাহতানি সেই ঘটনায় নিহত হয় এবং জুহাইমানসহ তার ৬৭ অনুসারীদের গ্রেফতার করে পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিলো।

মৃত্যুদণ্ডের আগে জুহাইমানকে সে কেনো একাজ করলো জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলেছিল, একটি ভবিষ্যদ্বাণী ফলাতে পারলে বাকিগুলোও আপনাআপনি ঘটতে শুরু করবে ভেবে সে একাজ করেছিলো! সূত্রঃ আওয়ার ইসলাম

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন